২১ অগাস্ট মামলা: অধিকতর তদন্তে ‘মূল রহস্য বেরিয়েছে’

অনলাইন ডেস্কঃ
একুশে অগাস্ট মামলায় অধিকতর তদন্তে তারেক রহমানকে আসামি করা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলে আসছে বিএনপি, তার জবাব এল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কথায়।

শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টার আলোচিত মামলাটিতে সোমবার যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন, “অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এ মামলায় মূল রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এতে ঘটনার পরিকল্পনাকারীরা সম্পৃক্ত হয়েছেন।”

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকার সময় ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন অন্তত ২৪ জন, আহত হন কয়েকশ।

জোট সরকার আমলে এই মামলার তদন্তে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার নজির পরে তদন্তে উঠে আসে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এই মামলার অভিযোগপত্রে জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তে আসামির তালিকায় যোগ হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জন।

বিএনপি দাবি করে আসছে, অধিকতর তদন্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেককে মামলাটিতে জড়ানো হয়েছে।

কাজল শুনানিতে বলেন, “দেশ তখন পরিচালিত হচ্ছিল হাওয়া ভবন থেকে। হাওয়া ভবনের নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান। তিনি যেভাবে চালাতেন, সেভাবে কাজ হত।

“তারেক রহমান পাওয়ারে থাকায় ওই কুটিল চক্র তার কাছে যায়। আর ওসব ব্যক্তির (জঙ্গি) সঙ্গে তারেক রহমানের সুসম্পর্ক থাকায় তারা সম্মিলিতভাবে ক্ষমতার থাকার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সুবিধা দিয়ে ওই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।”

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বলেন, “আসামিপক্ষ উচ্চতর আদালতের যে পাঁচটি সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে বলেছেন, ফারদার ইনভেস্টিগেশন সঠিক হয়নি, সেসব সিদ্ধান্তের একটির সঙ্গেও আমাদের এ দুটো মামলার মিল নেই। তদন্ত দুর্বল থাকায় এ মামলায় ফারদার ইনভেস্টিগেশন চাওয়া হয়েছিল। পাবলিক প্রসিকিউটরের ক্ষমতা ও বিচারকের ক্ষমতাবলে আপনি (বিচারক) তা ফারদার ইনভেস্টিগেশনে পাঠিয়েছেন। আর প্রসিকিউশন উচ্চ আদালতের যে চারটি সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে প্রমাণ করে যে, এ দুটো মামলায় ফারদার ইনভেস্টিগেশন সঠিক ছিল।

“ফৌজদারি মামলায় যে কোনো সময় তথ্য উদঘাটন হতে পারে। মামলার কাগজপত্রে যদি আপনি (বিচারক) দেখেন যে, মূল আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হয়নি, তাহলে স্বপ্রণোদিত হয়ে আপনি (বিচারক) ওই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করতে পারবেন।”

গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলার শুনানি চলছে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ এজলাসে, শুনানি নিচ্ছেন বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন। মামলা দুটিতে রাষ্ট্রপক্ষে ৪৯১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

গত সপ্তাহে কাজল দুই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু করে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো আইনি বিষয় নিয়ে শুনানি করলেন। মঙ্গলবার আরও শুনানির সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

এ নিয়ে মামলায় ১১৬তম দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হল। এর মধ্যে আসামিপক্ষ ৯০ কার্যদিবস ও রাষ্ট্রপক্ষ ২৬ কার্যদিবস ব্যয় করেছে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ