‘মা’ তোমার দেওয়া গীটার আমি আজও ছাড়িনি

সুপ্রতীম বড়ুয়াঃ
আজ থেকে ৪২ বছর আগে আমার মা আমাকে একটা গীটার কিনে দিয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালের এর দিকে। মা বলতেন পড়ালেখার পাশাপাশি সৃজনশীল চর্চাও করতে হয় তাহলে একজন মানুষ পরিপূর্ণতা পায়।সেই থেকে আজ পর্যন্ত হাওয়াইন গীটারকে নিজের সন্তানের মত আঁকড়ে ধরে আছি। একদিনের জন্যও তাকে ছাড়তে পারিনি। আমার মা এর সেই আশীর্বাদ নিয়ে যতটুকু পারি বাজিয়ে যাচ্ছি।

১৯৮০ সালের দিকে খ্যাতিমান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডা. কামাল খানের বাসায় আমার প্রথম গীটার বাজানোর সুযোগ হয়। তিনি বেঁচে নেই জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে বলেছিলেন তুমি তোমার সাধনা বন্ধ করোনা। হয়তো তাঁরও আশীর্বাদে আমার প্রাণের বাদ্যযন্ত্র হাওয়াইন গীটার চর্চাটা এখন চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আসলে শেখার শেষ নেই এখনও আমি শিখছি। ৪২ বছর ধরে আমি এখনও শিখছি। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখা চলাকালীন অবস্থায় অনেক মঞ্চে বাজিয়েছি।

কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ঢাকাতে জাতীয় পর্যায়ের যন্ত্র সংগীত উৎসবে বাজিয়ে আসলাম। যেটা আমার শিল্পত্ব জীবনের বড় পাওনা ছিল। কিন্তু একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম শিল্পের মাধ্যমটাতে তৃপ্তি মিলেনা, মনে হয় এখনও কিছুই জানিনা অনেক কিছু শেখার আছে ।

মনে হয় শিল্পের জগৎটাতে আমি এখনওও একজন ছাত্র। গীটারের মাধ্যমে অনেক গানের সুর তুলি কিন্তু অতৃপ্তি থেকে যায়। আরও ভাল করে বাজাতে পারতাম? আমার বন্ধুরা অনেক ভাল বাজায় তাদের মত বাজাতে পারতাম? প্রশ্ন জাগে।যেন অতৃপ্তি। তারপরও বলি মা তোমার দেওয়া গীটার আমি ছাড়িনি।