কোরআন ছুঁয়ে কি কসম করা যাবে?

আমিন মুনশি :
আমরা অনেক সময় নিজেদের কথা বা কাজের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য কসম করে থাকি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মর্যাদাবান জিনিস নিয়ে কসম খাই। কারো নামে কসম করার অর্থ তাকে সম্মান দেওয়া ও তার সত্তাকে পবিত্র জ্ঞান করা। এ জাতীয় সম্মানের হকদার একমাত্র আল্লাহ তায়ালা।

অথচ যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কোনো সত্তা বা বস্তুর নামে কসম বা শপথ করে সে মূলত আল্লাহর সম্মান ও অধিকারে ওই সত্তাকে শরিক ও অংশীদার করল। এজন্য এটা শিরক হবে। তাছাড়া আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করা কবিরা গুনাহ, তবে তা শিরক নয়।

শিরক কবিরা গুনাহ থেকেও বড়, চাই সেটা ছোট শিরক হোক। কেউ যদি পীর অথবা অন্য কোন বুযুর্গের নামে কসম করল, সে পীর অথবা ওই ব্যক্তিকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করল; কেউ যদি নবি-অলি-বুজর্গের নামে কসম করে সে তাদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করল। যা কুফরী, হারাম।

অনুরূপভাবে আল্লাহ ও তার গুণাগুণ ব্যতীত কোনো বস্তুর নামে যে কসম করল, সে আল্লাহর অধিকার তথা বিশেষ সম্মানে ঐ বস্তুকে শরিক করল। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করল সে কুফরি করল,অথবা শিরক করল”। ( তিরমিযি: (১৫৩৫, আবু দাউদ: ৩২৫১)

ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: “আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে সত্য কসম অপেক্ষা আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করব, এটা আমার নিকট অধিক প্রিয়”। (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক: (১৫৯২৯)

ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:“তোমরা তোমাদের পিতাদের নামে কসম কর না। যে আল্লাহর নামে কসমকরে তার উচিত সত্য বলা, আর যার জন্যআল্লাহর নামে কসম করা হল তার উচিত সন্তুষ্টি প্রকাশ করা, আর যে আল্লাহর নামে সন্তুষ্টি প্রকাশ করল না, তারসাথে আল্লাহর সম্পর্ক নেই”। (ইবনে মাজাহ: ২১০১)

সূত্রঃ আমাদের অর্থনীতি