সাংবাদিক সুবর্ণা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১, মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্কঃ
নারী সাংবাদিক সুবর্ণা নদীর হত্যার ঘটনায় আজ বুধবার মামলা হয়েছে। মা মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে ওই হত্যা মামলা করেছেন। বুধবার দুপুরে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি ইড্রাল ফুড লিমিটেডের মালিক শিল্পপতি আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, মামলা দায়েরের পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের শিমলা হাসপাতালের নিজ অফিসকক্ষ থেকে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের ধরতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।

সুবর্ণা নদীকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দাবিতে দুপুরে পাবনায় মানববন্ধন করেন গণমাধ্যমের কর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের প্রেসক্লাব মোড়ে গণমাধ্যমের কর্মীরা সমবেত হন। একপর্যায়ে তাঁরা হাতে হাত ধরে দীর্ঘ মানববন্ধন করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে সাংবাদিক সুবর্ণ নদী হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দাবি করে বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি শিবজিত নাগ, সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম, সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম, জেলা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আবদুল মতীন খান, সাংবাদিক এ বি এম ফজলুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদী হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

শিবজিত নাগ বলেন, ‘দেশব্যাপী সাংবাদিকেরা অনিরাপদ হয়ে পড়ছেন। ছোটখাটো কারণে সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। এটা বরদাশত করার মতো নয়। আমরা সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পাবনায় বারবার সাংবাদিকেরা নির্যাতনের শিকার হলেও সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। ফলে আবারও একই ঘটনা ঘটছে। তাই সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যা বন্ধে আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করি।’

সাংবাদিক সুবর্ণা নদী বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা জেলা প্রতিনিধি পদে কর্মরত ছিলেন। শহরের রাধানগর মহল্লায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বাড়ির ফটকে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে তিন থেকে চারজনের একদল দুর্বৃত্ত সেখানে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।