মহেশখালীতে এখনো অরক্ষিত বেড়িবাঁধঃ চলছে জোয়ার ভাটার আতংক

নিজস্ব প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী ও ধলঘাট ইউনিয়নে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১৭ কিলোমিটার ভাঙ্গা। স্থায়ী বেড়িবাঁধ আছে মাত্র ৩ কিলোমিটার। একই সঙ্গে সাগরের আগ্রাসনের কবলে মাতারবাড়ী-ধলঘাট বিলীন হতে চলেছে।

টানা ২ যুগ ভোগান্তির কারণে এ দুই ইউনিয়নের মানুষ মনে করছেন তারা অভিশপ্ত মানুষ। তাদের কোন অভিভাবক নেই। তাদের অনেকেই প্রশ্ন করেন তারা বাংলাদেশের নাগরিক কিনা ? ফলে এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত আতংকে কাটে এখানকার মানুষের দিন। বর্ষা আসলে মনে ভর করে মুত্যুর ঝুঁকি। তবুও এখানকার মানুষ গুলো বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে বসবাস করে।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই দুই ইউনিয়নে এবং হাজার হাজার মানুষের মুত্যু হয়। মাটির সঙ্গে মিশে যায় ঘরবাড়ি।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৭০ নং পোলন্ডারের অধিকাংশ ভাঙ্গা ও রাজঘাটের দক্ষিণে প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা অংশ এখনো বন্ধ করা না হওয়ায় ঢুকছে জোয়ারের পানি। ধলঘাট ইউনিয়নের অবস্থা আরও খারাফ। সাপমারার ডেইল, সরইতলা দক্ষিণে ভারত ঘোনা এলাকার প্রায় ১৪/১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা। বলতে গেলে নিয়তির সাথে যুদ্ধে চলছে মাতারবাড়ী-ধলঘাটের লক্ষ মানুষের।

এ দ্বীপে সরকারের মেগা ৩ প্রকল্পের স্থাপন করার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের স্বপ্ন দেখা এই মানুষ গুলো এখন ঘুমের ঘোরে লাফিয়ে উঠে জোয়ারের পানিতে বসত বাড়ি ডুবে যাওয়ার আতংকে।

মাতারবাড়ীর ছাত্রলীগ নেতা কাইসারুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা সানিক ও স্থানীয় লোকজন আমাদের রামু ডটকমকে জানান, বর্ষার আগে বাঁধ সংস্কার না হলে মাতারবাড়ী ও ধলঘাট ডজনের অধিক গ্রামে লোকলয়ে জোয়ার-ভাটা চলবে।

ধলঘাট সুতুরিয়ার বাসিন্দ্রা মিজবাউল হক বলেন, বাঁধ নিমার্ণ না হওয়ায় আতংকে কাটছে হাজার হাজার মানুষের দিন। দুর্যোগের কবল থেকে দ্বীপের মানুষকে রক্ষা করতে হলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নিমার্ণ করা প্রয়োজন। প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে এই এলাকায় হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এরপর চারপাশে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোন লক্ষণ দেখছিনা।

জানা গেছে, সম্প্রতি গত জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে মাতারবাড়ীর হাজার হাজার মানুষের কষ্টার্জিত কোটি টাকার উৎপাদিত লবণ ও পাকা ধান। বলতে গেলে নিয়তির সাথে যুদ্ধে করে চলছে মাতারবাড়ীর লক্ষ মানুষের জীবন। অরক্ষিত বেড়িবাঁধ, অনায়সে ঢুকে পড়ে জোয়ারের পানি। সাধারণ মানুষের মাঝে কাজ করে জোয়ার-ভাটার আতংক।

মাতারবাড়ীর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ও গৃহপালিত গবাধি পশু মারা যায়। এর পর ও চারপাশে টেকসই বেড়িবাঁধ নিমার্ণ করা হয়নি।

তিনি আরোও বলেন, দ্বীপের কেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন, কক্সবাজারের নিবার্হী প্রকৌশলী ও মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবর এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে লিখিত আবেদন করেও কোনে কাজ হচ্ছে না।

মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো: আবুল কালাম আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজারের নিবার্হী প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্ধ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছেন।