খুটাখালী জবর দখল চলছে সামাজিক বনায়নঃ রাতারাতি কোটিপতি হচ্ছে ভূমিদস্যূরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের অধীনে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে বনবিভাগের বরাদ্দ দেওয়া সামাজিক বনায়ন জবরদখলে মেতে উঠেছে প্রভাবশালী ভূমিদস্যূ চক্র। চক্রটি রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে একের পর এক চালাচ্ছে জবরদখল কাজ ।

অভিযোগ উঠেছে, ভূমিদস্যূরা প্রতিনিয়ত জবরদখল কাজ চালিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে বনবিভাগের লোকজন নীরব ভূমিকায় অবতীর্ণ।

জানা গেছে, বিগত ২০০৪ ও ২০০৫ অর্থ বছরে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ফুলছড়ি বনবিটের অধীনে বনবিভাগের ২৫ হেক্টর বনভূমি ২৫ ভূমিহীন ব্যক্তিকে উপকারভোগি হিসেবে নির্বাচন করে বনবিভাগ অংশীদারিত্ব বনায়ন করার সুযোগ দেয়। বর্তমানে বরাদ্দ দেওয়া বাগানগুলোর রকমারি গাছ বড় হয়ে কর্তনযোগ্য হওয়ায় স্থানীয় একটি চিহ্নিত ভূমিদস্যূ চক্রের লুলোভ দুষ্টি পড়ে এসব বাগানে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব ভূমিদস্যূ রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে শুরু করে বনভূমি জবরদখল ও বননিধন। এর মধ্যে সামাজিক বনায়ন জবরদখল কাজ তাদের জন্য অন্যতম হয়ে দাড়িয়েছে।

জবরদখলের পর এসব বাগানে রাতারাতি তৈরি করা হচ্ছে বসতি। বিক্রি করা হচ্ছে উচ্চ দামে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সামাজিক বনায়ন জবরদখল করে বিক্রি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছে অনেক নব্য আওয়ামীলীগ। কেউ প্রতিবাদ করলে করা হয় নানাভাবে হয়রানী।

অংশীদারিত্ব বনায়নের উপকারভোগি মোবারক আলী বলেন, ২০০৪ ও ২০০৫ সালে বনবিভাগ কর্তৃক উপকারভোগি হিসেবে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতি হেক্টর জায়গায় সৃজন করা হয় রকমারি গাছ। কিন্তু স্থানীয় চিহ্নিত দস্যূ সিন্ডিকেটটি একে একে গাছ কেটে সাবাড় করে সব বাগান।

বর্তমানে এসব বাগানে গাছ নেই, গাছ না থাকায় এখন শুরু করেছে জমি দখল করে বেচাকেনা। মোবারক আলী আরও জানান, জবরদখলকৃত জায়গায় স্থপানা তৈরি করার পর অন্যত্রে বিক্রি করে দিচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে ১০টি বাগান জবর দখলপূর্বক বিক্রি করে ১০ কোটি টাকার বেশি দামে। এভাবে ভূমিদস্যূরা সামাজিক বনায়নের জমি বিক্রি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনছে বলে জানা গেছে।

একইভাবে স্থানীয় আনোয়ারা বেগম, মোরশেদা বেগম ও রফিকউল ইসলামের প্লটও জবরদখলে নিয়েছে ভূমিদস্যূ চক্রটি। ইতোমধ্যে জবরদখলকৃত জায়গায় নতুন করে ২০টি কাচাঘর নির্মাণ করেছে।

এসব জবরদখলকৃত বনবিভাগের জমি প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও বনবিভাগের লোকজন নির্বিকার।

ভুক্তভোগিরা দাবী করছেন, বনায়ন জবরদখলের পেছনে বনবিভাগের হাত থাকতে পারে। তা না হলে বনবিভাগের পক্ষ থেকে বাধা আসছে না কেন ?