ঈদুল আজহাঃ মনের ভিতরের পশুত্বকে পরিহার করতে হবে

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা বছর ঘুরে আবার এল মুসলমানদের জীবনে। ঈদুল আজহা আমাদের দেশের মানুষের কাছে ‘কোরবানির ঈদ’ নামেই পরিচিত। কোরবানির পশু কেনা, তার যতœ-পরিচর্যা ও আল্লাহর নামে তা কোরবানি দেওয়াই ঈদের মূল প্রস্তুতি ও আনন্দ। ইতিমধ্যে কক্সবাজারে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট।

কোরবানির ইতিহাস সুপ্রাচীন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করেই সারা বিশ্বের মুসলমানরা ১০ জিলহজ কোরবানি দিয়ে থাকেন। প্রায় চার হাজার বছর আগে হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পেয়েছিলেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।

১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হলেও পরের দুই দিন, অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে সমস্ত লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, স্বার্থপরতা তথা ভেতরের পশুত্বকে ত্যাগের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি লাভের ভেতরেই রয়েছে কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য।

পবিত্র ঈদুল আজহায় একই সময়ে বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি করার ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যে সমস্যা দেখা দেয়, তা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মানুষ নিজ নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে উদ্যোগী হলে বেশি ভাল হয়।

কারও সঙ্গে কারও ভেদাভেদ নয়, ত্যাগের মহিমায় ক্ষুদ্রতা ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেয় ঈদুল আজহা। আমাদের সবার উচিত ঈদুল আজহার ত্যাগের আদর্শ অনুসরণ করা। আনন্দের এই সময়ে আমাদের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাদের সাহায্য করা। পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ অমলিন থাকুক। সবাইকে ঈদ মোবারক।

লেখক, হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, সাংবাদিক ও আইনের শিক্ষার্থী। মোবাইল-০১৮২৬-৫১৪৯১৬, ইমেইল- mdh.islam.chy@gmail.com