পৃথিবীর সব চেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ‘মা’

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
‘মা’ ছোট্ট একটি শব্দ, কিন্তু কি বিশাল তার পরিধি! সৃষ্টির সেই আদিলগ্ন থেকে মধুর এই শব্দটি শুধু মমতার নয়, ক্ষমতারও যেন সর্বোচ্চ আধার। মায়ের অনুগ্রহ ছাড়া কোনো প্রাণীরই প্রাণ ধারণ করা সম্ভব নয়। তিনি আমাদের গর্ভধারিনী, জননী।

জন্মদাত্রী হিসেবে আমার, আপনার, সকলের জীবনে মায়ের স্থান সবার ওপরে। তাই তাঁকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানানোর জন্য একটি বিশেষ দিনের হয়ত কোনো প্রয়োজন নেই। তবুও আধুুনিক বিশ্বে প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ‘মা’ দিবস পালন করেন। আজই সেই দিন।

তবে আমার মতে ‘মা’ দিবস প্রতিদিন, প্রতি নিঃশ্বাসে। কারণ পৃথিবীর সব ঝড়ঝাপটা, বিপদ-আপদ, ভালো-মন্দ সবকিছুকে একমাত্র মা-ই পারেন ভালোবাসায়, স্নেহ-মমতায় শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে।

মা আমার প্রিয় মানুষ। প্রিয় এই মানুষটির হাসিভরা মুখ আমাদের আনন্দের উৎস। মাকে ছাড়া কোনো শিশু সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে না। সন্তানের মাথার ওপর মা হলেন বিশাল আকাশ, মমতার ছায়া। সংসারের সব দুঃখ, ব্যথা, কষ্ট, রোদ-ঝড়, বৃষ্টি থেকে আমাদের নিরাপদ রাখেন মা।

তাইতো কবি কামিনী রায় তার ‘কত ভালবাসি মা কবিতায় মাকে বন্দনা করে লিখেছেন,
জড়ায়ে মায়ের গলা শিশু কহে আসি,
মা, তোমারে কত ভালোবাসি!
“কত ভালোবাস ধন?” জননী শুধায়।
“এ-ত বলি দুই হাত প্রসারি দেখায়।
তুমি মা আমারে ভালোবাস কতখানি?
মা বলেন, “মাপ তার আমি নাহি জানি।”
“তবু কতখানি, বল।”
“যতখানি ধরে তোমার মায়ের বুকে।”

আব্রাহাম লিংকন মাকে স্মরণে এনে বলেছিলেন, ‘আমি যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু হয়েছি, অথবা যা হতে আশা করি তার জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।

ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং বলেছেন, মাতৃত্বেই সকল মায়া-মমতা ও ভালবাসার শুরু এবং শেষ।

আমার ভাষায় বলব, মাকে ছাড়া জীবন অচল। সূর্যের আলো ছাড়া যেমন দুনিয়া অন্ধকার, চাঁদ ছাড়া যেমন রাত অন্ধকার, ঠিক তেমনি মা ছাড়া জীবন বৃথা।

এদিকে মাকে ভালোবাসা আর তাঁর প্রতি হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধার বিষয়টি পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামে মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশতের কথা বলা হয়েছে। অন্যান্য ধর্মেও মাতৃভক্তি আর তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞান সবার ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে।

সব সম্পর্কের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক শুধু মা-সন্তানের সম্পর্ক। এর গভীরতা পরিমাপ করা সবার সাধ্যের বাইরে। এক সাহাবি আমাদের মহানবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (স.) কে প্রশ্ন করেছিলেন-কে শ্রেষ্ঠ, বাবা নাকি মা? তিনি পরপর তিনবার এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন মা, মা, মা।

আর চতুর্থবার উত্তর দিয়েছিলেন বাবা। অর্থাৎ সন্তানের কাছে শ্রেষ্ঠ স্থানটি মায়ের, তারপর বাবার।

তাই সকল সন্তানের উচিত মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অটুট রাখা। কারণ মাকে ছাড়া যে আমাদের একটা দিনও চলে না।

এই দিনে পৃথিবীর সব মায়েদেরকে জানাই সালাম। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা আমার জন্মদাত্রী মা‘সহ সকলকেই যেন সুখে ও শান্তিতে রাখেন, আমিন।

লেখকঃ যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রতিনিধি দৈনিক সংবাদ, প্রিয় চট্টগ্রাম এবং আজকের কক্সবাজার।

মোবাইল-০১৮২৬-৫১৪৯১৬, ই-মেইল : mdh.islam.chy@gmail.com