শিক্ষিত হলেই সবক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা যায় – ইউএনও সেলিনা কাজী

সোয়েব সাঈদঃ
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিনা কাজী বলেছেন, একটি সুন্দর দেশ গড়ার জন্য সুশিক্ষিত জাতির বিকল্প নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেই সবক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা যায়। তাই প্রতিটি নাগরিককে সুশিক্ষিত করার জন্য সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টা সফল করতে হলে বিত্তবান ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক সহ সর্বস্তুরের মানুষকে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি শনিবার ৭ মে বিকাল চারটায় রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ হাকিম রকিমা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কাউয়ারখোপ হাকিম রকিমা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের শিক্ষানুরাগী সদস্য শহীদুল্লাহ সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিশোর বড়ুয়া। সহকারী শিক্ষক মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর, কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক, রামু উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ওসমান সরওয়ার মামুন, বিশিষ্ট রাজনীতিক শফিউল আলম ও মোস্তাক আহমদ, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য নুরুল আলম ও আবদুল খালেক, কাউয়ারখোপ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ, কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন নিকাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রার সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন, রামু প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ, সাবেক ইউপি সদস্য ডা. নেবু রানী শর্মা প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার, সহকারী শিক্ষক ছৈয়দ আলম, লুৎফুন্নাহার, রহিমা বেগম, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও দেবাশীষ চক্রবর্তী, ফেরদৌসী আকতার, আনজুমান আরা এনি, নাছির উদ্দিন, আবদুল্লাহ (ছোট), ওবাইদুল্লাহ, রাশেল উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন, দশম শ্রেণির ছাত্র নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিনা কাজী আরো বলেন, কাউয়ারখোপ হাকিম রকিমা উচ্চ বিদ্যালয় একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আজকের অনন্য সুন্দর অনুষ্ঠান প্রমাণ করে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পরিশ্রমী আর শিক্ষার্থীরাও সৃজনশীল ও মেধাবী।

তিনি বিদ্যালয়ের খাবার পানির সংকট নিরসনে গভীর নলকূপ স্থাপন সহ সার্বিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এছাড়াও তিনি বাল্য বিয়ে, মাদক ও অপরাধ কর্মকান্ড প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলকে ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

সভায় বক্তারা বলেন, আলহাজ্ব ফারুক আহামদ এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে অবহেলিত এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠিকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন। তাঁর এ অবদান মানুষ আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

পরে অতিথিবৃন্দ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন।

এর আগে বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ইউএনও সেলিনা কাজী সহ অতিথিবৃন্দ।

এসময় বিদ্যালয়ের ৭টি পৃথক স্কাউটস্ দল অতিথিদের সম্মানে বাদ্যযন্ত্রের তালেতালে কুচকাওয়াজ ও সালাম প্রদর্শন করেন।

সালাম গ্রহন শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় বলিখেলা এবং গীতিনাট্য মলকা বানুর বিয়ে অতিথি ও দর্শকদের বিমোহিত করে।