টেকনাফে তীব্র তাপদাহে অতিষ্ট জনজীবন: বেকাদায় পড়েছে পশুরা

টেকনাফ প্রতিনিধি:
বৈশাখ মাসের তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে টেকনাফবাসীর জনজীবন। বেশ কয়েকদিন ধরে সূর্যের প্রখোর তাপদাহে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশুরা।

৭ মে সরেজমিনে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকায় চোখে পড়ে প্রচন্ড তাপদাহে অতিষ্ট হয়ে এক ঝাঁক গৃহপালিত মহিষের পাল গরমে অতিষ্ট হয়ে একটি পানির ডোবাতে হাবু-ডুবু খাচ্ছে।

এদিকে টেকনাফে দীর্ঘদিন ধরে প্রচন্ড তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষে জনজীবন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে রোধের প্রখর তাপ অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন তেলেশমাতি মানুষের জনজীবনে দুর্ভোগের নতুন মাত্রা সৃষ্টি হয়েছে। প্রচন্ড রোদের গরমে সাধারণ হতদরিদ্র মানুষরা জীবিকা নির্বাহের জন্য রাস্তায় বের হতে পারেনা।

খেটে খাওয়া মানুষগুলোর একেবারে কাহিল অবস্থা। দুপুর হলে রাস্তাঘাটে লোকজনের সংখ্যা একেবারে কমে যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই অবস্থা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত নয়। প্রচন্ড গরমের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে রোগীদের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তীব্র গরমের কারণে দিনমজুর শ্রমিকরাও সহজে কাজে যেতে চায়না। এতে ব্যবসায়ীরা পড়েছে বিপাকে।

সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডা ডেইল এলাকার দিনমজুর সুলতান আহম্মদ বলেন, ‘ও বাজি এন্দিলা গরম আরার জীবনত আর ন দেহি। এনে পেড়ত ভাত নাই গরমর জ্বালা কাজতও যাইত মনে ন হর।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুনিয়ার বিপদ বেগগুন আইসে দে আরার গরিবর লাই’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, স্কুল চলাকালে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া এবং গরমে গা ঘেমে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পাঠদান করাতে ব্যাহত হচ্ছে।

টেকনাফ হাসপাতালে শিশু বিশেষঙ্গ আতাউর রহমান জানান, গরমের কারণে বেশির ভাগ শিশুরা ব্যাকটেরিয়াল ডায়রিয়া এবং গায়ে ঘাম বসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।