বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনঃ উখিয়ায় চাকমা আদিবাসীদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১ নং জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদাবনিয়া চাকমা আদিবাসী পল্লীর লোকজনের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই রাতে উক্ত মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ১৯/২৫০। মামলায় স্থানীয় মৃত মিয়া হোসনের পুত্র কবির আহমদ ওরফে কবির হাজ্বী, আনোয়ারুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুমা বেগম, কবির হাজ্বীর পুত্র আনোয়ারুল ইসলাম এবং আবুল মনছুর ওরফে মনছুর আলমসহ আরো ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়।

এামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, উখিয়া উপজেলার ১ নং জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদাবনিয়া চাকমাপাড়ার প্রায় ৯০ পরিবার বিগত ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদারবনিয়া চাকমাপাড়া খালে শুষ্ক মৌসুমে বাধঁ দিয়ে ২০ একর জমি চাষাবাদ করে আসছেন এবং বর্ষাকালে বাধেঁর এক পাশে কেটে দিয়ে পানি সরিয়ে দেন। মামলার আসামীগণ গত কয়েক বছর ধরে বাধেঁর পাশের বন বিভাগের পাহাড় হতে মাটি কেটে খাল ভরাট করে তাদেরকে চাষাবাদে বাধা প্রদান করে আসছেন। এই বিষয়ে গ্রামবাসী এবং কৃষকেরা মিলে গত বছরের ১ আগস্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এত করে ভূমিদস্যুরা চাকমাপাড়ার লোকজনদের উপর ক্ষিপ্ত হন। এই বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হলেও পরে তারা টিকই মানেন না। এর জের ধরে আসামীগণ আরো অজ্ঞাত লোকজন নিয়ে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গত ১৪ জুলাই বিকাল চারটার দিকে খালের বাধেঁর পূর্বপাশে পুণরায় পাহাড়ের মাটি কেটে খাল ভরাট করতে থাকেন। খবর পেয়ে চাকমাপাড়ার লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং খাল ভরাট করতে বারণ করেন। পূর্ব প্রস্তুত থাকা আসামী এবং আসামীপক্ষের লোকজন তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ধনুরাম চাকমার ছেলে চাকানু চাকমা, কেমরাউ চাকমার ছেলে চিংঅং চাকমা এবং অংথাইংচা চাকমা, অংকিউ চাকমার ছেলে কেয়ামং চাকমা, ধনুরাম চাকমার ছেলে কিচ্ছজন চাকমা, চানিফ চাকমার ছেলে কেমবাউ চাকমা, মংক্যবং চাকমার ছেলে রমেশ চাকমা আহত হন।

আহতদের মধ্যে চাকানু চাকমা, চিংঅং চাকমা, অংথাইংচা চাকমা, কেয়ামং চাকমা মারত্মকভাবে জখম হন এবং তাদেরকে কক্সবাজার সদর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ঘটনার পরের দিন ১৫ জুলাই কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের কর্মকর্তা বৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মাদারবনিয়ায় যান। এর আগে তারা কক্সবাজার সদর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসারত আহতদের দেখতে যান। পরে সেখান থেকে মাদারবনিয়া চাকমা আদিবাসী পল্লীতে যান এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন।

আলাপকালে পরিষদের সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, ভয়ের কোন কারণ নেই। এটা আপনাদের বংশানুক্রমে জীবন-জীবিকা নির্বাহের জমি। এটা আপনাদের বাঁচার সম্বল। এই সম্বল কাউকে জোরপূর্বক কেড়ে নিতে দেওয়া হবেনা। প্রশাসনিক সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আপনারা র্ধৈয্য রাখুন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন।

এলাকাবাসীর সাথে আলাপ শেষে পরিষদের কর্মকর্তারা বিরোধীয় জমিও পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু, সাধারণ সম্পাদক বাবু অমরবিন্দু বড়ুয়া অমল, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু বিপক বড়ুয়া বিটু, অর্থ সম্পাদক বাবু রাজু বড়ুয়া প্রমূখ উখিযা উপজেলা শাখার কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।