কোটা বাতিল নিয়ে হাই কোর্ট দেখানো অগ্রহণযোগ্য: মওদুদ

অনলাইন ডেস্কঃ
কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর আদালতের রায়ের কারণ দেখিয়ে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন মওদুদ আহমদ।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য একথা বলেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, “আসলে কথা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা রাখেন নাই। এই কথাটা বাংলাদেশের মানুষ এবং আমাদের নতুন প্রজন্ম যারা ১০-৩০ বছর বয়স, তারা এটা মনে রাখবে যে বাংলাদেশের একজন প্রধানমন্ত্রী- তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেন নাই।

“যে কথা দিয়ে এখন উনি বা সরকার সরে যেতে চাইছেন, সেই কথাটা মোটেও টেকসই নয়; মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণে যে, যদি আপনারা সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী কোটা পদ্ধতি প্রত্যাহার করে নিতে চান তাহলে … যদি বাধা থাকে হাই কোর্টে সেটা আপনারা অবশ্যই দূর করতে পারেন। যদি নিয়ত ঠিক থাকতো তাহলে এটাই করতেন।”

সরকার চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ১১ এপ্রিল সংসদের বক্তব্যে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর মধ্যে বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আপিল বিভাগের এক আদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা কোটা থেকে তা পূরণ করার সুযোগ দেওয়া হলেও ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়ে গেছে।

“তাই এ আদেশ অগ্রাহ্য করে বা পাশ কাটিয়ে বা উপক্ষো করে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা করা হলে আদালত অবমাননার শামিল হবে বলে আমি মনে করি।”

পরদিন সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা, তাতে হাই কোর্টের রায় রয়ে গেছে। যেখানে হাই কোর্টের রায় আছে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে আমরা কীভাবে কোর্টের ওই রায় ভায়োলেট করব? সেটা তো আমরা করতে পারছি না।”

এসব বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মওদুদ বলেন, “দেখলাম যে, সরকার পক্ষ বলার চেষ্টা করছেন এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন যে, হাই কোর্টের না কি একটা রায় আছে। হাই কোর্টে এই ধরনের কোনো রায় আছে বলে আমি মনে করি না।

“তারপরও যদি হাইকোর্টে এই ধরণের কোনো রায় থাকে তা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ব্যাপারে আছে, তাদের নাতি-নাতনিদের ব্যাপারে আছে বলে আমি মনে করি না।”

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রীর কথা রক্ষা করার জন্য সরকার হাই কোর্টে গিয়ে এই ব্যবস্থা সংশোধন করতে পারে বলে মত দিয়ে মওদুদ বলেন, “তাহলে স্বাভাবিক লজিক্যাল জিনিস হবে।

“সরকারের পক্ষ থেকে এটর্নি জেনারেল একটু কষ্ট করে রোববারে একটু যান, সোমবারে বিষয়টা যদি লিস্টে আনেন, একটু সংশোধনী করিয়ে নেন, একটু উইথ ড্র করিয়ে নেন, একটু রিভিউ করিয়ে নেন – কতরকমের পথ আছে। যদি নিয়ত ঠিক থাকতো তাহলে এটাই করতেন।”

কোটা সংস্কারে আন্দোলনকারীদেরকে গ্রেপ্তার করে ‘রিমান্ডে’ নিয়ে নির্যাতনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কেন এই অত্যাচার-নির্যাতন করছেন? কালকে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনে মর্মাহত হয়েছি। উনি বলেছেন যে, এদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

“এটাকেই বলে ফ্যাসিবাদ। কোটা আন্দোলনকারীদের উপর এই নিপীড়ন-নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে অবশ্যই একদিন হবে। “

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে বলে মন্তব্য করেন সাবেক আইনমন্ত্রী।

“রাজনীতি অত্যন্ত গতিশীল। যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা তো এখন মনে করি, দেশের মানুষ এখন প্রস্তুত হয়ে গেছে মাঠে নামার জন্য। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।উপযুক্ত সময় আসলে এমন উপযুক্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে যার ফলে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটবে।”

খালেদা জিয়াকে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাবন্দি করে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ।

“বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে অনেক কষ্ট নিয়ে বলতে হয়। আমি একজন আইনজীবী। কী কৌশল অবলম্বন করে তার জামিনকে আটকিয়ে রেখেছে তারা; হাই কোর্ট চার মাসের জামিন দিয়েছিলেন। একটা দিনের জন্য আমার নেত্রী দিনের মুক্ত আলো দেখতে পারেননি।

‘‘কেন? ওই যে ম্যাজিস্ট্রেট বসে আছে। একেবারে নিম্নতম পর্যায়ের বিচারক; তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ দেশের উচ্চতম আদালতের চাইতে ওই ম্যাজিস্ট্রেট অনেক বেশি ক্ষমতাশালী।”

সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বাবুলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জারুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন,নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমীন, জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা সোয়াইব আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ