সুবাসিচের নৈপুণ্যে শেষ আটে ক্রোয়েশিয়া

ক্রীড়া ডেস্কঃ
টাইব্রেকারে কাসপেস স্মাইকেলের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতলেন দানিয়েল সুবাসিচ। ডেনমার্ককে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠল ক্রোয়েশিয়া।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে লুকা মদ্রিচের পেনাল্টি ঠেকিয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে নেন স্মাইকেল। টাইব্রেকারেও ঠেকিয়েছিলেন দুটি পেনাল্টি। কিন্তু সুবাসিচ ঠেকালেন তিনটি! ৩-২ গোলে জিতে উৎসবে মাতে ক্রোয়েশিয়া।

আগামী শনিবার সেমি-ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে রাশিয়ার মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া।

নিজনি নভগোরোদে রোববার ম্যাচের শুরুতেই হয় দুটি বাজে গোল। প্রথম আক্রমণেই প্রথম মিনিটে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক। ইয়োনাস কানুডসেনের লম্বা থ্রোয়ে বল পান টমাস ডেলাইনি। জটলার মধ্যে বল দেন মাটিয়াস ইয়োরগেনসেনকে। এই ডিফেন্ডারের গড়ানো শট ক্রোয়েশিয়া গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচের পায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়।

আর চতুর্থ মিনিটে বিপদমুক্ত করার চেষ্টায় হেনরিক ডালসগার্ডের শটে বল ডিফেন্ডার আ্যন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের মুখে লেগে ডি-বক্সেই থাকে। মারিও মানজুকিচ বল পেয়ে জালে জড়ান।

২৮তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন ইভান পেরিসিচ। ইভান রাকিতিচের শট ফিরিয়ে দেন স্মাইকেল। ফিরতি শটে বল গোলরক্ষকের হাত থেকে ফস্কে গেলে ফাঁকায় থাকা পেরিসিচের সামনে সুযোগ চলে আসে। ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড প্রথম চেষ্টায় শট নিতে পারেননি, দ্বিতীয় চেষ্টার মারেন বেশ উপর দিয়ে।

দশ মিনিট পর লুকা মদ্রিচের ফ্রি কিকে দেয়ান লভরেন হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ৪০তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের ক্রস ক্রসবারের কোণায় লেগে বাইরে যায়।

ডেনমার্কের জমাট রক্ষণ ক্রোয়েশিয়ার শক্তিশালী মিডফিল্ডকে খুব একটা সুযোগ দেয়নি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

১১৬তম মিনিটে পেনাল্টি সেভ করে ডেনমার্ককে ম্যাচে রাখেন স্মাইকেল। মদ্রিচের বাড়ানো বল ধরে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে কাটিয়েও ফেলেছিলেন আন্তে রেবিচ। পেছন থেকে ফাউল করেন তাকে থামান ইয়োরগেনসেন।

পেনাল্টিতে মদ্রিচের শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন স্মাইকেল। ম্যাচ যায় টাইব্রেকারে। সেখানে লড়াইয়ে জিতলেন সুবাসিচ।

পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম শট নেন ডেনমার্কের এরিকসেন। তার শটে সুবাসিচ গ্লাভস ছোঁয়ানোয় বল লাগে পোস্টে। স্মাইকেল এরপর ফিরিয়ে দেন মিলান বাদেলেইয়ের পেনাল্টি।

পরের দুই শটে জালের দেখা পান ডেনমার্কের সিমন কেয়ার ও মিকেল ক্রন-ডেহলি। ক্রোয়েশিয়ার আনদ্রেই ক্রামারিচ ও মদ্রিচও বল পাঠান জালে।

লেসে শুনের নেওয়া ডেনমার্কের চতুর্থ শট ঠেকিয়ে দেন সুবাসিচ। ইয়োসিপ পিভারিচের শট ঠেকিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখেন স্মাইকেল।

নিকোলাই ইয়োরগেনসেনের শট ঠেকিয়ে আবার স্মাইকেলকে চাপে ফেলেন সুবাসিচ। এবার আর পারেননি ডেনিশ গোলরক্ষক। রাকিতিচের শট খুঁজে পায় ঠিকানা। ক্রোয়েশিয়া পৌঁছে যায় শেষ আটে।