শান্তি ও সহিষ্ণুতা: প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণের উপায়

প্রথম আলো রিপোটঃ
দুই বছর আগে ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ফারাজ আইয়াজ হোসেনসহ আমরা ২৩ জন দেশি-বিদেশি বন্ধুকে হারিয়েছি।

শুধু হোলি আর্টিজানের ঘটনা নয়, বেশ কিছুদিন ধরে সমাজে বিভিন্ন অসহিষ্ণু ঘটনা দেখছি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাহসিকতা ও সফলতার সঙ্গে সেসব ঘটনা মোকাবিলা করছে।

তবে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আমাদের সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রত্যেক মানুষ শান্তি চায়। শান্তি ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতে পারে এবং এগুলো থেকে উত্তরণের উপায় আজকের আলোচনার প্রধান বিষয়। এখন এ বিষয়ে আলোচনা করবেন মীর মনজুর মাহমুদ।

আলোচনা

মীর মনজুর মাহমুদ
আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের আরেকটি পরিচয় হলো এটি ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ। ধর্মীয় সহাবস্থানের দেশ। এ দেশের সম্প্রীতির চিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে বন্দে আলী মিয়া লিখেছেন, ‘পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই, এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।’ কিন্তু বর্তমানে কয়েকটি িবচ্ছিন্ন ঘটনা সম্প্রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারিনি।

                       মীর মনজুর মাহমুদ

কাজে–কর্মে চিন্তা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের বিশ্বাস সুন্দর না হলে চিন্তা সুন্দর হয় না। চিন্তা সুন্দর না হলে কাজও সুন্দর হয় না। শিক্ষার মাধ্যমে সুচিন্তার প্রসার ঘটাতে হবে।

শান্তি ও সহিষ্ণুতা শব্দ দুটি একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের সহিষ্ণু হতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রথম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অসহিষ্ণুতা। অসহিষ্ণুতার জন্য সামান্য কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা এবং নেতারা কখনো কখনো এমন সব শব্দ–বাক্য ব্যবহার করেন, যা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ছোট করে উপস্থাপন করে। এটা উচিত নয়। এতে পরস্পরের প্রতি িবদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রতিটি ধর্মের মানুষকে সম্মান করা প্রয়োজন। একে অন্যকে সম্মান প্রদর্শন করে সমাজে সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

অন্য ধর্মের একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করলে ওই পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে পারি ও সান্ত্বনা দিতে পারি। এতে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে।

মো. রিয়াজ উদ্দিন খান
কমিউনিটি রেডিও এমন একটি গণমাধ্যম, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও চিন্তাচেতনা তুলে ধরতে পারে। নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সুচিন্তা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে কমিউনিটি রেডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জাতীয় গণমাধ্যম বিভিন্নভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক তথ্য–চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয় না। কিন্তু কমিউনিটি রেডিও একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর তথ্য–চাহিদা পূরণের মাধ্যমে কার্যকরভাবে মানুষকে শান্তি ও সহিষ্ণুতার দিকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

কর্মহীন তরুণেরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে অসহিষ্ণুতার পথে ধাবিত হচ্ছেন। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। সামাজিক গণমাধ্যমেও তরুণেরা শান্তি ও সহিষ্ণুতা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন িবষয়ে মতামত দিচ্ছেন।

         মো. রিয়াজ উদ্দিন খান

কিছুদিন আগে দেশের ১৭টি কমিউনিটি রেডিওর স্টেশন ম্যানেজার ও কর্মীদের িনয়ে ‘কমিউনিটি রেডিও হ্যাকাথন–২০১৮’ অনুষ্ঠিত হয়। হ্যাকাথনে বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী ছিলেন তরুণ অনুষ্ঠান নির্মাতা। তঁারা িবভিন্ন দলে ভাগ হয়ে আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সহিষ্ণুতার পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করেন।

তঁাদের মতে, মানসিক কল্যাণ, আন্তসম্প্রদায় সম্পর্ক এবং সামাজিক মাধ্যম—এ িতনটি িবষয় শান্তি ও সহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক িহসেবে কাজ করে। পরবর্তী সময়ে তঁারা িবভিন্ন ধরনের সৃজনশীল অনুষ্ঠান িনর্মাণ ও প্রচার করেন যেন জনগণ, িবশেষ করে তরুণ সম্প্রদায় শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসেন।

গণমাধ্যম ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধনকে দৃঢ় করে শান্তি ও সহিষ্ণুতা ফিরিয়ে আনতে পারে। আবার মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে শান্তি বিনষ্ট করতে পারে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেত হবে।

শান্তি ও সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠায় অনেক প্রতিষ্ঠান চমৎকারভাবে কাজ করছে। এই সব প্রতিষ্ঠান কমিউনিটি রেডিওকে ব্যবহার করলে তাদের কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে এবং শান্তি ও সহিষ্ণুতার দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আসমা আফরিন হক
গবেষণায় দেখা গেছে, সহিংস উগ্রবাদের ঘটনায় কেবল পুরুষ নয়, নারীও সম্পৃক্ত। পুরুষদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ও অনেক সময় না বুঝে বা বাধ্য হয়ে নারীরা উগ্রবাদী কাজে ক্রমবর্ধমানভাবে জড়িয়ে পড়ছেন। এ বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় সংস্থাগুলোকে িবভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

            আসমা আফরিন হক

২০১৭ সালে ৬টি জেলার কমিউনিটির নারীদের সঙ্গে কাজ শুরু করি। নারীদের আয় বৃদ্ধিমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আমরা ৬টি জেলা থেকে ৬০০ নারীকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করি। তাঁদের আয় বৃদ্ধিমূলক কাজের ওপর প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই নারীরা আশপাশের অন্য নারীদের সহায়তা করছেন।

নারী শিক্ষকরা তাঁদের ছাত্রদের সঙ্গে সহিংস উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী ছিলেন না। আমরা তাঁদের সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছি। বর্তমানে তাঁরা খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছেন।

 

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু
রামুর ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অসহিষ্ণুতা থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর একটি পোস্ট প্রকাশিত হলে এই বিষয়কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলা হয়। তারপর অসহিষ্ণুতার ঘটনা ঘটে।

কেউ কোনো সম্প্রদায়ের বিষয় নিয়ে অবমাননাকর কিছু করলে ধৈর্য ধারণ করা উচিত। দেশে আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। এভাবে চিন্তা করলে রামুর ঘটনাটি হয়তো ঘটত না।

                         প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু

বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে নিয়ে যেতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন শান্তি ও সহিষ্ণুতা। অন্যথায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে দেখা যাবে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের রক্তে মিশে আছে।

সহিষ্ণুতা না থাকলে যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় স্থাপনাগুলো পাশাপাশি টিকে থাকত না। কোনো কোনো গ্রামে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। সহিষ্ণুতা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য ও উসকানিমূলক বার্তা প্রচার করেন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করা হয়। এতে সমাজে কলহ সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের উচ্চশিক্ষিত ছেলেরা ছাত্রাবস্থায় জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত হচ্ছেন। এটা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

পারভেজ সিদ্দিকী
ফিল্ম ফর পিস ফাউন্ডেশনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সিনেমা ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠা করা। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রতিবন্ধকতাগুলো নির্ধারণ করি এবং তা সমাধানের চেষ্টা করি।

                       পারভেজ সিদ্দিকী

আমরা পরীক্ষামূলকভাবে উখিয়ায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছি। সেখানে সামাজিক কার্যক্রমে নারীদের কোনো অংশগ্রহণ নেই। এটাকে পুরুষেরা ভালো চোখে দেখেন না। তরুণদের সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ কম। নেই সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও খেলার মাঠ। কিন্তু মাদকের ছড়াছড়ি আছে। মানব পাচারকারীরা এই সুযোগ নিচ্ছে।

আমরা সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন করেছি। প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছি। সেখানকার প্রশাসন এই কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে।

আমরা সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপনের চেষ্টা করছি। একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আবদুল্লা আল মামুন
আমরা চার লাখ তরুণকে পরিবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে গোটা দেশে উগ্রবাদ ও সহিংসতার বিপক্ষে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তৃণমূল পর্যায়ে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। পত্রিকায় কোনো সম্প্রদায় নিয়ে প্রকাশিত খবরের নিচে মন্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উগ্র মতাদর্শ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা আমাদের শান্তি ও সহিষ্ণুতার জন্য বড় রকম বাধা।

প্রতিটি বিষয়কে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে বিচার করা হচ্ছে। কক্সবাজারে এখনো সংখ্যালঘু ধর্মীয় নেতারা সন্ধ্যার পরে বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পান।

                    আবদুল্লা আল মামুন

প্রতিটি সাম্প্রদায়িক ঘটনার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (ফেসবুক) একটা সম্পর্ক রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনোদন সরবরাহের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আমরা ৪০০ স্কুল নিয়ে গবেষণা করেছি। সেখানে সাম্প্রদায়িকতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। নিজের বিশ্বাস অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এভাবেই অসহিষ্ণুতার সূত্রপাত ঘটছে। এ জন্য আমাদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব রয়েছে, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। প্রশাসনের এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা শান্তি ও সহিষ্ণুতা রক্ষায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় সরবরাহ করতে হবে। তাহলে সংগঠনগুলো সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধানের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।

বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে মুক্তচিন্তার বিস্তার ঘটাতে হবে। খেলাধুলা ও দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে তরুণদের সাহায্য করতে হবে। তরুণ রোল মডেল তৈরি করতে হবে। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের ভূমিকা জরুরি।

উম্মে হাবিবা
আমাদের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। এরা ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। এ জন্য আমরা তরুণদের নিয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ করছি। সমাজে অনেক সহিষ্ণুতা রয়েছে।

আমাদের লক্ষ্য, এ সহিষ্ণুতাকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করি। দুঃখজনক বিষয় হলো, এঁদের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী জানেন না অসহিষ্ণুতা কী। শান্তিপূর্ণ ও সহিষ্ণু সমাজের চিত্র সম্পর্কে তরুণদের ধারণা নেই। তথ্য দিয়ে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া উচিত।

                              উম্মে হাবিবা

আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, আঞ্চলিক অসহিষ্ণুতা রয়েছে। বাস্তব জীবনে এ–সম্পর্কে ধারণা থাকলে তরুণদের পক্ষে আরও ভালো হতো। বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে তরুণদের ভেতর সহিষ্ণু মনোভাব সৃষ্টিতে কাজ করছি। বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহিষ্ণুতা সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি।

ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছি। বর্তমানে তরুণদের চিন্তার ক্ষেত্রটি প্রসারিত হচ্ছে। নিজেদের ভাবনাগুলো অন্যের সামনে প্রকাশ করছেন। মতবিনিময় করছেন।

শান্তি ও সহিষ্ণুতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজেরা বিভিন্ন ধারণা দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে তরুণেরা জাতীয় নেতৃত্ব গ্রহণ করলে শান্তি ও সহিষ্ণুতার বিষয়টি চিন্তা করে নীতিমালা প্রণয়ন করবেন।

সাজ্জাদ হোসেন মুকিত

                        সাজ্জাদ হোসেন মুকিত

অসহিষ্ণু পরিবেশ সৃষ্টির কারণগুলো খুঁজে বের করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। অন্য ধর্মের সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে নিজেদের আলাদা মনে করি। বাস্তবে তা নয়। আমাদের অনেক ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে এবং মৌলিক পার্থক্য নেই বললেই চলে। এ জন্য ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।

বর্তমানে তরুণেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকৃষ্ট হচ্ছেন। তাঁদের সচেতন করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করতে হবে। বিনোদনের সঙ্গে তথ্য ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা দরকার। এ জন্য আমরা বিকল্প বিনোদন সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তরুণদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিতে পারলে সহিষ্ণুতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা তরুণদের ক্যারিয়ার গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। চাকরি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তরুণদের সরবরাহ করছি।

এতে তাঁরা হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ক্যারিয়ারের একটি বিকল্প খুঁজে নিতে পারবেন। এটা তাঁদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করবে।

স্বামী ধ্রুবেশানন্দ
কেবল ধর্মের মাধ্যমে একটি দেশকে বিভক্ত করা যায় না। একটি দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ থাকবে। তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্ম পালন করবে।আমরা বিশ্বাস করি, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। সে-ই প্রকৃত ধার্মিক, যে নিজের ধর্মকে সম্মান করে ও অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে। আমরা আমাদের স্কুলগুলোয় বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ধর্মের ওপর শিক্ষা প্রদান করি। আমাদের আশ্রমে বিভিন্ন ধর্মীয় িদবস পালন করি। এতে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।

                                স্বামী ধ্রুবেশানন্দ

শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় উন্নতি না হলে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়া সম্ভব নয়। মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ওপর প্রতিবছর আমরা কিছু সভার ব্যবস্থা করি। পাশের বাড়ির ভিন্নধর্মের মানুষ অভুক্ত থাকলে নিজের খাবারের কিছু অংশ তাকে দেওয়া উচিত। আমরা বিশ্বাস করি, জীবের সেবাই ঈশ্বরের সেবা। আমাদের বিদ্যালয়ে এসব শিক্ষা দেওয়া হয়।

সহিষ্ণুতা নয়; রবং যেকোনো বিষয় গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হবে। প্রত্যেকে অন্য ধর্মকে সম্মান করবে ও নিজ ধর্ম পালন করবে। কোনো ধর্ম সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে না জেনে সমালোচনা করা উচিত নয়।

আমাদের আরও বেশি করে সমাবেশ করা প্রয়োজন, যেখানে বিভিন্ন মত, পথ, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তি ও সহিষ্ণুতার চর্চা করবে।

মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
সহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় জ্ঞান ও তথ্যের স্বল্পতা। তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করা উচিত। সাধারণত কোনো বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে সে বিষয়টি অনুসরণ করা ঠিক নয়। এ জন্য শিক্ষার্থীদের সত্য জ্ঞানের চর্চা ও জ্ঞানমুখী করতে হবে।

সত্য জ্ঞানকে জাতীয় সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত করতে হবে। সঠিকভাবে শিক্ষা বিস্তারে প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।

ভুল তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। শান্তি ও সহিষ্ণুতার বিষয়টি জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত। তিনটি প্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্রে কাজ করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রচারমাধ্যম।

                       মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী

জ্ঞান বিস্তারের ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত। সব তথ্যই জ্ঞান নয়।

মৌলিক ও সত্য তথ্যের পাশাপাশি মিথ্যা তথ্যও রয়েছে। মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দল ও মতবাদ তৈরি হচ্ছে। একজন আরেক জনের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে।

নীতিনির্ধারকেরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করছেন না। তাঁদের উচিত, সঠিক জ্ঞানের আলোকে সমন্বয়ের চেষ্টা করা। বৈষম্য দূর করার জন্য প্রতিক্রিয়াশীল না হওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

পারিবারিক শিক্ষাকে জোর দিতে হবে। পরিবার থেকে বৈষম্যের সৃষ্টি হলে জাতীয় জীবনে এর প্রভাব পড়বে।

অশান্তি ও অসহিষ্ণুতা দূর করার জন্য দায়িত্ব পালনকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। মেধা ও যুক্তি দিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তাহলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

মো. কবির হোসাইন
মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রগুলোর মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা অন্যতম। আমরা সবাই শান্তিতে থাকতে চাই। তবে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে অনেক সময় শান্তি বিনষ্ট হয়। সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করা হয়। এ থেকে মুক্তির জন্য সত্য ও মিথ্যা সম্পর্কে সঠিক জনমত সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে বহু ধর্মের মানুষ বসবাস করে। প্রতিটি ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করবে; একে অন্যকে জানবে। এতে ধর্মীয় উন্মাদনার সৃষ্টি হবে না। মানুষের শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও সহিষ্ণুতার চর্চা জরুরি।

                           মো. কবির হোসাইন

বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে িময়ানমারের সঙ্গে সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে িবশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। দেশের একশ্রেণির মানুষ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। আবার কেউ কেউ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।

গণমাধ্যমকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনার বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করতে হবে। একশ্রেণির ধর্মান্ধ ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করে উগ্র মানসিকতা তৈরি করে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি মুফতি হান্নান আদালতে বলেছিলেন, জান্নাতে যাওয়ার জন্য হামলা করেছেন। অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মের অপব্যাখ্যা মানুষকে বিপথে পরিচালিত করছে।

কলাবাগান ক্লাবের মাঠে প্রতিবছর দুর্গাপূজা হয়। এ বছর সেখানে ঈদের নামাজেরও আয়োজন করা হয়। ঘটনাটি বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার একটি বড় উদাহরণ। সামাজিক ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে তরুণ সমাজকে সচেতন করতে হবে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, সেটা বোঝাতে হবে। দেশের উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতে অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।

সিদ্ধার্থ গোস্বামী
শান্তি ও সহিষ্ণুতা রক্ষায় বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের দাতা সংস্থা কাজ করছে। তবে কাজের সমন্বয় হচ্ছে না। শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় করতে হবে। একে অন্যকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে হবে। প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য গোপন করা যাবে না।

                                   সিদ্ধার্থ গোস্বামী

আমরা অসহিষ্ণুতার কারণ ও সমাধানের উপায় নিয়ে গবেষণা করি। সামাজিক কাজে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। ভারতের নেতিবাচক ঘটনাগুলোকে সমাজের স্বার্থে গণমাধ্যম গোপন রাখে। কিন্তু বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া উচিত। নিজস্ব সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে বাঙালি মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন। তরুণেরা কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে খারাপ চিন্তা করার সময় কমে আসবে।

ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।

তরুণেরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

ফওজিয়া খোন্দকার
একজন নারী মানুষ তৈরির কারিগর ও পুরুষের চালিকা শক্তি। এ জন্য আমরা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীকে সংযুক্ত করে কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। নারীকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুরুষের অমানবিক আচরণ থেকেই শুরু হয় অসহিষ্ণুতা।

                                 ফওজিয়া খোন্দকার

বর্তমানে পারিবারিক মূল্যবোধে ভাঙন ধরেছে। মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির ক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থাকে উপযোগী করতে হবে।

পরিবারে ধর্মীয় প্রভাব প্রকটভাবে কাজ করছে। আমরা মুখে বাঙালি বললেও বাঙালি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে পারছি না। আমরা পাশ্চাত্য ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সংস্কৃতিকে গ্রহণ করছি।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা বাঙালি। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। এ সংস্কৃতির গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

আব্দুল মান্নান
আমাদের দেশে শান্তি ও সহিষ্ণুতা নিয়ে একাডেমিক গবেষণা ছিল না। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হচ্ছে।

সমাজে গোঁড়ামি প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিটি ধর্মেই গোঁড়ামি রয়েছে। নিজের ধর্মকে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং অন্য ধর্মের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলে তাকে গোঁড়ামি বলা হয়। এ ধরনের মানসিকতা আমাদের দেশে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মানদণ্ড িঠক করছি ধর্মীয় আদর্শের ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে। এটা উগ্রবাদের দিকে নিয়ে যায়, যা শান্তি ও সহিষ্ণুতার পথে অন্যতম অন্তরায়।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে একশ্রেণির মানুষ বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম বাঙালি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নিয়ে বড় হতে পারছে না।

                                 আব্দুল মান্নান

পরিবার থেকে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। বাবা-মাকে সন্তানের কাছে আদর্শ হতে হবে। অন্যথায়, সন্তানদের বিপথে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। তাদের বিশ্বাস অর্জন করা প্রয়োজন।

শিক্ষার মাধ্যমে এমন মানসিকতা তৈরি করতে হবে, যেন ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রভাবিত করতে না পারে। ভালোবাসা ও সঠিক ধর্মীয় ব্যাখ্যার মাধ্যমে অনেক উগ্রপন্থীকে শান্তি ও সহিষ্ণুতার পথে ফেরত আনার সুযোগ রয়েছে।

দুই বছর আগে হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় দেশি–বিদেশি ২৩ জনকে হত্যা করা হয়। এই হামলার একমাত্র প্রতিবাদকারী ফারাজ আইয়াজ হোসেনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই।

আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মাধ্যমে একটি সহিষ্ণু জাতি গড়ে তুলতে হবে।গণমাধ্যমে জঙ্গি গ্রেপ্তারকে বড় করে না দেখিয়ে এর পেছনের কারণগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা বেশি প্রয়োজন। এদের খারাপ পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক তথ্য প্রকাশ করা দরকার।

পরিবারের কোনো সদস্য বা পরিচিত কেউ উগ্রবাদী কর্মকানণ্ডের সঙ্গে জড়িত হলে অথবা জড়িত বলে সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত। এতে করে চূড়ান্ত সর্বনাশ হওয়ার আগেই সুপথে আনার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

আব্দুল কাইয়ুম

আজকের আলোচনায় অনেকগুলো পরামর্শ এসেছে। এগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আলোচনায় অংশ গ্রহণের জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

যাঁরা অংশ নিলেন

আব্দুল মান্নান: সহকারী উপকমিশনার, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

মো. কবির হোসাইন: সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ

মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী: সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

মো. রিয়াজ উদ্দিন খান: গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, প্রধান সঞ্চালক, কমিউনিটি রেডিও হ্যাকাথন–২০১৮

স্বামী ধ্রুবেশানন্দ: অধ্যক্ষ, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন

সিদ্ধার্থ গোস্বামী: প্রজেক্ট অ্যাসোসিয়েট, পার্টনারশিপ ফর এ টলারেন্ট ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি)

আসমা আফরিন হক: মনিটরিং অ্যান্ড রিপোর্টিং এনালিস্ট, উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি, ইউএন উইমেন, বাংলাদেশ

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু: সভাপতি, কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ

মীর মনজুর মাহমুদ: চেয়ারম্যান, কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (সিএসডিএফ)

আবদুল্লা আল মামুন: কর্মসূচি সমন্বয়ক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

পারভেজ সিদ্দিকী: নির্বাহী পরিচালক, ফিল্ম ফর পিস ফাউন্ডেশন

ফওজিয়া খোন্দকার: নির্বাহী পরিচালক, প্রাগ্রসর

সাজ্জাদ হোসেন মুকিত: পরিচালক, অপারেশন, ফানুস

উম্মে হাবিবা: প্রকল্প সমন্বয়ক, প্রেরণা

সঞ্চালক

আব্দুল কাইয়ুম: সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো