রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশকে আরও অর্থ দেওয়ার আহ্বান যুক্তরাজ্যের

অনলাইন ডেস্কঃ
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের মাধ্যমে আরও অর্থ সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশে সফররত দেশটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জোয়ানা রোপার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, রোহিঙ্গাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশকে আরও বেশি করে অর্থ সহায়তা দেওয়া দরকার।রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দকৃত ব্রিটিশ সহায়তা কিভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন তারা। এরইমধ্যে কুতুপালংয়ে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে তারা জানিয়েছেন, নারী ও শিশুদের প্রতি বাংলাদেশের আচরণে তারা আপ্লুত।

বাংলাদেশ সফরে এসে ঢাকায় সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন মার্ক ফিল্ড ও জোয়ানা রোপার। সে সময় তারা রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সহায়তার বিষয়টি সামনে আনেন। এ্ররইমধ্যে কুতুপালং-এ গিয়ে রোহিঙ্গাদের বিপন্নতা দেখে এসেছেন তারা।ফিল্ড ও রোপার আজ (রবিবার) ঢাকায় রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের পদক্ষেপের কথা জানার চেষ্টা করবেন সেইসব আলোচনার মধ্য দিয়ে। রোহিঙ্গা কন্যা-শিশুদের শিক্ষার ব্যাপারেও খোঁজখবর নেবেন তারা।

গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন ফিল্ড ও জোয়ানা। তাদের কাছ থেকে শুনেছেন রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিধনযজ্ঞের ভয়াবহ বর্ণনা। এছাড়া বৃষ্টির মৌসুমে সেখানে বসবাসের ঝুঁকি নিজেই দেখে এসেছেন। এছাড়া ইউনিসেফের শিশুবান্ধব স্থানগুলোও পরিদর্শন করেছেন। শরণার্থী শিশুদের খোঁজখবর নিয়েছেন তারা। দেখেছেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও। জোয়ানা রোপার নারীবান্ধব একটি কেন্দ্রেও গিয়েছেন। শুনেছেন যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ সব কাহিনী।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রথম থেকেই সহায়তা করে আসছে যুক্তরাজ্য। গত সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সহায়তার্য় ১২৯ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা করেছে তারা। সামনেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন মার্ক ফিল্ড।বলেন, ‘আমি আজ যা দেখলাম তা সত্যিই হৃদয়বিদারক। এখন তাদের সহায়তায় আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাই রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের মাধ্যমে আরও অর্থায়ন করুন। ’

জোয়ানা রোপার বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের ওপর যেই সহিংসতার বর্ণনা শুনলাম, তাতে ক্ষুব্ধ। মিয়ানমারের এই ঘটনা খুবই ন্যক্কারজনক। তবে ক্যাম্পে নারী ও শিশুদের প্রতি যেই যত্ন করা হচ্ছে তাতে আমরা আপ্লুত।’ নারী শিক্ষার প্রতি যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোন নারী যেন পিছিয়ে না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। রোপার জানান, গত ১৮ জুন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব নারীর জন্য অন্তত ১২ বছর মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান। রোপার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই অবস্থানকে সামনে এনে বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের জন্যও তাদের একই অবস্থান।