রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শেষ আটে ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্কঃ
পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে ছিল সমতা। কিন্তু জোড়া গোল করে ম্যাচটা নিজেদের দিকে নিয়ে এলেন কিলিয়ান এমবাপে। ম্যাচের শেষ দিকে গোল করলেও তা যথেষ্ট হলো না আর্জেন্টিনার জন্য। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে গেছে ফ্রান্স।

কাজানে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতেছে ফ্রান্স। অঁতোয়ান গ্রিজমান ফ্রান্সকে এগিয়ে নেওয়ার পর আনহেল দি মারিয়ার গোলে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা।

গাব্রিয়েল মের্কাদোর গোলে এগিয়ে যায় দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। বাঁজামাঁ পাভার্দ সমতা ফেরানোর পর পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুইবার জালে বল পাঠিয়ে ফ্রান্সকে জয়ের পথে নিয়ে যান এমবাপে। যোগ করা সময়ে সের্হিও আগুয়োরোর গোলে ব্যবধান কমলেও সমতা আর ফেরাতে পারেনি হোর্হে সাম্পাওলির দল।

এমবাপের গতি ম্যাচ জুড়ে ভুগিয়েছে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে। তরুণ পিএসজি ফরোয়ার্ডকে ফেরানোর কোনো উপায় যেন জানা ছিল না রক্ষণের। ফ্রান্সের গতিময় ফুটবলের সামনে উন্মুক্ত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার রক্ষণের দুর্বলতা।

কাজান অ্যারেনায় শনিবার নবম মিনিটে একটুর জন্য ফ্রান্সকে এগিয়ে নিতে পারেননি গ্রিজমান। ২৫ গজ দূর থেকে আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের দারুণ ফ্রি-কিকে বল ক্রসবার কাঁপিয়ে ফেরে। এমবাপেকে হাভিয়ের মাসচেরানো ফাউল করায় ফ্রি-কিক পেয়েছিল ফ্রান্স।

ত্রয়োদশ মিনিটে গ্রিজমানই দলকে এগিয়ে নেন পেনাল্টি থেকে। প্রতি আক্রমণে মাঝ মাঠে বল পেয়ে দারুণ গতিতে এগিয়ে যাওয়া এমবাপেকে মার্কোস রোহো ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখিয়ে স্পটকিকের নির্দেশ দিয়েছিলেন রেফারি।

আবারও দ্রুতগতিতে ডি-বক্সে ঢুকতে যাওয়া এমবাপেকে থামাতে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। আবারও বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় ফ্রান্স। তবে ২১তম মিনিটের এই ফ্রি-কিকে পল পগবার শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

বলের দখলে অনেক এগিয়ে থাকলেও গোলে শট নিতে পারছিল না মেসিরা। ৪১ মিনিটে অবশেষে প্রথম শটেই আসে গোল। ডি-বক্সের বেশ বাইরে এভার বানেগার কাছ থেকে একটু ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন দি মারিয়া। একটু দেখে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে আচমকা বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান ডান পোস্ট ঘেঁষে। ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি গোলরক্ষক উগো লরিস।

এবারের আসরে এটাই সবচেয়ে দূর থেকে গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভাগ্য পক্ষে থাকায় এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তৃতীয় মিনিটে ডি-বক্স থেকে শট নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বলের গতিপথে থাকা গাব্রিয়েল মের্কাদো পা সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল তার পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের।

বদলি হিসেবে নামা ফেদেরিকো ফাসিওর ৫৬তম মিনিটে ভুলে গোল খেতে বসেছিল আর্জেন্টিনা। কাছাকাছি গ্রিজমান থাকার পরও পরও এই ডিফেন্ডার ব্যাকপাস দেন গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানির আওতার বাইরে। ছুটে গিয়ে শট নেন গ্রিজমান। তবে লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

পরের মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান বাঁজামাঁ পাভার্দ। আরেক ডিফেন্ডার লুকা এরনঁদেজের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ভলিতে বল পাঠান জালে।

এরপরই এমবাপের জাদু। ৬৪তম মিনিটে ডি-বক্সে ডান পায়ে ডিভেন্ডারকে ফাকি দিয়ে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান এমবাপে। ঝাঁপিয়ে গ্লাভস ছোঁয়ালেও পিএসজি ফরোয়ার্ডের গোল ঠেকাতে পারেননি আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক।

চার মিনিট পর আবার এমবাপের গোল। ডি-বক্সে অলিভিয়ে জিরুদের চমৎকার বাড়ানো বলে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে জালে পাঠান এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

৮৫তম মিনিটে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মেসি। তবে ঠিক মতো শট নিতে পারেননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির উঁচু করে বাড়ানো বলে লাফিয়ে হেডে জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা আগুয়েরো। জাগে ক্ষীণ আশা। শেষ বাঁশির আগে শেষ একটা সুযোগ এসেছিল ওতামেন্দির সামনে। কিন্তু লক্ষ্য থাকেনি তার মরিয়া চেষ্টা।

১৯৮৬ আসরে সোভিয়েত ইউনিয়নের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে ৩ গোল করেও হারল আর্জেন্টিনা।

টিকে থাকল ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের ফ্রান্সের দ্বিতীয় রাউন্ডে না হারার ধারা।

সূত্রঃ বিডিনিউজ