একা হাঁটতে পারছেন না খালেদা: বিএনপি

অনলাইন ডেস্কঃ
কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের নেত্রী এখন কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারছেন না।

ঈদের পরদিন রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি আবার তুলেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “পরিবারের সদস্যরা গতকাল দেশনেত্রীর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাদের কাছ থেকে যেটুকু আমরা জেনেছি, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না।

“উনার শারীরিক অবস্থা আগের চাইতে অবনতি ঘটেছে। এখন উনি সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারছেন না। ব্যক্তিগত কর্ম করার জন্য উনার সাহায্য প্রয়োজন হচ্ছে।”

ঈদের দিন দুপুরে খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনসহ ২০ জনের একটি দল বাসায় রান্না করা খাবার নিয়ে কারাগারে যান।

তারা জানান, নিজের কক্ষ থেকে খালেদা জিয়া দুই পাশে দুজনকে ধরে সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত কক্ষে আসেন।

বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরতে গিয়ে ফখরুল বলেন, “যে চোখের অপারেশন হয়েছে সেই চোখ লাল হচ্ছে আরও, ব্যথা বেড়েছে। ঘাড়ের ব্যথা বাম দিয়ে এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে হাতের আঙ্গুলগুলো সার্বক্ষণিক ব্যথা করছে। এর কারণে হাত দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না।

“কোমরের ব্যথা বাম পায়ের তলা পর্যন্ত এখন ছড়িয়ে পড়েছে- এটা খুবই মারাত্মক।”

ফখরুল অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ কোনো ‘চিকিৎসা দেয়নি’।

“তার সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা (সরকার) বলছে, পিজিতে পাঠাব অথবা সিএমএইচে পাঠাব …।”

খালেদা জিয়ার বিভিন্ন রোগের কথা তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন এই অসুখগুলোর চিকিৎসা অবিলম্বে দরকার, তাকে অবিলম্বে হাসপাতালে নেওয়া দরকার।

ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও চিকিৎসায় তাদের আস্থা না থাকার কথা জানিয়ে ফখরুল বলেন, “আমরা কি সব ডাক্তারের কাছে যাই না কি, যে ডাক্তারের কাছে আমাদের আস্থা থাকে তার কাছে যাই।

“আমাদের আস্থা হচ্ছে যে, ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলে রোগীর বেটার ট্রিটমেন্ট, বেটার চিকিৎসার ব্যবস্থাগুলো হবে, চিকিৎসার সুবিধা বলে আমরা মনে করি।”

এক-এগারোর সময়ে কারাবন্দি হলেও স্কয়ার হাসপাতালে শেখ হাসিনার এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল (প্রয়াত) ও মোহাম্মদ নাসিমের ল্যাব এইডে চিকিৎসা পাওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

“জেল কোডের কোথাও বলা নাই, আমি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারব না। বলেই দেওয়া হয়েছে আমরা চিকিৎসার খরচ বহন করব। সেই কারণে ওই হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।”

সরকার তার ‘ক্ষতি করতে চায় এবং তার জীবন বিপন্ন করতে চায়’ বলেই খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।

ঈদের আগের দিন নোয়াখালীতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে তার বাড়িতে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখা, যশোরের সাধারণ সম্পাদকসহ ৫২ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “কোন দেশে বাস করছি আমরা? কোনো ওয়ারেন্ট নেই, কোনো নির্দেশ নাই। পুলিশ আমাদের বলেন যে, স্যার উপরের নির্দেশ। উপরটা কে? উপরটা কারা? তারা কি আইনের বাইরে, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যা খুশি তারা তাই করতে পারেন।”

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “ঢাকার সেন্ট্রাল জেল সত্যিকার অর্থে সবচেয়ে খারাপ। এখানে এতো বড় বড় ইঁদুর দৌঁড়ায়, এতগুলো বেড়াল ওখানে যারা ইঁদুর ধরে। আপনারা শুনলে হতবাক হবেন যে, ম্যাডামের ঘরের মধ্যে ওই বেড়াল বড় ইঁদুর ধরেছে।

“তারপরে ম্যাডাম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মানসিক দিক দিয়ে। উনি তো এসব দেখতে অভ্যস্ত নন। তেলাপোকা, ছারপোকা- এটা কমন ব্যাপার। আরো আছে বড় বড় বিছা।

“আপনারা দেশনেত্রীর সঙ্গে এই আচরণ কেন করছেন? এটা তো সভ্য আচরণ নয়। এটা অসভ্য বর্বরদের আচরণ। উনি একজন রাজনৈতিক বন্দি, তার সঙ্গে রাজনৈতিক আচরণ করবেন।”

নিজের কারাবন্দিত্বের অভিজ্ঞতার তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমি প্রথমবার যখন গেলাম ২০১২ সালে। আমার মনে আছে, এখানে দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) আছে। যে রুমে আমি ও দাদা ছিলাম, তার পাশের রুমে ছিলেন আন্দালিব পার্থ ও শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

“হঠাৎ রাত্রিবেলা চীৎকার করে উঠেছে পার্থ: ‘চাচা আমি তো আর বাঁচবো না। কেন কী হয়েছে? এত বড় বিছা! ও যে সারারাত চকির উপর বসলো, আর নামে না। এটা বাস্তবতার কথা বলছি। আপনারা দেখবেন পুরনো ইউরোপের ছবিতে যে চিত্র দেখা যায়, এখানে সেই অবস্থা।”

ঈদের দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সব সময় বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত দেখছেন। উনি প্রথম থেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য একে একে নির্বাচনের প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছেন, বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছেন, একে একে প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছেন।

“এসব করে দিয়ে উনার গণতন্ত্র হচ্ছে- উনি একা এবং তার পার্টি। এছাড়া আর কেউ নেই। সেটাই হচ্ছে তার গণতন্ত্র। উনারা একব্যক্তির শাসন, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য সেই বহু আগে থেকে কাজ করছেন। আমরা বলতে চাই, এই গণতন্ত্র কখনোই টিকে থাকতে পারে না, টিকবে না। ইট হ্যাজ টু গো।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, আবেদ রাজা, শাহ মো. নেছারুল হক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ