কেইনের শেষ সময়ের গোলে জিতল ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্কঃ
প্রাণপণে লড়াই করল তিউনিশিয়া। ৯০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ রাখল সমতায়। কিন্তু হ্যারি কেইনের যোগ করা সময়ের গোলে জিতে গেল ইংল্যান্ড।

ভলগোগ্রাদে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের জয়ে দুটি গোলই করেন অধিনায়ক কেইন।

বিশ্বকাপে শেষ ৯ ম্যাচে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো জিতল ইংল্যান্ড। ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে ৯ ম্যাচ পর একাধিকবার জালের দেখা পেল তারা।

ভলগোগ্রাদ স্টেডিয়ামে সোমবার দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের প্রথম সুযোগ পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডেলে আলির ক্রসে জেসি লিনগার্ড খুব কাছে থেকেও গোল করতে পারেননি। পা দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক হাসেন।

দুই মিনিট পর আবার সুযোগ আসে। এবার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন রাহিম স্টার্লিং। খুব কাছে থেকেও তার চেষ্টা লক্ষ্যে থাকেনি।

একাদশ মিনিটে জালের দেখা পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। অ্যাশলে ইয়াংয়ের কর্নারে জন স্টোনসের হেড ঝাঁপিয়ে এক হাতে ঠেকান তিউনিশিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি বলে খুব কাছ থেকে দলকে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন। দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ম্যাচে গোল করার ধারা ধরে রাখলেন এই ফরোয়ার্ড।

স্বল্প সময়ের মধ্যে চমৎকার দুটি সেভ করা তিউনিশিয়ার গোলরক্ষক হাসেন চোট পেয়ে মাঠে ছাড়েন পঞ্চদশ মিনিটে।

২৪তম মিনিটে একটুর জন্য দ্বিগুণ হয়নি ব্যবধান। ইয়াংয়ের ক্রস খুঁজে পায় লিনগার্ডকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার লক্ষ্যে রাখতে পারেননি শট।

খেলার ধারার বিপরীতে পেনাল্টি গোলে ৩৫তম মিনিটে সমতা ফেরায় তিউনিশিয়া। গড়ানো শট নেন ফেরজানি সাসি, ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আঙুল ছোঁয়ালেও বল জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি ইংলিশ গোলরক্ষক। কাইল ওয়াকার একজনকে ফাউল করায় পেনাল্টি পেয়েছিল তিউনিশিয়া।

তিন মিনিট পর আবার এগিয়ে যেতে পারত ইংল্যান্ড। আলির হেড ক্রসবারে লেগে ব্যর্থ হয়। তিউনিশিয়ার একজন হেড করলে সুযোগ আসে স্টোনসের সামনে। কিন্তু তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ঠিক মতো শটই নিতে পারেননি তিনি।

দুই মিনিটের মধ্যে হাতছাড়া হয়ে যায় ইংলিশদের দুটি সুযোগ। ৪৩তম মিনিটে লিনগার্ডের শট একজনের গায়ে লেগে ওপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে ইউনাইটেড মিডফিল্ডারের শট বাইরে চলে যায় পোস্টে লেগে।

দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটাই গতি হারায় ইংল্যান্ড। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে না গিয়ে বল ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দেয় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ২১তম তিউনিশিয়া।

অনুজ্জ্বল স্টার্লিংয়ের জায়গায় মার্কাস র‌্যাশফোর্ড নামার পর তিউনিশিয়ার রক্ষণে চাপ একটু বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে একমাত্র যে ভালো সুযোগটি পায় ইংল্যান্ড, সেটাকেও গোলে পরিণত করেন কেইন।

৯১তম মিনিটে কর্নার থেকে হ্যারি ম্যাগুইয়ারের ফ্লিক খুঁজে পায় কেইনকে। অরক্ষিত ফরোয়ার্ড কাজে লাগান গোলের সুবর্ণ সুযোগ। চমৎকার হেডে দলকে এনে দেন দারুণ জয়।

১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। সেবার ২-০ গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এবার ব্যবধান একটু কমাতে পারল বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ ধরে জয়শূন্য থাকা তিউনিশিয়া।

আগামী শনিবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে তিউনিশিয়া। পরদিন পানামার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।

সূত্রঃ বিডিনিউজ