মাশরাফি আর্জেন্টিনার ‘ফাট্টু’ সাপোর্টার নন

ক্রীড়া ডেস্কঃ
তাঁর নিজেরই অযুত–নিযুত ভক্ত আছে। কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজাও একজনের ভক্ত। তাঁর খেলা দেখতে, তাঁর দলের খেলা দেখতে মাশরাফিও টিভির সামনে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকেন। কালও ছিলেন। নড়াইলে ঈদের ছুটিতে আর্জেন্টিনা–আইসল্যান্ড ম্যাচটা মনোযোগ দিয়েই দেখেছেন। দেখে নিজের ছোট্ট প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন ফেসবুকে। প্রতিক্রিয়া তো নয়, যেন লিওনেল মেসিকে ছোট্ট একটা চিরকুট লিখেছেন মাশরাফি।

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১–১ গোল ড্রয়ের পর আর্জেন্টিনা–সমর্থকেরা ভীষণ হতাশ। বিশেষ করে লিওনেল মেসির ওই পেনাল্টি মিস যে বারবার ফিরে আসছে চোখের সামনে। তাঁর মতো একজন চ্যাম্পিয়ন ফুটবলার যে এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে পারেন, বিশ্বাস করাই কঠিন। এমন নয় যে মেসি এই প্রথম পেনাল্টি মিস করলেন। আগেও বার্সেলোনা কিংবা আর্জেন্টিনার জার্সিতে এই ঘটনা ঘটেছে। তবু বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শুরু হলো ব্যর্থতা দিয়ে, বিষয়টা আর্জেন্টিনা–সমর্থকদের হজম করা কঠিনই হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা স্ট্যাটাস, মন্তব্য আর ট্রলে এই জ্বলুনি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে আর্জেন্টিনা–বিরোধীরা!

মাশরাফি অবশ্য কোনোটিতেই নেই। আর্জেন্টিনার পাঁড় সমর্থক বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মেসির এক মিসেই আশাহত হচ্ছেন না। আবার আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বড় আশাও করছেন না। ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে কাল ম্যাচের পর মাশরাফি লিখেছেন, ‘জানি এদের কোনো একটা জুজু আছে। বড় আসরে তাই আশা করিও কম, কষ্টও কম। কিন্তু আমি কোনো ফাট্টু সাপোর্টার না যে আশা ছেড়ে দেব। আশায় আছি লিও।’

মাশরাফি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন ছিয়াশি বিশ্বকাপের নায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনার কারণে। কাল আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা মাঠে বসেই দেখেছেন আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি। মেসির পেনাল্টি হাতছাড়া কিংবা ম্যাচটা ড্র হওয়ায় তিনি ভীষণ হতাশ। টিভি ক্যামেরার ক্লোজআপে ম্যারাডোনার সেই হতাশামাখা মুখটা দেখেছেন মাশরাফি। ম্যারাডোনার এই উপস্থিতি মাশরাফিকে বেশ প্রশান্তি দিয়েছে, ‘আমি কোনো হুজুগে না। আজ ম্যারাডোনাকে দেখাই ছিল চোখের প্রশান্তি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণত সমর্থকদের মধ্যে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা নিয়ে তুমুল তর্ক হলেও এখনো পর্যন্ত ক্রিকেট তারকাদের মধ্যে এমন কিছু দেখা যায়নি। তবে কে কোন দল করেন, সেটি অবশ্য নানাভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। দুদিন আগে ব্রাজিলিয়ান সাজে যেমন দেখা গেল তাসকিন–রুবেলকে। তবে তাঁরা কিন্তু আর্জেন্টিনা নিয়ে মাশরাফিকে কোনো তির্যক মন্তব্য করেননি। মাশরাফি খেপিয়ে দেওয়ার ভয় থেকেই কি না, কে জানে!

সূত্রঃ প্রথম আলো