আর্জেন্টিনাকে রুখে দিয়ে চমক আইসল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্কঃ
ইউরোর মঞ্চে দুই বছর আগে আলো ছড়িয়েছিল আইসল্যান্ড। এবার আরও বড় মঞ্চে দেখাল নিজেদের সামর্থ্য। রক্ষণের দৃঢ়তা আর গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা রুখে দিয়েছে অন্যতম ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে।

মস্কোয় শনিবার ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচটি ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করতে পারলে ফলটা আর্জেন্টিনার পক্ষে আসতে পারতো।

প্রথমার্ধে সের্হিও আগুয়েরোর দুর্দান্ত গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার খানিক পরই সমতা ফিরিয়েছিল আইসল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত থাকল সেই সমতাই।

তবে স্কোরলাইনেই কেবল সমতা। বলের দখল, পাস, শট –আর সব কিছুতেই ঢের এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু আইসল্যান্ডের রক্ষণের জমাট বরফ ভাঙা যায়নি একবারের বেশি।

দুই ঘরানার ফুটবল শনিবার মুখোমুখি হয় স্পার্তাক স্টেডিয়ামে। আর্জেন্টিনা সাজিয়ে বসে আক্রমণের পসরা। কত দিক থেকে কতভাবে আক্রমণ করা যায় দেখালেন মেসিরা। সেই আক্রমণ কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে ফেরানো যায় তা দেখাল জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট দেশটি।

ম্যাচের শুরুতে দুই দিক থেকে মেসির দুটি ফ্রি-কিক লক্ষ্যে থাকেনি। তবে ম্যাচের প্রথম ভালো সুযোগটা পায় আইসল্যান্ড। নবম মিনিটে ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে ফরোয়ার্ড আলফ্রেদ ফিনবোগাসনের নিচু শট একটুর জন্য লক্ষ্যে থাকেনি।

সপ্তদশ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে চেষ্টা করেন লিওনেল মেসি। তবে তার ‘ট্রেডমার্ক’ শট ফিরিয়ে দেন আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক।

গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা শেষ হয় ১৯তম মিনিটে আগুয়েরোর চমৎকার ফিনিশিংয়ে। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকারকে খুঁজে পান মার্কোস রোহো। সঙ্গে লেগে থাকা খেলোয়াড়কে এড়িয়ে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠান আগুয়েরো। বিশ্বকাপে এটাই তার প্রথম গোল।

চার মিনিটের মধ্যে ম্যাচে সমতা ফেরায় আইসল্যান্ড। গোলরক্ষক উইলি কাবাইয়েরো একটি চেষ্টা ফিরিয়ে দিলে বল পেয়ে যান ফিনবোগাসন। খুব কাছ থেকে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা আইসল্যান্ড গোল পেল নিজেদের প্রথম ম্যাচেই।

৪৫তম মিনিটে আইসল্যান্ডের দারুণ একটি আক্রমণ রুখে দেন কাবাইয়েরো। ফিনবোগাসনের কাছ থেকে বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়ে যান গিলফি সিগুর্দসন। ডি-বক্সে আর্জেন্টিনার অনেক খেলোয়াড় থাকলেও সেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি কেউই। এভারটন ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে কোনোমতে এক হাতে ঠেকান কাবাইয়েরো।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মাসচেরানো একা দেন ৭০ পাস। পুরো আইসল্যান্ড দল মিলিয়েও সেই সময় দিতে পারেনি অত পাস।

ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে মেসির সেই পেনাল্টি। নিজেই ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। তার শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক হলদোরসন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা সময় আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ তৈরি করে আইসল্যান্ড। সেই চাপ একবার সরে যাওয়ার পর বল গেছে কেবল তাদের রক্ষণের দিকে। যতভাবে সম্ভব গোলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন মেসি।

ইদানিং গোল পাওয়াই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় সমস্যা। বাছাই পর্বে নিজেদের অঞ্চলে সর্বনিম্ন মাত্র ১৯টি গোল করতে পারে তারা। বিশ্বকাপেও সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠার কোনো আভাস নেই দিয়েগো মারাদোনার উত্তরসূরিদের খেলায়। গ্যালারিতে বসে মেসিদের একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হতে দেখেন এই ফুটবল কিংবদন্তি।

আগামী বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। পরদিন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলবে আইসল্যান্ড।