বেসরকারি শিক্ষকরাও বদলি হতে পারবেন

শিক্ষা ডেস্কঃ
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এতে বেসরকারি স্কুল পর্যায়ে চারু ও কারুকলা বিষয়ে এবং কলেজ পর্যায়ে আইসিটি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এর ফলে এসব বিষয়ের শিক্ষকরাও এমপিওভুক্ত হতে পারবেন। নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে না থাকার কারণে তারা বর্তমানে এমপিওভুক্ত হতে পারেন না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুসরাত জাবীন বানু স্বাক্ষরিত এ নীতিমালা গত ১২ জুন প্রকাশ করা হলেও বৃহস্পতিবার তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ শীর্ষক এ নীতিমালা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুমোদন করার পর প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়।

নতুন নীতিমালায় বেসরকারি শিক্ষকদের অধ্যক্ষ পদে নিযুক্তি পাওয়ার অভিজ্ঞতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজন মনে করলে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি করতে পারবে। বর্তমানে তাদের বদলির কোনো বিধান নেই।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের বয়সসীমা হবে ৩৫ বছর। এতদিন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক পর্যায়ে কোনো বয়স নির্ধারণ করা ছিল না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) সালমা জাহান সমকালকে বলেন, নতুন এমপিও নীতিমালায় বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকদের অবসরের বয়স হবে ৬০ বছর। এর পর কাউকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান বা সাধারণ শিক্ষক পদে পুনঃনিয়োগ বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও দেওয়া যাবে না।

নীতিমালায় শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিয়োগের প্রাথমিক বয়স, অবসরের বয়সসীমাসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ারও শর্ত রয়েছে এতে। বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হলে শিক্ষকও এমপিওর জন্য বিবেচিত হবেন না।

নীতিমালায় বলা হয়, এক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানে সমান বা উচ্চতর পদে আবেদন করতে পারবেন। কর্মরত প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অনুমতি নিলে তিনি বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ চাকরি ছাড়েন, তা হলে সর্বোচ্চ দুই বছর তার ইনডেপ (বেতন পাওয়ার কোড) নম্বর বহাল থাকবে। এর বেশি হলে তা চাকরিতে বিরতি হিসেবে গণ্য হবে। ইনডেপ নম্বর বা নিবন্ধন সনদ ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মেধাক্রম/মনোনয়ন/নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু একটি মাত্র তৃতীয় বিভাগ বা সমমান গ্রহণযোগ্য হবে।

বেতন-ভাতা ও অভিজ্ঞতা: বেসরকারি শিক্ষকরা সারাজীবনের জন্য জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেডে আটকে গিয়েছিলেন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা চাকরির ১০ বছর পূর্ণ হলে বেতন স্কেলের অষ্টম গ্রেডে যেতে পারবেন। চাকরির ১৬ বছর পূর্তিতে তারা সপ্তম গ্রেড পাবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে হলে প্রভাষক পদে নয় বছর আর সহকারী অধ্যাপক পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আগে শুধু মোট ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলেই চলত। ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই চলত।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদের জন্য প্রভাষক পদে ১২ বছরের ও তিন বছর সহকারী অধ্যাপক পদের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

নতুন নীতিমালায় স্কুল ও কলেজ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন করে একটি ‘অফিস সহকারী’র পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ নীতিমালায় পদ সমন্বয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। এর ফলে কোনো শিক্ষক ডিগ্রি পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও একই প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের এমপিওভুক্ত পদ শূন্য হলে তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারবেন। এ ছাড়া আগে চতুর্থ শ্রেণির পদে চারজন এমপিওভুক্ত হতেন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে একজন অফিস সহায়ক, একজন প্রহরী, একজন নৈশপ্রহরী ও একজন ঝাড়ুদার এমপিওভুক্ত হবেন।