রামুতে নিরাপত্তা প্রহরীর অসীম সাহসিকতায় বড় ধরনের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল কৃষি ব্যাংক

সুনীল বড়ুয়াঃ
ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী রাতের খাবার খেতে গেছেন। সে সুযোগে ভবনের দো’তলার পেছন দিকের জানালার লোহার গ্রীল কেটে ব্যাংকের ভেতরে ঢোকে পড়ে চোর। শুধু তাই নয়,ভেতরে ঢোকে ব্যাংকের সিসিটিবি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বৈদ্যুতিক বাতির সুইসও বন্ধ করে দেয় চোর। লকারের চাবি খুঁজতে গিয়ে কয়েকটি ড্রয়ারও তচনছ করে চোর ।

এমন সময়ে রাতে খাবার সেরে মেইন দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢোকেন ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী জিন্টু বড়ুয়া। ভেতরে ঢোকেই দেখেন রুম অন্ধকার এবং বৈদ্যুতিক বাতির সুইসও বন্ধ। এমনকি কয়েকটি ড্রয়ারও খোলা পড়ে আছে অস্বাভাবিক অবস্থায়।

এতে তার সন্দেহ হলে সাথে সাথে ভেতরের এদিক ওদিক দেখা শুরু করে। কিন্তু বেশি কিছু বুঝে ওটার আগেই হঠাৎ একজন মানুষ লোহার পাত নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসে এবং মাথায় আঘাত করে। আঘাত পেয়েও ওই মানুষটিকে ঝাঁপটে ধরার চেষ্টা করে প্রহরী। দু’জনের মধ্যে অনেকক্ষন চলে দস্থাদস্থি। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নিরাপত্তা প্রহরী চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে বাইরের লোকজন এগিয়ে আসে এবং ওই লোকটিকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। এভাবে বড় ধরনের চুরির ঘটনা থেকে ব্যাংকটি রক্ষা পেলেও এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সরকারী বন্ধের দিন গত শুক্রবার (৮জুন) দিবাগত রাত এগারোটার দিকে কক্সবাজারে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের রামু শাখায়।

এসময় জনতার হাতে আটক ওই চোরের নাম নাজিম উদ্দিন (৩০)। নাজিম কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাবেকগলি সরকারী ঘোনা এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফেরদৌস আহম্মদের ছেলে। স্থানীয় জনতা চোর নাজিমকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং গার্ড জিন্টুকে উদ্ধার করে প্রথমে রামু হাসপাতালে পরে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিনকে প্রধান অভিযুক্ত এবং অজ্ঞাত নামা আরো ৫-৬জনকে আসামী করে ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার মানিক চন্দ্র দে বাদি হয়ে রামু থানায় এজাহার দায়ের করেছেন বলে জানান ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম।

খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, কক্সবাজার জেলা পুলিশের এএসপি মো. সাইফুল ইসলাম, এএসপি (ডিএসবি) শহিদুল ইসলাম, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লুৎফুর রহমান, রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমান। রাতে রামুতে ব্যাংক ডাকাতি হচ্ছে খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবর শুনে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক জনতা ভীড় জমায়। পরে জানা যায় এটি চুরির ঘটনা। এ ঘটনায় রামু কৃষি ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দে রামু থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

রামু কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড জিন্টু বড়ুয়া ব্যাংকের পাশে তার ঘরে রাতের খাবার খেতে যান। এসময় দো’তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ব্যাংকের পেছনের সানসিটে উঠে জানালার গ্রীল কেটে ভেতরে ঢোকে চোর নাজিম। ভেতরে ঢুকে ২টি সিসি ক্যমেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এবং বৈদ্যুতিক ভাল্বের সুইসও বন্ধ করে দেয়। বিভিন্ন কর্মকর্তার টেবিলের ড্রয়ার, স্টীলের আলমারীর তালা ভেঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নথি,ব্যাংকের হিসাব নিকাশ ও দলিলপত্র তছনছ করে। রাত আনুমানিক সোয়া দিকে ব্যাংকের নিরাপত্তা গার্ড জিন্টু বড়ুয়া ব্যাংকের মুল গেইট দিয়ে প্রবেশ করে ভেতরে ঢুকে ব্যাংকের চারদিকে দেখার সময়ে অর্তকিতভাবে লোহার পাত নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে। এসময় গার্ডের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। আহত হলেও পিছপা হননি,চোরকে ঝাঁপটে ধরে ফেলে জিন্টু। দুজনের ধস্থাধস্থির একপর্যায়ে জিন্টুর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ষ ক্ষরণ হলে দুর্বল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আহত জিন্টু বড়য়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় জনতা এগিয়ে আসে এবং নাজিমকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। নিরাপত্তা গার্ড জিন্টুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নুরুল আলম আরো বলেন, জিন্টু বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন,এখনো পুরোপুরি শংকামুক্ত নন । গুরুতর আহত নিরাপত্তা গার্ড জিন্টুর অসীম সাহসিকতায় আজ ব্যাংকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত দাবি করে তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই সরকারী বন্ধের দিন তারা বেছে নিয়েছে।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় দস্যুতার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের হাতে আটক নাজিম উদ্দিন এ ঘটনায় তার সাথে আর কেউ নেই বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবুও এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পুলিশের ধারনা ,ব্যাংকের নিরাপত্তা গার্ড চোর নাজিমকে দেখে ফেলায়, তার উপর হামলা করে। তারও দাবি,নিরাপত্তা গার্ডের সাহসিকতায় চুরির ঘটনা থেকে ব্যাংকটি রক্ষা পায়।