টেকনাফের শ্রমিকরা মে দিবস কি জানেনা

টেকনাফ প্রতিনিধিঃ
টেকনাফ উপজেলার দিন মজুর শ্রমিকরা জানেন না মে দিবস কি। কেন এই দিবসটি আন্তর্জাতিক ভাবে পালন করা হয় এটাও তাদের জানা নেই। কিভাবে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হয় তাও তাদের জানা নেই। শ্রমিকদের অধিকার স¤পর্কে তারা এখনও রয়েছে অন্ধকারে।

কারণ টেকনাফের বেশির ভাগ দিন মজুর শ্রমিক হচ্ছে রোহিঙ্গা। এই সমস্ত রোহিঙ্গা শ্রমিকদের কারণে টেকনাফ পৌর এলাকায় মে দিবস নিয়ে কোন কর্মসূচি সহজে চোখে পড়ে না। আর যে সমস্ত স্থানীয় শ্রমিক এখানে রয়েছে তারাও পেটের দায়ে মে দিবস পালন না করে কাজ করতে দেখা যায়। তারা মনে করেন মে দিবস মানে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে দলবদ্ধ হয়ে মিছিল করা, আর শ্রমিক সংগঠক নেতাদের দেয়া নাস্তা খাওয়া।

টেকনাফ পৌর এলাকার বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত থাকা বেশ কয়েকজন শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন, মে দিবস পালন করে একটা দিন যদি কাজ না করি তাহলে ছেলে-মেয়েদেরকে উপোস থাকতে হবে। তাই আমরা মনে করি মে দিবস পালন করা প্রধান কাজ নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই একজন শ্রমিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাদের জন্য এ দিন পালন করা হয় তারাই জানেনা এর ইতিহাস কিংবা আসল প্রয়োজনীয়তা কি। টাকা পেলে তাদের কাছে সব দিনই সমান।

এদিকে মহান মে দিবস পালনের নাম করে বছরের পর বছর মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো জমকালো আয়োজনের নামে হাতিয়ে নেয় হাজার হাজার টাকা।

যদিও শ্রম আইনে বলা আছে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র, সার্ভিস বই প্রদান, রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ, ছুটির রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ, ছুটির বই প্রদান, সাপ্তাহিক ছুটি, ওভারটাইম রেজিস্ট্রার, দৈনিক রেজিস্ট্রার থাকার কথা।

কিন্তু টেকনাফ পৌর এলাকার বেশির ভাগ শ্রমিকদের কাছে এই ধরণের কোন নিয়ম কানুন তো দুরের কথা তাদের কাছে শ্রমিক আইনের কোন পরিচয় পত্র ও নেই।

সরেজমিন গত ১ লা মে টেকনাফ পৌর এলাকা ঘুরে রাস্তা ঘাট, হোটেল রেস্তোরা, ও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শ্রমিকদের অবিরাম কাজ করার দৃশ্য চোখে পড়ে।

এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলার শ্রমিকলীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়নের নব নিবার্চিত চেয়ারম্যান শাহাজান মিয়া বলেন, টেকনাফ উপজেলায় বেশির ভাগ শ্রমিক হচ্ছে রোহিঙ্গা তাই তারা জানে না মে দিবস কি, কেন পালন করা হয়।

তিনি আরো বলেন আগামী বছর মে দিবস আসার আগে আমরা চেষ্টা করব তাদেরকে মে দিবস সম্পর্কে অবহিত করে জাকজমক ভাবে মে দিবস উদযাপিত করতে এবং যে সমস্ত শ্রমিকরা অবহেলিত নির্যাতিত হচ্ছে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে যাব।