মায়ানমারের রাখাইন স্টেট হতে আগত জনগোষ্ঠীকে মানবিক সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মায়ানমারের রাখাইন স্টেট থেকে আগত জনগোষ্ঠীকে মানবিক সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। ২৫ আগস্ট ২০১৭ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মায়ানমার থেকে আগত ২ লাখ ৫৪ হাজার বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠীকে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি), ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেড ক্রস (আইসিআরসি)ও পার্টনার ন্যাশনাল সোসাইটিজ (পিএনএস)এর সহযোগীতায় কক্্রবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় নেওয়া মায়ানমারের রাখাইন স্টেট থেকে আগত বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য নেওয়া মানবিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

“নো ম্যানস ল্যান্ডে” অপেক্ষমান মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে যাওয়ামায়ানমারের রাখাইন স্টেট থেকে আসা জনগোষ্ঠীকে নিারাপদ খাবার পানি ও শুকনা খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।এসব জনগনকে প্রথম পর্যায়ে ২৯ হাজার ৪৮০ লিটার নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৮২,৬৯,৭০০লিটার পানি বিতরণ করা হযেছে। এছাড়াও তাদের মাঝে কম্বল ও শীতের কাপড় বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্্রবাজার রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি এদের মাঝেনিরাপদ পানি ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছে ।বর্তমানে ফুড পার্সেল, কম্বল, তারপুলিন ও দড়ি বিতরণ, মাদুর, হাইজিন কিটস,ডিগনিটি কিট ইত্যাদি সামগ্রীবিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়াও কক্্রবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার জনগনের জীবন জীবিকার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়াও পরিবার থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়া এসকল জনগনকে পরিবারের সাথে পুনঃযোগাযোগ স্থাপন এবং নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর জানাতে কাজ করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আরএফএল বিভাগ।

রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বান্দরবান সীমান্তের ঘুমধুম নামক স্থানে স্থাপন করা হয় ইমারজেন্সি রেসপন্স ইউনিট ওরেড ক্রিসেন্ট ফিল্ড হাসপাতাল। মায়ানমারের বাস্তচ্যুত ও স্থানীয় জনগন উভয় কমিউনিটির সদস্যরাই এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। এছাড়াও ক্যাম্প এলাকায় অবস্থিত ১০টি রেড ক্রিসেন্ট স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে১ লাখ রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও এ পর্যন্ত বিভিন্ন মনো সামাজিক কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮৫ হাজার জনকে সাইকো সোশ্যাল সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

পানি ও পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতএবংগোসলের সুবিধার্তে আশ্রয় ক্যাম্প গুলোতে এ পর্যন্ত ১৫১ টি গোসলখানা ও ৩০২ টি টয়লেট নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। যার মাধ্যমে মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত জনগনেরস্বাস্থ্যসেবাঅনেকটা নিশ্চত হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফিল্ড হাসপাতালে দুর্যোগকালিন সময়েসার্বক্ষণিক জরুরী সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দূর্যোগ প্রতিরোধীপ্রিফেব্রিকেটেডস্থাপনা নির্মান করা হয়েছে। হাসপাতালে মজুদ করা রয়েছে জরুরি উদ্ধার সরঞ্জামাদি।পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে দায়িত্বরত মেডিকেল কর্মীদের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ক্ষয়ক্ষতি, ব্যবস্থাপনার উপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করা হয়েছে । দুর্যোগকালিনসময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে হাইজিন কিটস, ডিগনিটি কিটস, তারপুলিন, সেলটার কিটস বিতরণের প্রস্তুতি রয়েছে। জনগনকে সচেতন করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগেদুর্যোগ প্রস্তুতি এবং ঘূর্ণিঝড় সংকেত প্রচারপ্রশিক্ষণ এবং দূর্যোগ প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দুস্থ মানবতার সেবায় সরকারের সহযোগী একটি মানবিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু কক্্রবাজারে অবস্থানরত বাস্তচ্যুত মায়ামারের জনগনকেই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় জনগনের জন্য দুর্যোগ পূর্ববর্তী সময় হতে দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময় বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। সোসাইটি এ কার্যক্রমে শতভাগ সততা ও জনগনের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে কাজ করে থাকে।