ছাত্রলীগের নেতৃত্বে অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে আ. লীগের টিম

অনলাইন ডেস্কঃ
ছাত্রলীগের নেতৃত্বে যাতে বিপরীত মতাদর্শের কেউ আসতে না পারে সেজন্য পদপ্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে একটি টিম করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ছাত্রলীগ আমাদের সংগঠন, নেতৃত্ব যদি সঠিক না হয় তাহলে আমরাই খাটো হব জনগণের কাছে। সে বিষয়ে কি আমাদের খেয়াল নেই? যেহেতু এর সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা তাই আমাদেরতো মাথাব্যথা আছে।”

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাদের বলেন, “ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে রয়েছে আমাদের নেত্রী হলেন তাদের সাংগঠনিক নেতা। নেত্রী যেখানে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী, আর আমরাও ছাত্রলীগ করে আওয়ামী লীগে এসেছি আমাদের দায়িত্ব আছে।

“সম্মেলনে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। তাদের নেতৃত্ব তারাই নির্বাচন করবে, আর নেত্রী যেহেতু সাংগঠনিক দায়িত্বে আছেন, সেজন্য তার নির্দেশেই হবে এবং তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।”

ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনের বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “অভিযোগ আসতে পারে, এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আমরা খোঁজ নিয়েছি। এখনতো তার টার্ম ওভার হয়ে গেছে। ছাত্রলীগ তাকে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছে তাই এ বিষয়ে আমরা প্রশ্ন তুলতে পারি না।”

ছাত্রলীগে অনু্প্রবেশের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “নেত্রী নিজেও একটা টিমকে দায়িত্ব দিয়েছেন এ বিষয়ে খতিয়ে দেখতে এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে অনুপ্রবেশকারী কেউ যেন নেতৃত্বে স্থান না পায় সে বিষয়ে কঠোর যাচাই বাছাই হচ্ছে। সেজন্য আমরা কাজ করছি।”

বিকালে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ এখন খুলনার নির্বাচন আটকানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে বিএনপির অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “গাজীপুরের নির্বাচন স্থগিতের মামলার বিষয়ে দল বেদল বলা যায় না। কারণ যে লোকটি (গাজীপুরের) মমলাটি করেছিল ১০ এপ্রিল তার মামলার শুনানিতে ছিলেন মওদুদ আহমদ, তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটাতো প্রমাণিত।

“গাজীপুর ও খুলনা সিটিতে আমাদের প্রার্থীর বিষয়ে আমরা শতভাগ নিশ্চিত আছি। আমরা পপুলার প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছি। আমাদের দুই প্রার্থীই ক্লিন ইমেজের। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা জানি আমাদের প্রার্থী জিতবে, তাই আমরা কেন মামলা করতে যাব?

“গাজীপুরের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে আমাদের নেতকর্মীদের মনে হতাশার ছায়া নেমে এসেছিল, তারা ভেঙে পড়েছিল। যেখানে নিশ্চিত বিজয়ের দিকে যাচ্ছি সেখানে কেন স্থগিত করতে যাব? এর সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”

এর আগে ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে যৌথসভায় অন্যদের মধ্যে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাছান মাহমুদ, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আবদুস সোবহান গোলাপ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, রোকেয়া সুলতানা, অসীম কুমার উকিল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ