সিম নিবন্ধনের সময় এক মাস বেড়েছে

নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ৩১ মে রাত ১২টা পর্যন্ত সিম পুনঃনিবন্ধন করা যাবে। এরপর যেসব সিমের নিবন্ধন থাকবে না, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বিভিন্ন কারণে কয়েক কোটি সিম নিবন্ধিত না হওয়ায় বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষাপটে ঘোষিত সময়সীমার শেষ দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

অপরাধ কাজে সিমের ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে আঙুলের ছাপ নিয়ে মোবাইল সিম পুনঃনিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার সময়সীমা শনিবার শেষ হওয়ার ঘোষণা ছিল।

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের হাতে থাকা ১৩ কোটি মোবাইল সিমের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৮ কোটি ৩৮ লাখ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধিত হয়।

এর বাইরে আঙুলের ছাপ না মেলাসহ বিভিন্ন কারণে সোয়া এক কোটি গ্রাহক সিম নিবন্ধনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে সময়সীমা বাড়ানোর দাবি উঠে।

শনিবার বিকালে বিটিআরসিতে সংবাদ সম্মেলনে এসে তারানা হালিম বলেন, “৩১ মে রাত ১২টার পর কোনো সতর্ক সঙ্কেত ছাড়া সাময়িক নয়, আমরা সম্পূর্ণভাবে সিমটি ডি-অ্যাকটিভ করে দেব।”

এখনও যারা সিম নিবন্ধন করেননি, তাদের পুনঃনিবন্ধনের জন্য সতর্কবার্তাও দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার আগে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে অনিবন্ধিত কিছু সিম ১ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এক বারের জন্য তিন ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে।

তিনি জানান, ৩১ মে রাত ১২টার পর যে সিমগুলো বন্ধ হয়ে যাবে পরবর্তী ১৫ মাসের জন্য সেগুলোর বিক্রি স্থগিত থাকবে।

“এটা প্রধানত করা হয়েছে, বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী নাগরিকদের জন্য, শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের যারা কর্মরত আছে তাদের সুবিধার্থে। এই নম্বরগুলো কোথাও বিক্রি করা হবে না।”

03_Biometric+SIM+Registration_GP_AM_290416_001

সিম নিবন্ধনে কারিগরি সমস্যারা কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী সকালেই এক অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রচণ্ড গরমে এই কষ্ট স্বীকার করে যারা সিম নিবন্ধন করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।”

৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া থাকায় শুক্র ও শনিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সিম নিবন্ধন কেন্দ্রগুলোতে ছিল গ্রাহকদের প্রচণ্ড ভিড়।

শনিবার বিকাল নাগাদ প্রায় ৯ কোটি সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন হয়েছে জানিয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির প্রধান শাহজাহান মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিহাস।

“এ প্রক্রিয়ার সফলতার জন্য বিটিআরসি রাত-দিন চেষ্টা করেছে। জনগণ যে উৎসাহ নিয়ে এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।”

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শওকত মোস্তফা, বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমদাদ উল বারী, বিটিআরসি সচিব সরওয়ার আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।

প্রতিবন্ধীদের সিম বন্ধ হবে না

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধিত না হওয়া মোবাইল ফোন নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও প্রায় ১৫ লাখ প্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রে সেটা কার্যকর হবে না।

সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএনএসপি) ও অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস বাংলাদেশ (এমটব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা জানান প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

আঙুলের ছাপ না থাকা ও শারীরিকভাবে অক্ষমরা সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে তারানার কাছে অভিযোগ করা হয়।

শুধু আঙুলের ছাপের পরিবর্তে আইরিশ, রেটিনা, মুখমণ্ডল, ডিএনএ, স্বাক্ষর ও হাতের তালুসহ বিভিন্ন চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি ব্যবহার না করায় ক্ষোভও ঝরে প্রতিবন্ধীদের কণ্ঠে।

তখন তারানা বলেন, “সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষ আছেন। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের তালিকা ও এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করব। সেই অনুযায়ী মোবাইল নম্বরগুলো নিয়ে সেগুলো যাতে ডিঅ্যাক্টিভেট না হয় সে ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব।”

বায়োমেট্রিক পয়েন্টে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ার বিষয়ে প্রতিবন্ধী মানুষদের রিটেইলারের কাছে না গিয়ে সরাসরি অপরারেটরদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে প্রতি শনিবার প্রতিবন্ধীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

21_Tarana-Halim_300416_0001

সরকার ও বিটিআরসির পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও অপারেটরা এনআইডির সঙ্গে আঙুলের ছাপ না মেলা এবং এনআইডিতে আঙুলের ছাপ না থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের নিবন্ধনের সুবিধার্থে মিলনায়তনের বাইরে বসানো বুথ থেকে কাস্টমার কেয়ার ব্যবস্থাপকদের ভেতরে ডেকে পাঠান।

এ সময় তিনি তাদের কাছে জানতে চান, কারও আঙুলের ছাপ না থাকলে তার নিবন্ধন কীভাবে হবে?

তখন সিটিসেলের প্রতিনিধি উত্তর দেন, “যাদের আঙুলের ছাপ নাই তাদেরটা আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র নিই, এনআইডিতে যাদের সমস্যা, তাদেরটা আমরা জন্ম নিবন্ধন কার্ড দিয়ে নিবন্ধন করে দিচ্ছি।”

তখন তারানা হালিম বলেন, “যাদের আঙুলের ছাপ নেই তাদের বিষয়ে এনআইডি অফিসে টেলিফোনে যোগাযোগ করার কথা। ভাইবারে ছবি পাঠিয়ে সেখান থেকে কনফার্মেশন পাওয়ার ব্যবস্থা নিতেও আমরা বলেছি।

“জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়গুলো ছিল এনআইডি করেছে কিন্তু হাতে পাইনি তাদের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা। এনআইডি হাতে পেলে তারা আবার পুনরায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে নেবে।”

অপারেটরদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তার মানে হচ্ছে আমরা সবপক্ষ মিলে মিটিংয়ের পর মিটিং করে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেগুলো মাঠ পর্যায়ে যায়নি। যারা কাস্টমার কেয়ারে আছেন তারাও তো জানেন না।”

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এমটব মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির বলেন, “আপনারা যে সমস্যায় পড়েছেন তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে। কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়টি আমরা দেখব।”

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন পিএনএসপি মহাসচিব সালমা মাহবুব।

বিডিনিউজ