অন্য পেশাজীবি এবং পুলিশের ডিউটির মধ্যে পার্থক্য

একেএম লিয়াকত আলীঃ
অন্য পেশাজীবি এবং পুলিশের ডিউটির মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। জেনে নিন সেসব পার্থক্যগুলো।

১/ অন্য পেশার চাকরীজীবি গন নিজের রুচি মত কোট -টাই বা যে কোনো সৌখিন, আকর্ষণীয় Costume পরিধান করে অফিসে গিয়ে তাদের ডিউটি করতে পারেন। পরিধেয় বস্ত্র ব্যতিত অতিরিক্ত কোনো বস্তু তাদের ডিউটির সময় বহন করতে হয় না। কিন্তু পুলিশ প্রতিটি ডিউটির সময় একই কালারের পোষাক পরিধান করতে বাধ্য – তদুপরি সাথে বহন করতে হয় অস্বাভাবিক ওজনের বুলেট প্রুফ জ্যাকেট , উঁচু ভারী বুট, ভারী ধাতব পদার্থের আগ্নেয়াস্র এবং ভারী লোহার অস্বস্তিকর হেলমেট।

২/ অন্য পেশার চাকুরীজীবিদের দৈনিক ৮ ঘন্টা ডিউটি করতে হয়। ডিউটির পর ও সরকারী ছুটির দিনগুলিতে নিজের পরিবারকে সময় দিতে পারেন। ফলে তাদের পারিবারিক বন্ধন অপেক্ষাকৃত দৃঢ় হয়।
অপরদিকে পুলিশের কোনো কর্ম ঘন্টা নাই – অন্য পেশাজীবিদের তথা জনস্বার্থে প্রয়োজনে ২৪ ঘন্টা অমানবিক ভাবে ডিউটি করতে হয়। সরকারী ছুটির দিন বলতে কোনো দিন তাদের সার্ভিস বুকে লিখা নাই।
ফলে পরিবার থেকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়।এতে পারিবারিক বন্ধন হতে পারে অপেক্ষাকৃত দুর্বল।

৩/ অন্য পেশাজীবি বা চাকুরীজীবিরা ছাদের নীচে বদ্ধ রুমে ফ্যান বা এসির হিমেল হাওয়া উপভোগ করতে করতে কোনোরকমে ৮ ঘন্টার হিসাব শেষ করে পরিবারের সান্নিধ্যে চলে যান – কেউ তাদের খোঁজেন না। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, গরম বা শীত কোনটাই তাদের ডিউটি পালনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। পক্ষান্তরে রৌদ, বৃষ্টি, ঝড়, শীত বা গরম ইত্যাদি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই পুলিশকে খোলা আকাশের নিচে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডিউটিতে নিয়োজিত থাকতে হয়। ডিউটি শেষ হলেও অন্য পেশাজীবিদের তথা জনস্বার্থে প্রয়োজনে Breakfast, Lunch বা Dinner শেষ না করেই আবারও জরুরী তলব কলে ডিউটির উদ্দেশ্য দৌড়াতে হয়।

৪/ অন্য পেশার অফিসিয়াল চাকুরীজীবি বা ব্যবসায়ীদের ডিউটির সময় কোনরূপ কায়িক বা শারীরীক পরিশ্রম হয় না বললেই চলে। পক্ষান্তরে পুলিশকে দিনে বা রাতে, স্থলে বা জলে, সমতলে বা পাহাড়-জঙ্গলে, রৌদ-কাঁদা বা বৃষ্টিতে বিরামহীন ভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা, মাইলের পর মাইল হেটে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অপারেশন স্থলে বা ঘটনার স্থলে যেতে হয়। অনেক সময় নিজের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে সর্বশক্তি দিয়ে আসামীর পিছু পিছু ছুটতে হয়।

৫/ অন্য পেশার চাকুরীজীবিদের ডিউটি বা দায়িত্ব পালনের সময় সামান্য ভুল-ত্রুটি হতে পারে।
পুলিশের ডিউটি পালনের ক্ষেত্রে কোনোরূপ ভুল-ত্রুটি হওয়ার একটুও সুযোগ নাই। তারা কর্মক্ষেত্রে বা পেশাগত কারণে যত বড় ভূল করুক না কেন – ভুলের জন্য সর্বোচ্চ হয়তো তার পদাবনতি বা Demotion হতে পারে।

কিন্তু পুলিশ যদি ডিউটির ক্ষেত্রে কোনোরূপ পেশাগত ভূল করে কিংবা তড়িৎ সিদ্ধান্ত না নেয় বা ভূল সিদ্ধান্ত নেয় বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে – তার পরিনতিতে নিজের বা সহকর্মীদের বা যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

৭/ অন্য পেশাজীবি বা চাকুরীজীবি বা ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তি স্বার্থে সংগ্রাম বা প্রাণপন চেষ্টা করেন সফলতা লাভের জন্য ।

পক্ষান্তরে পুলিশ শুধু সংগ্রাম বা প্রাণপণ চেষ্টাই নয় রীতিমত নিজের জীবন বাজী রেখে বন্দুক যুদ্ধ করে -তাদের বা ঐসব পেশাজীবির তথা জনগনের জান ও মাল রক্ষা করার জন্য – যাদের পুলিশ চিনে না- যাদের সাথে কখনও দেখা পর্যন্ত হয় নাই এবং যারা পুলিশকে ঘৃনা করেন – যারা পুলিশকে অযথা গালাগালি করেন- যারা প্রতি মুহুর্তে পুলিশের মৃত্যু কামনা করেন – যারা কর্ত্যবরত অবস্থায় পুলিশের মৃতু দেখে আনন্দে-খুশীতে অট্ট হাসিতে উৎফুল্লিত হন।

উল্লেখিত যে কাজগুলো পুলিশ প্রতিনিয়ত করে – অন্য যে কোন পেশাজীবি বা চাকুরীজীবি বা ব্যবসায়ী বা যে কোনো জনগণ সেগুলো কি করতে পারবেন ? যদি না পারেন – তবে তাদের উচিত যারা পারেন – তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা – তাদের প্রশংসা করে উৎসাহিত করা।

We are the unwanted, doing the unthinkable for the ungrateful.
Doing so much for so long, with so little.

Now we are qualified to do anything daring with nothing –
which no other professional people can even think.
We will sacrifice so that they may live.
When a police officer is killed, it’s not an agency that loss an officer,
it’s an entire nation.

Think only once please that –
We are not Police –
We are your children,
We are your siblings,
We are your friends,
We are like your parents,
We would be your spouses,

We make a defence, what do you make ?
So stop dehumanizing Police.
Let’s appreciate your cops.

 

লেখকঃ একেএম লিয়াকত আলী

অফিসার ইনচার্জ

রামু থানা, কক্সবাজার।