টেকনাফে শিশু শ্রমিকরা পাচ্ছেনা ন্যায্য অধিকারঃকদর বেশি রোহিঙ্গা শ্রমিকের

টেকনাফ প্রতিনিধিঃ
সীমান্ত শহর টেকনাফে শিশু শ্রমিকদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার পাশাপাশি দিন মজুর শিশু শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত অবহেলার শিকার এবং ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ এই সহজ, সরল, হত দরিদ্র শিশুদেরকে দিয়ে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্টানের অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা লাভের আশায় কম টাকা দিয়ে এই শিশু শ্রমিকদের ব্যবহার করে আসছে।

৩০ এপ্রিল শনিবার বেশ কয়েকটি ঝুকিপুর্ন কাজের প্রতিষ্টান গুলোতে অমানবিক ভাবে শিশু শ্রমিকদের ঝুকিপুর্ণ কাজে ব্যবহারের চিত্র চোখে পড়ার মতো।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত টেকনাফ পৌর শহর অথচ এই পৌর শহরে যুগের পর যুগ বছরের পর বছর বিভিন্ন প্রকার ঝুকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে শিশু শ্রমিকরা। এই শিশু শ্রমিকদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু হচ্ছে রোহিঙ্গা। তারা টাকা ফেলে যে কোন ঝুঁকি নিতে দ্বিধাবোধ করে না।

অন্যদিকে টেকনাফ এ স্থল বন্দরও এখই অবস্থা। কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের এই স্থল বন্দরও ব্যবহার হয়ে আসছে রোহিঙ্গা শ্রমিকরা। আবার এই সমস্ত শ্রমিকরা বেশির ভাগ অদক্ষ্। ভারী কাজ করতে গিয়ে প্রায় সময় এই অদক্ষ্ শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটে।

বন্দর শ্রমিকদের কাছ থেকে খবর নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর ভারী মালামাল উঠানামা করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক নিমর্মভাবে প্রাণ হারাচ্ছে এবং টেকনাফের স্থানীয় শ্রমিকদের বাদ দিয়ে বন্দরের অসাধু মাঝিদের কারণে কম টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

index

এদিকে স্থানীয় গরীব, দুঃখী, মেহনতী শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, টেকনাফ স্থল বন্দরে লোভী মাঝিদের কারণে আমরা সঠিকভাবে আমাদের পারিশ্রমিক আদায় করতে গেলে মাঝে মধ্যে মাঝিদের সাথে আমাদের বিরোধ লেগে যায়। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা প্রভাব বিস্তার করে। আমাদেরকে বন্দর থেকে তাড়িয়ে দিয়ে রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে।

অপরদিকে সরেজমিনে টেকনাফ পৌর শহর ঘুরে দেখা যায়, হোটেল রেস্তোরাগুলোতে শিশু শ্রমিক দিয়ে অমানবিক ভাবে সকাল ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত অমানবিক ভাবে কাজ আদায় করে নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, পহেলা মে আসলে মনে পড়ে সে দিনটির কথা। ১৯৮৬ সালের এদিনে যুক্তরাষ্ট্রে শিকাগো শহরে মাকের্টের সামনে সর্বোচ্চ ৮ ঘন্টা কাজ ও শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনার দাবীতে কঠোর আন্দোলন করেছিল শ্রমিকরা। তাদের সেই দাবী অযোক্তিক ছিল না। তখনকার শোষক এক শ্রেণির পুলিশের গুলিতে আন্দোলনে আসা শ্রমিকদের রক্তে শিকাগো শহর ভেসে গিয়েছিল লাল রক্তের বন্যায়। এঘটনার খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে সারা বিশ্বের দিনমজুর শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের সে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের জন্য আলাদা আইন হয়েছে এবং হয়েছে নীতিমালা। এদিনটি এখন আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টি দেশে এদিন জাতীয় ছুটি হিসেবে পালন করা হয়। এদিনটি এলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতারা শ্রমিকদের দাবী নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। মিছিলে ও শ্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে। তারা দেশবাসীকে বোঝাতে চায় আমরা খুবই শ্রমিকবান্ধব। শ্রমিকের অধিকার আদায়ের জন্য নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। দিনটি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শ্রমিকদের কথা তাদের আর মনে থাকে না। অথচ এ শ্রমিকরাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আয়ের মূল চাবিকাঠি।

টেকনাফের সচেতন সমাজ মনে করেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে ব্যবসায়ী মালিকরা তাদের অবদান রাখবেন এবং তারা আরো বলেন, টেকনাফের হোটেল ব্যবসায়ীরা শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ না করার দাবী জানান।

এছাড়া স্থলবন্দরে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের বাদ দিয়ে স্থানীয় শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার আহবান জানান।