‘একসময় কোটার জন্য আফসোস করবেন এই মেধাবীরাই’

নিউজ ডেস্ক:
‘কোটা সংস্কার চেয়ে আন্দোলনের ফলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোটা থাকারই দরকার নেই। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা তিনি অন্যভাবে করবেন। তার কথার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, কোটা পুরোপুরি বাতিল হবে না। কিন্তু এখন যারা আন্দোলন করলেন, এই মেধাবীরাই একসময় কোটার জন্য আফসোস করবেন। কারণ, কোটা একদম বাতিল করা ঠিক নয়। নারীদের জন্য কোটা থাকার কারণে নারীরা অনেক এগিয়ে এসেছেন। নারী কোটা যদি না থাকে তাহলে তারা আবার পিছিয়ে পড়বেন।’
বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) বিকালে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘কোটা বাদ, এবার?’ শীর্ষক বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এ আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজেও ভিডিওটি খুব শিগগিরই দেখানো হবে।
সাংবাদিক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে অংশ নিয়েছেন সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক এবং বাংলা ট্রিবিউনের ডেপুটি নিউজ এডিটর ফাতেমা আবেদীন নাজলা।

সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম বলেন, ‘এদের (শিক্ষার্থীদের) দাবি ছিল কোটা বাতিল নয়, সংস্কার। আমি এটা খেয়াল করেছি। তারা খুবই যৌক্তিকভাবেই বলেছে। এটাও খুব স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক বলেও আমি মনে করি। তবে, এই কোটা নিয়ে সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি, বিচার-বিশ্লেষণ করেনি। এটা কিন্তু ঠিক হয়নি। এটা নিয়ে ভাবা অবশ্যই সরকারের দরকার ছিল। এর ফলেই তো শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে গেলো। সর্বশেষ, ভিসির বাড়িতে যে হামলা ঘটলো তা তো নিন্দনীয় বটেই। এছাড়া নারী হোস্টেলে মেয়েদের মারধরের অপরাধে অন্য একটি মেয়েকে জুতার মালা পর্যন্ত পরানো হলো। সে যাইহোক, এখানে ভিসির বাড়িতে হামলা নিয়ে যদি বলতে চাই, এই হামলা ভিসির বাড়িতে যারা করেছে তারা এই ছাত্ররা নয়। কারণ, এটা খুবই অর্গানাইজড। সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা, সব জিনিসপত্র ভাঙা হয়েছে। এটা অবশ্যই অন্য কারো ষড়যন্ত্রের কারণেই হয়েছে। তারা বহিরাগত বলেই আমি বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘যে মেয়েটা (ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত হল সভাপতি) ছাত্রীরা আন্দোলনে যায় বলে তাদের ওপর নির্যাতন করে, তাকে তো কেউ দারোগাগিরি করতে বলেনি। কে আন্দোলনে গেলো কে গেলো না, এটা দেখার দায়িত্ব তো তার হওয়ার কথা নয়। সে কেন মেয়েদের মারধর করে? এছাড়া ওই মারধরের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গেলো। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীর গলায় জুতার মালা পর্যন্ত পরালো। এদের কারো কাজই সঠিক নয়। এছাড়া আরও একটি কাজ খুব ভালো হয়নি বলে আমি মনে করি। তা হলো, ওই মেয়েটিকে হুট করেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হলো। এটা খুবই দ্রুত হয়ে গেলো। এই কাজটিও সঠিক হয়নি। বহিষ্কার করতে গেলেও একটি প্রসিডিউর আছে।’

জেলা কোটা তুলে দেওয়ার বিষয়ে মোফাজ্জল করিম তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধু কোটার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেছিলেন। প্রত্যেক দেশেই কিছু মানুষ পিছিয়ে পড়া মানুষ থাকেই। এ কারণেই এ দেশের কিছু মানুষের জন্য কোটা সুবিধা দিয়ে, পিছিয়ে পড়া মানুষকে একটু এগিয়ে নিয়ে আসার পরিকল্পনা হলো। দশ বছর আগে একসময় জেলা কোটাকে পর্যালোচনা করার জন্য কথা ছিল। কিন্তু এটা নিয়ে কেউ কোনও কথা বলেনি। তবে স্পষ্টতই তাদের গাফিলতি, অনীহা ছিল বলেই তারা এটা নিয়ে কাজ করেনি।’

তিনি বলেন, ‘ভিসির বাড়িতে দুই ঘণ্টা ধরে হামলা হলো সেখানে পুলিশ কোনও উদ্যোগ কেন নেয়নি, তারা কেন যায়নি, তারা কেন ঠেকালো না? এ বিষয়ে তদন্ত হওয়াও উচিত। এছাড়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কেন পুলিশ হামলা চালালো? পুলিশ হামলা চালালে ছাত্ররাও তো খেপে যাবে এটাই স্বাভাবিক।’

সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম বলেন, ‘এই আন্দোলন যখনই শুরু হয়েছে তখনই সরকারের উচিত ছিল, মেধার ভিত্তিতে কত শতাংশ চাকরি দেওয়া হয় এ বিষয়ে ছাত্রদের স্পষ্ট করে তথ্য দেওয়া। আমার ধারণা, শীর্ষ পর্যায়ে এ বিষয়ে ভালো করে পরিষ্কার করা হয়নি, যাদের দায়িত্ব ছিল, যেসব মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তার দায়িত্ব ছিল, তাদের দায়িত্ব ছিল ভালো করে বুঝিয়ে দেওয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও যখন কোটা সংস্কার নিয়ে কথা বলেছেন তার আগে তাকেও এ বিষয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি।’
মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘এই আন্দোলন কিন্তু কয়েক বছর ধরেই করা হয়েছে। তখনও আমি সমর্থন দিয়েছি। আমিও মনে করি, কোটা সংস্কার করা উচিত। তবে আমি মনে করি, হ্যাঁ, এটা সাধারণ ছাত্রদের দাবি। কিন্তু সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ খানিকটা গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। মনে হয়েছে, এটা অন্যদিকে টার্ন নিয়েছে, কেউ ইন্ধন দিয়েছে। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে যেভাবে হামলা হয়েছে, তাতে সন্দেহ থেকেই যায়, এর পেছনে একটা ইন্ধন কাজ করেছে শেষ মুহূর্তে। ভিসির বাড়িতে হামলার বিষয়ে ফেসবুকে গুজব খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভিসির বাড়িতে হামলার পেছনে একটি জেদ কাজ করেছে ছাত্রদের। আমাদের বন্ধু, আপনার সন্তান পুলিশের গুলিতে মারা গেলো, আর আপনি চুপ? কিন্তু এখানে ভিসির কী দোষ? কোটা সংস্কার নিয়ে ভিসি কী করতে পারেন? আমি মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাদই দিলাম, আমরা দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি, আমাদের কিছু চাওয়ার নেই, আমাদের সন্তানেরা মেধার ভিত্তিতেই চাকরি নেবে। সমস্যা নেই। কিন্তু দেশে নারীরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে নানা জায়গায় নারীরা কোটার মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত কাজ। কিন্তু কোটা সংস্কারের অন্দোলনে আমি দেখলাম, ব্যানারে লেখা আছে নারীদের জন্যও কোটা দরকার নেই। তাহলে সুষ্ঠ বিবেচনা হবে কীভাবে?

তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকে এই কোটা বাতিলের মধ্যে দিয়ে ইতিহাসের একটি খাদ তৈরি হলো। এই পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল, এখন নাই। ফলে আগামী দিনগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের, শহীদ পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে এই ছাত্রদের। আমি অবশ্যই প্রথমদিন থেকে তাদের সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু দায়িত্ব নিতে হবে তাদের। না হলে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। এটা ইতিহাস বিভাজনের রাস্তা তৈরি করেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান বলেন, ‘গণমাধ্যমের যে রাজনীতি আছে তা আমরা জানি এবং এই মুহূর্তে আমরা চরম রাজনৈতিক অবস্থায় আছি। আর সেই রাজনীতি এখন গণমাধ্যমে নেই, চলে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই মুহূর্তে পৃথিবীতে যত ফেসবুক ব্যবহারকারী আছেন, তার ৮০ শতাংশ ফলোয়ারস। তারা কোনও মতামত দেয় না। আর ২০ শতাংশের মধ্যে ১৫ মতামত দিলেও দেয়, না দিলেও দেয়, সক্রিয়তাও যেমন নেই তেমনি নিষ্ক্রিয়তাও নেই। আর মাত্র পাঁচ শতাংশই যা করার তা করে। আরই এই পাঁচ শতাংশের কর্মকাণ্ডকেই বাকিরা অনুকরণ করে। যে ১৫ শতাংশ সক্রিয়তা এবং নিষ্ক্রিয়তার মধ্যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোনও ঘটনা একটু সত্য-মিথ্যা যাচাই-বাছাই করে, একটু নেড়েচেড়ে দেখে। এর মধ্যে কেউ কেউ আছে, কিছু শুনলে তাদের কাছে বিশ্বাসই হবে না, দেখামাত্রই খারিজ করে দেয়, তারা ধরেই নেয়, এটা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন,‘ফেসবুকে, মুখে মুখে গুজব এলো একটি মেয়েটিকে অন্য একটি মেয়ে পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। এর ফলে ওই মেয়েকে সবাই মিলে ধরে জুতার মালা পরিয়ে দিলো। এগুলো ঠিক নয়। কেউ কিছু বলতেই পারে, একটা ভুল কেউ করতেই পারে, তার মানে এই তো নয় এর প্রতিবাদে সেটাই করতে হবে। ভায়োলেন্স এগেইনস্ট ভায়োলেন্স তো গ্রহণযোগ্য নয়। সবকিছুর মূল কথা হলো এই আন্দোলনটি ছিনতাই হয়ে গেছে। আন্দোলনটি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল পরবর্তীতে সেটা ভিন্ন দিকে চলে গেছে।’

রাশেদা রওনক খান বলেন, ‘এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারা যায় তারুণ্য অনেক সজাগ, এখনও তারা রাস্তায় নামতে পারে, তাদের দিয়ে অনেক কিছু জয় এনেছে। তবে তাদের এই আন্দোলন কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থের আন্দোলন। আজ ধর্ষণের প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে বলি তারা কিন্তু নামবে না।’

তিনি বলেন, “একটি প্লেকার্ডে লেখা দেখেছি, ‘আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা, বিয়ে করেছেন আদিবাসীকে, বাচ্চা হয়েছে প্রতিবন্ধী, এবার কোটা সামলা।’ কতটা মেধাবী হলে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মেধাবীরা এমন নিম্মমানের কথা বলতে পারেন। একটা স্পেশাল বাচ্চাকে নিয়ে বাজে কথা বলতে পারবে। এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীতে নিয়ে কথা বলছি, যারা আমার মতো সুযোগ-সুবিধা পায় না। আমি যেমন ঘরের পাশের স্কুলে পড়তে যাই, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাচ্চারা পাহাড়ের পরে পাহাড় পেরিয়ে স্কুলে যায়। তার সাথে আমার তফাৎ বুঝবো না এমন আত্মকেন্দ্রীক মেধাবী কেন হলাম? যদিও তারা চায়নি এই কোটা বাতিল হোক, কিন্তু প্লেকার্ডে তো এমন নিম্নমানের লেখা লিখেছে। এরা কোটা সংস্কার চেয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু কোটা বাতিল হলে আগামী ২০ বছর পরে, আমি নিশ্চিত, ওরা অনুশোচনা করবে এই কোটার জন্যই।’

ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বলেন, ‘কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মতো আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক দলের ছায়াতলে হয় না। ফলে এসব আন্দোলনের তখন নানান ধরনের ডালপালার সৃষ্টি হয়, তখন নানা রকম গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনকে বিতর্কিত করা হয়, এবং এর ফলাফল ভিসির বাড়ি পর্যন্ত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা যায়। সুফিয়া কামাল হলে যে ঘটনা হয়েছে, রগ কাটা বলে যা বলা হচ্ছিল, ফেসবুকে সেই ছবি দেখে মনে হয়েছে সেটা রগ কাটা নয়। কারণ, রগ কাটা এমন হয় না। অন্যদিকে কোনও একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ফেসবুক, তারাও বেশ সক্রিয় ছিল। ফলে, গুজব হোক, সঠিক হোক, দু’দিকটাই খুবই সক্রিয় ছিল ফেসবুকে।’

তিনি বলেন, ‘মহিলা হোস্টেলে যে মেয়ের পা কেটে গেছে বলে বলা হয়েছে সেটা কেউ বিশ্বাস করেছে, কেউ বিশ্বাস করেনি। যেমন, আমি করিনি। ভিডিওতে যেটা দেখিছি, এশা নামের মেয়েকে হেনস্থা করার সময় হলেই পুরুষ দুজন কর্মকর্তা ছিলেন। সেখানে ওই কর্মকর্তা গিয়েছেন, যেন সহিংসতা না বাড়ে। যদি তারা না থাকতেন তাহলে হয়তো আরও বেশি কিছু ঘটতো। কিন্তু অনেকেই মনে করতে পারে, ওই পুরুষদের সামনেই হেনস্তা করা হয়েছে। কারণ, এখানে এক একজন একেক ভাবে দেখে।’

আরিফ জেবতিক আরও বলেন, “কিছু কিছু আন্দোলনের আসলে তেমন সাংগঠনিক এবং নেতৃত্ব লাগে না। কিন্তু কথা হচ্ছে, তারা মেধাবী, তারা দেশ চালাবে, তারা কখনও আন্দোলনে অশ্লীল ভাষায় প্লেকার্ড লাগাতে পারে না। কাউকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে পারে না। প্লেকার্ডে তাদের দাবিগুলো লিখে রাখতে পারতো, কিন্তু তা না করে অশ্লীল কথা লিখেছে। এই ধরনের মেধাবী তারা? এছাড়া মতিয়া চৌধুরীর কথা যেমন মিসকোড হলো। কেউ কেউ টিশার্টে লিকে রাখছে ‘আমি রাজাকার’।”

বাংলা ট্রিবিউনের ডেপুটি নিউজ এডিটর ফাতেমা আবেদীন নাজলা বলেন, ‘প্রথম যখন কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমে মানবন্ধন করেছিল, সেই দিনটি ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি। তখন তারা নিজেরা এই মানবন্ধনের মাধ্যমে বলেছিল, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই। তখন তারা বুঝতেও পারেনি তাদের এই কোটা সংস্কারের আন্দোলন আজ এত বড় একটি পর্যায়ে পৌঁছাবে। সারাদেশের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে। তাদের কোনও সাংগঠনিক চিন্তা-চেতনা ছিল না, নেতৃত্ব ছিল না। ৫৬ শতাংশ কোটা কমিয়ে ১০ শতাংশে কমিয়ে আনাই ছিল তাদের দাবি।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে তাদের পাশে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অনেকেরও তেমন সাপোর্ট ছিল না। আস্তে আস্তে এই আন্দোলন যখন আরও সক্রিয় হলো তখন অনেকেই যৌক্তিক বলেছেন। তারা টানা প্রায় দুই মাস টানা অহিংস আন্দোলন করে গেছে। সর্বশেষ শাহবাগে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এরপর ভিসির বাড়িতে হামলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে। সবশেষ প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের কথা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন। তাদের অভিনন্দন। কিন্তু এই আন্দোলনে নারীদের হাতে প্লেকার্ড ছিল নারী কোটা চাই না। একসময় যখন প্রশাসন, শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন জায়গায় যখন দেখবে নারী নাই, তখন বুঝবে, তখন অনুশোচনা করবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন