দালাই লামা বুদ্ধগয়াতে সফরকালে মন্দির থেকে ১০ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতে বুদ্ধগয়ায় মহাবোধি মন্দিরের কমপ্লেক্স থেকে দুটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ বেওয়ারিস ব্যাগ থেকে ১০ কেজি ওজনের বোমা পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই তথ্যটি উঠে এসেছে।

‘হিন্দুস্থান টাইমস’ জানিয়েছে গত ২ জানুয়ারী থেকে ৫০ দিনের জন্য দালাই লামা সফরকালে তাঁর নিরাপত্তার জন্য ৩০০০ পুলিশ সরবরাহ করা হয়েছে।

বিহারের ডিজিপি পি কে ঠাকুর জানান, সিসিটিভি ফুটেজগুলির উপর ভিত্তি করে কিছু সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা সন্দেহভাজনদের তথ্য নিতে চেষ্ঠা চালাচ্ছি।

পুলিশ ইতিমধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করেছেন।

এ ব্যাপারে তদন্ত সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ও বাদ দেওয়া যাবেনা। আমরা অনুসন্ধান চতুর্দিকে তদন্ত চালাচ্ছি।

‘টাইমস অব ইন্ডিয়া,ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস,এনডি টিভি ও হিন্দুস্থান টাইমস’ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থানগুলো টার্গেট নিয়েছে। এজন্য উপাসনালয়্গুলো কঠোর দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ২০১৩ সালে জুলাই মাসে বিহারের বুদ্ধ গয়া মন্দির চত্বরে বোমা বিস্ফোরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এক রোহিঙ্গা কিশোর৷ ফলে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির যোগাযোগ আছে বলে মনে করছে সংস্লিষ্টরা।

বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর লাগাতার অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বিহারের বুদ্ধ গয়া মন্দির চত্বরেউপর্যুপরি বিস্ফোরণের জন্য ১৩টি বোমা রাখা হয়৷ পরে বিস্ফোরণে মহাবোধী মন্দির চত্বরের দুই জন শ্রমণ আহত হন৷ তিনটি অ-বিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়৷ অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম হায়দর আলি তদন্তকারীদের জেরায় স্বীকার করেছে যে, সে এবং এক কিশোরসহ আরও তিন জন রাঁচি থেকে এসেছিল ১৩টি বোমা নিয়ে৷ মুজিবুল্লা ও ইমতিয়াজ গয়ার বৌদ্ধ বিহারে নেমে যায়৷ তাদের বলা হয়েছিল, ৮০ ফুট উঁচু গৌতম বুদ্ধের মূর্তির নীচে বোমা রাখতে৷

মহাবোধী মন্দির চত্বরে ঢোকার আগে তারা পোশাক পালটে বৌদ্ধ ভিক্ষুর পোশাক পরে ভেতরে ঢোকে৷ প্রথম বোমাটি রাখে অনিমেষ লোচান মন্দিরে৷ দ্বিতীয় বোমাটি মহাবোধী বৃক্ষের নীচে, যেখানে গৌতম বুদ্ধ মোক্ষ বা বুদ্ধত্ব লাভ করেছিলেন৷ তৃতীয়টি একটি অ্যাম্বুলেন্সের তলায় এবং চতুর্থটি রাখা হয় চত্বরের আরেকটি ছোট মন্দিরে৷ বোমাগুলিতে টাইমার দেওয়া ছিল, ভোর ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ফাটে৷ কারণ, ঐ সময়েই বৌদ্ধ ভক্ত এবং স্থানীয় পূণ্যার্থীদের ভীড় হয় সবথেকে বেশি৷

এদিকে বুদ্ধ গয়ার পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কালচাকড়া এলাকা থেকে বেওয়ারিস রেখে যাওয়া ব্যাগ থেকে দুইটি বোমা উদ্ধার করে।

এসময় ব্যাগ থেকে বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়। বোমা বিষেজ্ঞরা ইতিমধ্যে নিরঞ্জজনা নদীতে নিয়ে ফিউজ করে।

মগদের ডিআইজি বিনয় কুমার , এসপি গরিমা মল্লিক ও গয়ার বিচারপতি অভিষেক কুমার সিং মধ্যরাতে বুদ্ধগাতে পৌঁছান এবং পরিস্থিতির অবস্থা জারি করেন।

এ ব্যাপারে আরো সার্বিক তদন্ত চালাচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here