নাইক্ষ্যংছড়িতে আলাদা ইউপি গড়ে তুলার স্বপ্ন নুরুল ইসলামের

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরীঃ
শুরুটা ১৯৮৮ সালে। সেই থেকে আজ অবদি নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় ইউপি সদস্যের দায়িত্ব পালন করছে সমাজ সেবক ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী নুরুল ইসলাম। সর্বশেষ ২৩ এপ্রিল শনিবার তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ নং সাধারণ সদস্য পদে ফের জয়লাভ করে টানা ৬ষ্ঠ বারের মত (ডাবল হেট্রিক) ইউপি সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। এ কৃতিত্ব মৃত ছিদ্দিক আহমদের ছেলে নুরুল ইসলামের (৫৪) সম্মান, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে আরও উচ্চ আসনে নিয়ে গেল।

সরেজমিনে গেলে কথা হয় গৌরব অর্জনকারী সেই নুরুল ইসলামের সাথে। এসময় তিনি বলেন, এলাকার লোকজন আমাকে খুব বেশি ভালোবাসেন। এই জন্য তাদের মহামূল্যবান রায় বার বার আমার পক্ষে আসে। বিগত ১৯৯৩ সন হতে ২০১১ পর্যন্ত আমার সহধর্মীনি সাজেদা বেগমও ইউনিয়নের ১ নং সংরক্ষিত নারী আসনে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলো। মূলত আমরা এলাকার সাধারণ ও অসহায় মানুষের পক্ষে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করি। নির্বাচন আসলে তারাও আমাদের পরিবারকে বিমূখ করেননা। এ জন্য ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও পাহাড়ী জনপদ। শিক্ষা কার্যক্রম ভালো থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। বেলতলি-ছাগলখাইয়া-ক্ষুরিক্ষং সড়কের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ সড়ক অনুন্নত থাকায় চিকনছড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের দরপত্র আহবান করার পরও কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। যে ক্লিনিক স্থাপন করার জন্য আমি ৮ শতক জমি দান করেছি। ওই সড়কের উন্নয়ন হলেই এতদঞ্চলের দৃশ্যপট বদলে যাবে। তাই আগামীতে এ বিষয়ে জোর দৃষ্টি দিব।

এছাড়া ২৭৭ নং ক্ষুরিক্ষং, ২৮২ নং কামিরছড়া ও ২৭৯ নং বাঁকখালী মৌজা নিয়ে আলাদা ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলার স্বপ্ন রয়েছে। এসব এলাকায় লোকসংখ্যা রয়েছে ৬ হাজারের বেশি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপিকে সাথে নিয়ে দোছড়িকে আলাদা করে আরেকটা ইউনিয়ন গড়ে তুলতে পারলেই উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ও আন্তরিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম ১৯৭৯ সালে গর্জনিয়া ফয়জুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল, ১৯৮১ সালে একই প্রতিষ্টান থেকে আলিম, ঈদগাঁও আল মাছিয়া ডিগ্রী মাদ্রাসা থেকে ১৯৮৩ সালে ফাজিল পাশ করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ অবধি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি নারী শিক্ষার অগ্রগতির বিষয়ে কাজ করছেন। চিকনছড়ি জামে মসজিদ প্রতিষ্টা করার সময় নিজেই ৮০ শতক জমি বন্দোবস্তি ও বাঁকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের সময় এক একর জমি দানসহ অনেক উন্নয়ন কার্মকান্ডে তিনি অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন।

নুরুল ইসলামের দুই ছেলে দুই মেয়ে। তৎমধ্যে বড় ছেলে মোজাহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছে। বড় মেয়ে আফসানা ইসলাম রুমি ও ছোট মেয়ে ফারজানা ইসলাম সুইটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়াশোনা করছে। আর ছোট ছেলে তাওসিফুল ইসলাম সবেমাত্র নাইক্ষ্যংছড়ি ছালেহ আহমদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম পশ্চিম ছাগলখাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, বাঁকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্টাতা সভাপতি ও বর্তমান দাতা, চিকনছড়ি জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, চিকনছড়ি ফুরকানিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি, মাঝিরকাটা মাওলানা আলিমদন জামে মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছাড়াও বহু সামাজিক কর্মকান্ডে সমপৃক্ত রয়েছেন। এছাড়াও এর আগে তিনি মাঝিরকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্যদের সভাপতি, লেম্বুছড়ি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্যদের সদস্য ছিলেন।