টেকনাফে হত্যার ঘটনায় ছৈয়দ করিমকে প্রধান আসামী করে মামলা, নিহতের স্ত্রী আটক

টেকনাফ প্রতিনিধিঃ
টেকনাফে এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। জড়িত থাকার অপরাধে নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগমকে পুলিশ আটক করেছে।

২২ এপ্রিল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মোহাম্মদ হাশেম (৩৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি হত্যা করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা।

নিহত যুবককের বাড়ি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবির পাড়া। সে নজির আহমদ সওদাগরের ছেলে।

এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল ছোট হাবিবপাড়ার মৃত হাকিম আলীর ছেলে নজির আহমদ সওদাগরের বাদী হয়ে ছৈয়দ করিমকে প্রধান আসামী করে ৬জনকে এজাহার ভুক্ত আসামী করে মামলা দায়ের করেন এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী হাছিনা বেগমকে আটক করেছে মডেল থানার পুলিশ।

এই হত্যার মামলার অন্য আসামীরা হচ্ছে, কক্সবাজার নতুন লারপাড়ার এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. ছৈয়দ করিম (৩০), টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবিবপাড়ার এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদ এর ছেলে আবুল কালাম (২৫), টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার মৃত পুতু মিয়ার ছেলে দিল মোহাম্মদ দিলু (৩০), টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাজমপাড়া এলাকার মৃত আলী চানের ছেলে মো. আবু ছিদ্দিক (৩৫) ও তার ভাই জসীম উদ্দিন (২৫), টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাজমপাড়া এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের মেয়ে নিহত মো. হাশিমের স্ত্রী হাছিনা বেগম (২৭) সহ আরো ৬/৭ অজ্ঞাতনামা আসামী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে আরো জানা যায়, ২২ এপ্রিল শুক্রবার সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রী হাছিনা বেগম (২৮) মোবাইল করে বাপের বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন। হঠাৎ করে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ৮-৯ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীর সামনে মো. হাসেমকে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি করে আসামীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর খবর পেয়ে থানা পুলিশের উপ- পরিদর্শক কাঞ্জন দাশ ও সুবীর পালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

মেডিকেল অফিসার ডা : শহিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে আনার আগে তার মৃত্যু হয়েছে। এই সময় নিহত হাশেমের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন দেখা গেছে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মজিদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অবৈধ পাওনা টাকা ও পূর্ব শক্রতার জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে রাতেই লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।