পেকুয়ার কেপিএলের সপ্তম খেলায় ছয় উইকেটে জয়ী ড্রাগন্স ক্রিকেট: ইলেভেন ব্লাস্টার্সের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানে জিততে হবে পল্লীবন্ধু ক্রিকেট কিংসকে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের কাছারীমোড়া প্রিমিয়ার লিগের (কেপিএল) দশম আসরের প্রথম রাউন্ডের সপ্তম খেলায় পেকুয়া সদরের সাংবাদিক দিদারুল করিমের পল্লীবন্ধু ক্রিকেট কিংসকে ছয় উইকেটে হারিয়ে শিলখালীর মিজানুর রহমানের ড্রাগন্স ক্রিকেট জয়ী হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে তিনটায় কেপিএল মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী মঙ্গলবার ইলেভেন ব্লাস্টার্সের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানে জিততে হবে পল্লীবন্ধু ক্রিকেট কিংসকে। পরপর দুইটি ম্যাচে হারার পর পল্লীবন্ধু কঠিন সমীকরণের মুখোমুখি হচ্ছে। ইলেভেন ব্লাস্টার্সের বিপক্ষে জিততে না পারলে টূর্ণামেন্ট থেকে ছিটকে পড়বে পল্লীবন্ধু।

বিকেল তিনটায় দুই দলের মধ্যে টস করেন আম্পায়ার সুজিত দাশ ও নুর মোহাম্মদ মামুন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নির্ধারিত ১২ ওভারের খেলা। টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পল্লীবন্ধু ক্রিকেট কিংস। ওপেনার হিসেবে মাঠে নামেন বিদেশী খেলোয়াড় আবদুল্লাহ ও শাওন। ড্রাগন্সের নাঈমের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন শাওন। মাঠে নামেন দলের অধিনায়ক সুমন। তিনিও শূণ্যরানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। মাঠে নামেন অভি। তিনিও শূণ্যরানে আউট হলে পল্লীবন্ধু শিবিরে হতাশা নেমে আসে। আব্দুল্লাহ একাই পল্লীবন্ধুকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিচ্ছেলেন। তবে অভির পর রিমন মাঠে নেমে আট রান করে রানআউটের ফাঁদে পড়লে চরম বিপর্যয়ে পড়ে উদ্বোধনী ম্যাচে ৪৩ রানে জয়ী হওয়া পল্লীবন্ধু ক্রিকেট কিংস। কায়েম আর আব্দুল্লাহ পল্লীবন্ধুকে খাদের কিনার থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন কিন্তু না! ড্রাগন্সের আইকন মোরশেদের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন আব্দুল্লাহ। এরপর কায়েম, রুমান, কায়েস, আরকান ও আবদুল আজিজ মাঠে নামলেও কায়েস ছাড়া কেউ ব্যক্তিগত দশ রানের বেশি নিতে পারেননি। সব উইকেট হারিয়ে পল্লীবন্ধু সংগ্রহ করে ৮২ রান। ড্রাগন্সের আইকন মোরশেদ চার উইকেট শিকার করেন। নাঈম, তানভির ও হাকিম শিকার করেন এক উইকেট করে।

৮৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নামেন ড্রাগন্স ক্রিকেটের দুই ওপেনার নাইম ও মোরশেদ। দুই ওপেনার মাঠে নেমেই চাপে ফেলে দেয় পল্লীবন্ধু ক্রিকেট কিংসকে। তবে পরিমিত বোলিংয়ে খুব স্লোলি রান হচ্ছিল। কোনো উইকেট না হারিয়ে ড্রাগন্স ক্রিকেট তুলে নেয় ৩৪ রান। কায়েমের বলে নাইম ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে মাঠে নামেন মতিন। তিনি শূণ্য রানে ফিরে যান। এরপর ক্রীজে আসেন বিদেশী খেলোয়াড় কুমিল্লা থেকে আগত তানভীর। তিনি সুমনের বলে আউট হয়ে গেলে মাঠে নামেন ইনচান। কায়েসের বলে ১৬ রান নিয়ে দলের আইকন মোরশেদ আউট হলে মাঠে নামেন জুনাইদ। জুনাইদ ও ইনচান একে অপরকে ভালো সঙ্গ দিচ্ছিলেন। তাঁদের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুন্যে ড্রাগন্স ক্রিকেট পৌঁছে যায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ১২ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ টপকে দেন জুনাইদ ও ইনচান। এই ম্যাচে জুনাইদ ১৯ রান ও ইনচান ২০ রান সংগ্রহ করে অপরাজিত থাকেন। কায়েস দুইটি ও কায়েম-সুমন একটি করে উইকেট শিকার করেন।

খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন ড্রাগন্স ক্রিকেটের আইকন মো. মোরশেদ। তিনি চার উইকেট ও ব্যক্তিগত ১৬ রান নিয়ে ম্যাচ সেরা হন। ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বরাবরে মতোই বেলাল উদ্দিন বিল্লাল ও এফ এম সুমন।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণ। কেপিএল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাহেদুল ইসলাম শাহেদের সভাপতিত্বে ও কেপিএল পরিচালনা কমিটির মহাসচিব তানজিমুল ইসলাম জিসাদের পরিচালনায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার তুলে দেন পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ ও পেকুয়া মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন পরিচালনা কমিটির সদস্য ইসমাঈল হোছাইন সিকদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিলখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শেখ ফরিদুল আলম, কেপিএলের প্রধান উপদেষ্টা এস এম হানিফ, উপদেষ্টা মাস্টার এহেছানুল হক, পেকুয়া ইউপি সদস্য জিয়াবুল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি রানা সিকদার।

৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় টূর্ণামেন্টের ৮ম খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মুখোমুখি হবে পেকুয়া সদরের সাংবাদিক দিদারুল করিমের পল্লীবন্ধু ক্রিকেট কিংস ও মগনামার ইলেভেন ব্লাস্টার্স।