তামিমের সেঞ্চুরি, মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে রান

ক্রীড়া ডেস্ক:

প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং অনুশীলনটা দারুণ হল তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহর। দুই দলের হয়েই ব্যাটিং করা মুশফিকুর রহিম কাজে লাগান দ্বিতীয় সুযোগ। মাশরাফি বিন মুর্তজার খরুচে বোলিংয়ের দিনে নিজেকে মেলে ধরলেন রুবেল হোসেন।

প্রস্তুতি ম্যাচ তাই ফল নিয়ে মাথা ব্যথা নেই দুই দলের কারোরই। তামিমের দারুণ সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ গড়া বাংলাদেশ লাল দল পেল অনায়াস জয়। বাংলাদেশ সবুজ দলকে হারাল ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে দলকে ভালো শুরু এনে দেন তামিম। দলে ফেরার আশা জাগানো এনামুল হকের সঙ্গে গড়েন ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক সাকিবের সঙ্গে তামিমের জুটি ৫৭ রানের।

এনামুল ফিরেন ২১ রান করে। ওয়ানডে সিরিজেও তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামার পথে থাকা সাকিব বিদায় নেন ২৪ রান করে। তাসকিন আহমেদকে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। পরের বলে মুশফিককে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের আশা জাগান তাসকিন।

হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেওয়া মাহমুদউল্লাহ তামিমের সঙ্গে গড়েন দারুণ এক জুটি। উইকেটের চারপাশে শট খেলা বাঁহাতি ওপেনার সেঞ্চুরিতে পৌঁছান নাজমুল ইসলাম অপুকে এগিয়ে এসে লংঅন দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে। পরের বলে চার মেরে মাঠ ছাড়েন তামিম। ১১৯ বলে খেলা তার ১০৪ রানের ইনিংসে ১০টি চারের পাশে ছক্কা দুটি।

তিন অঙ্কের পথে ছিলেন মাহমুদউল্লাহও। ফিরতি ক্যাচ নিয়ে তাকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। ৭৫ বলে খেলা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহর ৮৭ রানের দারুণ ইনিংসটি গড়া ৫টি ছক্কা ও দুটি চারে।

অলরাউন্ডার সাইফকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরেন সাব্বির। শেষের দিকে আবুল হাসানের (৩৫) ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তিনশ ছাড়ায় বাংলাদেশ লাল দলের সংগ্রহ।

ত্রিদেশীয় সিরিজের সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যানের প্রায় সবাই ছিলেন লাল দলে। সম্ভাবনাময় বোলারদের বেশিরভাগ ছিলেন সবুজ দলে। সেদিক থেকে শনিবারের লড়াইয়ে জয়ী ব্যাটসম্যানরাই।

শেষের দিকে একের পর এক ফুলটস দিয়ে যাওয়া মাশরাফি ৮৭ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। মুস্তাফিজ ২ উইকেট নেন ৪৭ রানে। দলে জায়গা হারানোর শঙ্কায় থাকা তাসকিন ৪৩ রানে নেন দুটি। তিন স্পিনার নাসির হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল ছিলেন উইকেটশূন্য।

দলে জায়গা হারানোর শঙ্কায় থাকা সৌম্য সরকার, লিটন দাস ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ। অনেকটা সময় ক্রিজে থাকা সৌম্য দুটি চারে ফিরেন ১৮ করে। আবুল হাসানের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ধরা পড়েন সীমানায়।

তার আগে মোহাম্মদ মিঠুনকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন রুবেল। তার দ্বিতীয় শিকার ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হওয়া লিটন।

নাজমুল হোসেন শান্ত, নাসির হোসেন পারেননি সুযোগ কাজে লাগাতে। দুই জনই আউট হন থিতু হয়ে। লাল দলের হয়ে তাসকিনের ইয়র্কার সামলাতে না পেরে গোল্ডেন ডাক পাওয়া মুশফিক সফল সবুজ দলের হয়ে খেলেন অপরাজিত ৪৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস।

মুশফিককে ঘিরে খেলতে পারেননি সবুজ দলের ব্যাটসম্যানরা। আরিফুল হক যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। শেষ চার ব্যাটসম্যানের মধ্যে সাইফ (১৩) ছাড়া দুই অঙ্কে যেতে পারেননি কেউই।

২১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সবুজ দলের সেরা বোলার রুবেল। বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার ৩ উইকেট নেন ৫১ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ লাল: ৫০ ওভারে ৩২০/৬ (তামিম ১০৪* (অবসর), এনামুল ২১, সাকিব ২৪, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৮৭, সাব্বির ২০, হাসান ৩৫*, হায়দার ৪*, সানজামুল ৪*; মাশরাফি ০/৮৭, মুস্তাফিজ ২/৪৭, নাসির ০/২৬, সাইফ ২/৪৪, মিরাজ ০/৩০, তাসকিন ২/৪৩, নাজমুল ০/৪১)

বাংলাদেশ সবুজ: ৪৩.২ ওভারে ১৮৩ (মিঠুন ৩২, সৌম্য ১৮, লিটন ৭, শান্ত ১৩, নাসির ২৫, মুশফিক ৪৪*, আরিফুল ৯, সাইফ ১৩, মাশরাফি ৭, মিরাজ ৫, নাজমুল ১; হায়দার ৩/৫১, জায়েদ ১/৩২, রুবেল ৩/২১, হাসান ১/৩১, সানজামুল ১/২৯, মাহমুদউল্লাহ ১/৪, সাব্বির ০/১৩)

ফল: বাংলাদেশ লাল দল ১৩৭ রানে জয়ী

সূত্র: বিডিনিউজ।