রামুর কাউয়ারখোপে নৌকা পাচ্ছেন শফিউল আলম ॥ জনতার আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

সোয়েব সাঈদ, রামু।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন ও তৃণমূল নেতাদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়া বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সচিব শফিউল আলমকে আওয়ামীলীগ কেন্দ্রিয় কমিটি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদানের খবরে এলাকায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

শনিবার ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটায় কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে কাউয়ারখোপ বাজারে বিশাল মিছিলে পরিনত হয়। মিছিলটি বাজার সহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিশাল মিছিল শেষে কাউয়ারখোপ বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক মোঃ হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি তারেক আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন ভরসা, ৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি আলী আহমদ সহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক মোঃ হোসাইন বলেন, রাতের আঁধারে বিএনপি-জামায়াতের কিছু লোক শেখ হাসিনার নৌকা ঠেকাতে জনবিচ্ছিন্ন একজন লোকের পক্ষে কয়েকটি কলা গাছ রোপন করেছে।

তারা তৃণমূল আওয়ামীলীগের মনোনীত কাউয়ারখোপবাসীর প্রিয়মুখ শফিউল আলম নৌকা প্রতীক পাচ্ছে শুনে ঈর্ষান্বিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ অর্জনে বাধা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তিনি কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের হীন কাজের তীব্র নিন্দা জানান।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি তারেক আহমদ বলেন, সময়ের সাহসী সন্তান আওয়ামীলীগ নেতা শফিউল আলমের মনোনয়ন নিশ্চিত করার খবরে এলাকায় জনমনে খুশির জোয়ার শুরু হয়েছে। এ নিয়ে মনোনয়ন না পাওয়া মোস্তাক আহমদ সহ ষড়যন্ত্রকারিরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, মোস্তাক আহমদ একসময় ছাত্রলীগের সভাপতি থাকলেও মাত্র চারমাসে বহিস্কৃত হয়ে ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। যার ফলে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধি অপরাধে দন্ডিত মীর কাসেম আলীর প্রতিষ্ঠান খুনিয়াপালং এর রাবেতা আল ফুয়াদ স্কুলে চাকরি করেছিলেন। যেখানে জামায়াত-শিবির ছাড়া কেউ চাকরি পায়না।

৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আলী আহমদ বলেন, তৃণমূল আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলম একজন দানশীল, ন্যায়বান লোক ও আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ। বিগত বন্যায় তিনি একমাত্র ব্যক্তি শেখ হাসিনার পক্ষে নিজ অর্থায়নে বন্যার্তদের লক্ষ লক্ষ টাকা সাহায্য করেছেন। তিনি নৌকা পেতে যাচ্ছেন শুনে আমার মতো অনেক মানুষ আনন্দে আত্মহারা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ্য মাননীয় নেত্রী যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য রামু উপজেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে গত ৬ মার্চ কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় শফিউল আলমকে তৃণমূল নেতারা সমর্থন প্রদান করেন।

শফিউল আলম ১৯৭২ সালে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি চাকরিকালীন সময়ে রাজনীতিতে দলীয় পদে সক্রিয় না হলেও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ইউনিয়নের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলের পক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে কাউয়ারখোপ কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়ায় তিনটি ইউনিয়নে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি অবসর নেয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন।