উখিয়ায় জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে ডা: উত্তম কুমার বড়ুয়া: রেবতপ্রিয় মহাথের’র জীবন কর্ম অনুকরণীয় ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে

আমাদের রামু প্রতিবেদক:
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, রেবতপ্রিয় কোন ভিক্ষু বা ভিক্ষুনীর ছেলে নয়। সাধারণ মানুষের ঔরসজাত সন্তান। সে একজন সাধারণ গৃহী ছিলেন। আজ একজন মানুষ সংসার ত্যাগ করে এক থেকে অনেকে পরিণত হয়েছে। রেবতপ্রিয় আজ একজন নয়। শতশত ভিক্ষুসংঘের সমাবেশ ও এ রকম নান্দনিক উপস্থিতি তা প্রমাণ করে দিয়েছে। আজ আমরা সবাই নিজের মনে করে এ আঙ্গিনায় তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে এসেছি।

২৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সব মানুষই কর্মের অধীন। জন্মিলেই মরিতে হবে। কর্মের বিপাকে আজ রেবতপ্রিয় আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু তাঁর জীবন কর্ম এ সমাজের জন্য অনুকরণীয়, অনুস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনে তাঁর ভুমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

প্রথম পর্বে প্রধান সদ্ধর্মদেশকের ভাষণে পটিয়া কেন্দ্রীয় বিহারের অধ্যক্ষ ড. সংঘপ্রিয় মহাথের বলেন, রেবতপ্রিয় মহাথের’র শ্রামণ্য জীবন, ভিক্ষু জীবন সমগ্র জীবনব্যাপী অহিংসার বাণী প্রচার করেছেন। বুদ্ধের শিক্ষা সেই মৈত্রীর কথা, অহিংসার কথা তিনি এ অঞ্চল তথা বিশ্বব্যাপী প্রচার করেছেন। আমাদের সমাজকে আলোকিত করতে তিনি মহামানব গৌতম বুদ্ধের অহিংসার বাণী চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আজ তাঁর প্রিয়শিষ্য জ্ঞানলংকার ভারতবর্ষে বিশ্ব নন্দিত প্রতিষ্ঠান করে এবং অসংখ্য শিষ্য-প্রশিষ্য এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি বলেন, রেবতপ্রিয় মহাথের তাঁর জীবনীশক্তি দিয়ে ভিক্ষু মহাসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচীতে উপস্থিত থেকে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি যে একজন যোগ্য এবং প্রজ্ঞালোকের উত্তরসূরি। প্রয়াত রেবতপ্রিয় মহাথের হলেন ষষ্ট সংগীতির নেতৃত্বদানকারী ও মিয়ানমার সরকার কর্তৃক অগ্গমহাপন্ডিত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রয়াত প্রজ্ঞালোক মহাথের’র অন্তিম শিষ্য প্রয়াত: শাসনবংশ মহাথের’র প্রিয়শিষ্য।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে পাতাবাড়ী সবুজ চত্বরে প্রয়াত রেবতপ্রিয় মহাথের’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে উখিয়া ভিক্ষু সমিতির সভাপতি শ্রীমৎ এস. ধর্মপাল মহাথের’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভদন্ত প্রিয়ানন্দ মহাথের, সংঘরাজ ভিক্ষু মহামন্ডল এর সভাপতি ভদন্ত জিনালংকার মহাথের, ভদন্ত পাঞাওয়ারা মহাথের, ভদন্ত পাঞাচারা মহাথের, ভদন্ত ইন্দ্রবংশ মহাথের, ভদন্ত বিমলজ্যোতি মহাথের, ভদন্ত ঞানাবাচা মহাথের, ভদন্ত সারমিত্র মহাথের, ভদন্ত শীলানন্দ মহাথের, ভদন্ত করুণাশ্রী মহাথের, ভদন্ত এস. জ্ঞানপ্রিয় থের, ভদন্ত শীলপ্রিয় থের, ভদন্ত জ্যোতি আর্য ভিক্ষু, ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু।

বিশেষ সদ্ধর্মদেশক ছিলেন ভদন্ত শাসনপ্রিয় থের, ভদন্ত জ্যোতি প্রজ্ঞা থের, ভদন্ত জ্যোতি লংকার থের, ভদন্ত জ্যোতি ধর্ম থের, ভদন্ত জ্যোতি শান্ত থের, ভদন্ত সুমন থের। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক রাংকূট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের পরিচালক কে.শ্রী জ্যোতিসেন থের। পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন প্রাক্তন ইউপি সদস্য মধুসূধন বড়–য়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভদন্ত সৌরবোধি ভিক্ষু ও ভদন্ত আনন্দপ্রিয় ভিক্ষু।

দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির প্রাক্তন চেয়ারম্যান রাখাল চন্দ্র বড়ুয়া। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দিল্লী থেকে আগত ড. কচ্চায়ন মহাথের। উপ-সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত “প্রয়াত রেবতপ্রিয়’র জীবন, সমাজ ও সদ্ধর্ম রক্ষায় অবদান শীর্ষক সেমিনারে” অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন চটগ্রামের কলেজ পালি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অর্থদর্শী বড়ুয়া, কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী প্রদীপ্ত খীসা, শংকর বড়ুয়া। দ্বিতীয় পর্বে মঙ্গলচারণ করেন ভদন্ত কর্মেশ্বর ভিক্ষু ও ভদন্ত নন্দশ্রী ভিক্ষু। সঞ্চালনা করেন মধু বড়ুয়া ও নিপুল বড়ুয়া।

দিনের শুরুতে বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা করা হয়। ভিক্ষু সংঘের প্রাত:রাশ, ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান, সদ্ধর্মালোচনা করেন প্রাজ্ঞ ভিক্ষুসংঘ। উল্লেখ্য অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক ছিলো জেলার বিভিন্ন গ্রাম আগত ৮টি দলের আলং নৃত্য পরিবেশনা।

শুক্রবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক, পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপিএবং দেশ-বিদেশ হতে আগত প্রাজ্ঞ ভিক্ষুসংঘ ও পদস্থ কর্মকর্তারা।