পর্যটকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ শহরের যানজট নিরসনকল্পে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরো কার্যকরী করে তোলার লক্ষ্যে সমন্বয় সভা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
পর্যটকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ শহরের যানজট নিরসনকল্পে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরো কার্যকরী করে তোলার লক্ষ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সকাল ১০.৩০ টায় কউক সম্মেলনকক্ষে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে: কর্ণেল (অব:) ফোরকান আহমদ।

তিনি বলেন, এই শহরকে একটি পরিকল্পিত রূপে সাজাতে হলে পরিকল্পিত নগরায়নের পাশাপাশি পর্যটকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং যানজট নিরসন করা খুবই জরুরী। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করার জন্য আমাদের সবাইকে অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। বর্তমানে যানজট সমস্যা, নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ইত্যাদি কারণে পর্যটকেরা বিমূখ হচ্ছে। তাই কক্সবাজারকে ব্র্যান্ডিং হিসেবে উপস্থাপন করতে হলে অবশ্যই পর্যটকসেবাকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন অতিরিক্ত ইজিবাইক (টমটম) এবং সিএনজির বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজটের মূল কারণ।

এ ব্যাপারে তিনি উপস্থিত সকলের মতামত চাইলে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, শহরে বর্তমানে পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং লাইটিং এর কাজ চলমান রয়েছে। যানজট নিরসনের লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই অবৈধ টমটমের বিরুদ্ধে পৌরসভা, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, টমটমের বিরুদ্ধে বারবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু কোনভাবেই তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই কক্সবাজার পৌরসভা, ট্রাফিক পুলিশসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় এই সমস্যা নিরসন করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন।

এক্ষেত্রে কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী শহরের যাবতীয় হোটেলগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পার্কিং এর ব্যবস্থা করার কথা বলেন তাছাড়া তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি সব খালি জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে হলে খালি জায়গা প্রয়োজন। তাই তিনি জেলা পার্ক ময়দান রক্ষা করা প্রয়োজন বলে মতামত ব্যক্ত করেন।

পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি সহকারী পুলিশ সুপার (সদর), মু: সাইফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের যানজট নিরসনের জন্য আমরা সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সার্বিক সহযোগিতা পেলে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে যানজট নিরসন করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শহরের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) লে: কর্ণেল মোহাম্মদ আনোয়ার উল ইসলাম।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মো: মোজাহিদুল ইসলাম, ওসি, রামু ক্রসিং হাইওয়ে, কাজী ফজলুল করিম নির্বাহী প্রকৌশলী, কউক, বিনয় কুমার বড়ুয়া- ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগ, মো: রিয়াজুল হক, সহকারী প্রকৌশলী, বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড, ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, বোর্ড সদস্য, কউক এবং সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার ইনস্ট্রিটিউট, এডভোকেট প্রতিভা দাশ- বোর্ড সদস্য কউক, এম. সাকের আহমদ, পুলিশ পরিদর্শক, ট্যুরিস্ট পুলিশ, কক্সবাজার এবং বিআরটিএ এর প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন বাস মালিক সমিতি, টমটম, হোটেল-মোটেলের প্রতিনিধিসহ ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here