নাইক্ষ্যংছড়িতে হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের এই সাঁকোটি

আব্দুল হামিদ:
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিছামারা গ্রাম এলাকায় একটি ব্রিজের অভাবে বাঁশের তৈরী সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করছে কয়েক হাজার মানুষ। ঝুকিপূর্ণ এই সাকো দিয়ে পারাপারের সময় মাঝেমধ্যেই ঘটছে দূর্ঘটনা। তবু থেমে নেই শত শত শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুনের জীবন যাত্রা।

জীবিকার তাগিদেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোর উপর চলাচল করছে তারা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জেলা পরিষদসহ সাংসদ ও উন্নয়ন বোর্ড বরাবর আবেদন করেও কোন কাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিছামারা গ্রাম একটি জনবহুল গ্রাম।

ইউনিয়নের মধ্যে এই গ্রামটি নাইক্ষ্যংছড়ি খালের দুই পারে যেখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার লোকের বসবাস। স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকরীজীবি, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের বসবাস এখানে। দক্ষিণ তাংরা বিছামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শতশত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র ভরসা হল বাঁশের তৈরী এই সাঁকো।

সম্প্রতি জীবনের ঝুকি নিয়ে এই সাকো দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় সাকো ভেঙ্গে নিচে পড়ে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হবার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া, এখানে নানা ধরনের কৃষিজ পন্য উৎপাদন হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী এই এলাকাটি একটি চলাচল উপযোগী ব্রীজের অভাবে অন্যান্য এলাকার চাইতে পিছিয়ে রয়েছে। পারাপার উপযোগী ব্রিজ না থাকায় এখানকার উৎপাদিত কৃষিজপন্য বাজারজাতকরনে দেখা দেয় নানা সমস্যা।

ফলে সময়মত কৃষিজপন্য বাজারজাত করতে না পারায় আর্থিকভাবে লোকসানের মুখোমুখি হন এখানকার ভুক্তভোগী কৃষকেরা। প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে বিছামারার গ্রামের ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচলের জন্য ভরসা নিজেদের উদ্যেগে তৈরী ৭-১০টি বাঁশ দিয়ে বাঁশের সাকো। বর্ষাকালে এখানকার মানুষের দূভোর্গ চরমে ওঠে।

বর্ষাকালে বৃষ্টিতে সাঁকো ভিজে চলাচলের সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটতেই থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা যেন গা সওয়া হয়ে গেছে তাদের। অবস্থা এমন যেন বৃহত্তর বিছামারা গ্রামবাসীর যাতায়াতের এই দুরাবস্থা দেখার যেন কেউ নেই। তবে এই সাকো পারাপারের সময় সবচেয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও বয়স্করা। সাকোর উপর দিয়ে চলাচলের সময় সবচেয়ে দূঘটনায় শিকার হয় তারাই। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জেলা পরিষদ, পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডসহ সাংসদ সদস্য বরাবর লিখিত আবেদন করেও এখন পর্যন্ত চলাচলের উপযোগী ব্রীজের মুখ দেখেননি জনবহুল এই গ্রামের বাসিন্দারা। সর্বশেষ বাজেটে উপজেলায় কয়েকটি কোটি টাকার ব্রীজ নির্মান করা হলেও উন্নয়নের ছোয়া থেকে বাইরেও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বিছামারার প্রায় সাড়ে সাত হাজারের মত মানুষের বসতির এই গ্রামটি।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মীর আহাম্মদ মেম্বার আমাদের রামু ডটকমকে জানান, কয়েকযুগ ধরে এই গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সাঁকো। এতে প্রতিদিন মানুষের চলাচলের সময় দুর্ভোগের শেষ নাই।

গ্রামের তাংরা বিছামারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম আমাদের রামু ডটকমকে জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে বৃহত্তর বিছামারা গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে বাঁশের সাঁকো পারাপার হতে দুঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। কিছুদিন আগে ২য় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসার সময় বাঁশের সাঁকো পারাপার হওয়ার সময় সাঁকো থেকে নিচে পড়ে মেরুদন্ডে আঘাত পেয়ে তিনদিন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here