নাইক্ষ্যংছড়িতে নৌকার গণজোয়ারে সামিল হচ্ছে জামায়াত-বিএনপি

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, দোছড়ি সীমান্ত থেকে ফিরে :
আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ও দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাইশারীতে চেয়ারম্যান পদে এখনো নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এর আভাস পাওয়া গেলেও ভোটের চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দোছড়ি ইউনিয়নে। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ ইউনিয়নে বর্তমানে নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব হাবিবুল্লাহর পথসভায় প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরাও। সামিল হওয়ার পাশাপাশি তারা হাবিবুল্লাহর পক্ষে নানা যুক্তি উপস্থাপন করে জোরালো বক্তব্যও রাখছে। এ পরিস্থিতি দেখে ধানের শীষ প্রতীকের আবদুর রশিদ অনেকটা কোণটাসা হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দোছড়ি ইউনিয়নের সেই আলোচিত পাইনছড়ি, বাহিরমাঠ, কুলাচি, তুলাতলি, গুরাইননাকাটা, জারুলিয়াছড়ি ও ছাগল খাইয়া এলাকায় হাবিবুল্লাহর পক্ষে ৬টি পৃথক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব পথসভায় উপস্থিত ছিল শত শত নারী-পুরুষ।

index

বিকেলে ছাগল খাইয়ার পথসভায় গর্জনিয়ার বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা হাবিব উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পার্বত্য বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ক্যউচিং চাক, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-আহবায়ক আবু তাহের, তছলিম ইকবাল চৌধুরী, সদস্য সচিব ইমরান মেম্বার, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ফখরুল ইসলাম কালু, দোছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলম, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলম, যুবদলনেতা মাহবুব, জামায়াত নেতা ছৈয়দুল আমিন, জামায়াত নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মাওলানা নজির, মাওলানা ছৈয়দুল আমিন, দোছড়ি ইউপির ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবুর রহমান, ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল আলম, ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী জালাল আহমদ প্রমূখ।

বক্তব্যে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, এলাকায় আমরা উন্নয়ন চাই, শান্তিতে থাকতে চাই। এজন্য হাবিবুল্লাহর মত একজন সুদক্ষ চেয়ারম্যান দরকার। উনি বিগত ১৯ বছর ধরে এলাকার চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময় অনেক কিছু অর্জন করেছিলাম। মাঝ পথে আমরা ভুল করে রশিদ আহমদকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম। যার খেসারত পাঁচ বছর ধরে দিয়েছি। এখন আমরা এসবের পরিত্রাণ চাই।

index

বক্তব্যে আওয়ামীলীগ নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের হাতকে শক্তিশালী করে অবহেলিত দোছড়ির উন্নয়নকে ত্বরানিত করতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। হাবিবুল্লাহ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দোছড়িকে একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত করা হবে। তখন এতদঅঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সহ সব কিছুই পাবে।

উল্লেখ্য, দোছড়ি ইউনিয়নে দুইজন চেয়ারম্যান, সাতজন সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থী ও ২৪ জন সাধারণ সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।