বেগম রোকেয়া : সার্বজনীন, সাম্প্রতিক

শাহনাজ পারভীন:
বাংলা ভাষায় নারীবাদী সাহিত্যের প্রথম সূচনা হয় বেগম রোকেয়ার মাধ্যমে। যদিও তিনি প্রথম বাঙালি নারী লেখক নন। উনবিংশ শতাব্দির ষাটের দশকের প্রথম মুসলিম নারী কবির নাম তাহেরুন্নেসা। নওয়াব ফয়জুন্নেছার রুপজাল প্রকাশ পেয়েছিল ১৮৭৬ খ্রি.। তখনো বেগম রোকেয়ার জন্ম হয়নি। উনবিংশ শতাব্দির শুরুর দিকেই ইউরোপ ও আমেরিকায় নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হলেও বিংশ শতাব্দিতে তার পূর্ণতা পায় সাহিত্য এবং শ্লোগানে। নারী পুরুষের সমান অধিকার, লিঙ্গ বৈষম্যের অবসান, ভোটাধিকার, নারীর বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার, গর্ভপাত করার অধিকার নারীবাদী আন্দোলনের দাবির মধ্যে সক্রিয় রূপ লাভ করে। লেনিন ও বলশেভিক পার্টি বিপ্লবের আগে নারীর বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকারের দাবি তুলেছিলেন। নারী কিভাবে এবং কেন ইতিহাসের এক বিশেষ পর্যায়ে পুরুষের পদানত হলো তা মার্কসবাদ খুব স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে। এই প্রসঙ্গে এঙ্গেলস তার ‘রাষ্ট্র, পরিবার ও ব্যক্তি মালিকানার উৎপত্তি’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত মালিকানার উদ্ভব যখন হল, তখন থেকেই পুরুষের পদানত হল নারী।… নারী জাতির ঐতিহাসিক পরাজয়।’ পাশ্চাত্যের এই সকল নারীর অধিকার সংক্রান্ত দাবি, এই মার্কসবাদী আন্দোলন, আন্দোলনের কথা বেগম রোকেয়া জানতেন না। তবে তিনি তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষার দ্বারা বুঝেছিলেন নারী যদি শিক্ষিত না হয়, যদি তারা অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভর না হয় তবে তাদের মুক্তি সুদূর পরাহত। তাই তিনি বার বার তাঁর লেখনিতে নারীদেরকে তার নিজস্ব শিক্ষার উপর জোর দিয়েছেন। অর্থ উপার্জনক্ষম হতে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। পুরুষ যেভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে, পরিবারে সিদ্ধান্ত দেবার একক পরিমাপক হয়ে উঠেছে তেমনি নারী জাতিকেও শিক্ষায়, মেধায় পুরুষের সমগোত্রীয় হয়ে জীবন পরিচালিত করবার সাহস দেখিয়েছেন। স্বপ্ন শিখিয়েছেন। তিনি সমাজকে, নারী-পুরুষকে একটি গাড়ির দুটি চাকার সাথে তুলনা করেছেন। একটি গাড়ির দুটি চাকা যদি সমান না হয়, তাহলে যেমন গাড়ি চালনা অসম্ভব, তেমনি নারী পুরুষের শিক্ষা, যোগ্যতার চাকাও যদি সমান না হয় তবে সমাজ, পরিবার নামক গাড়িটি অচল হয়ে যাবে বলে বারংবার সতর্ক করেছেন।

তার লেখনিতে তিনি ভোটাধিকারের দাবি তোলেননি, গর্ভপাতের অধিকারের কথাও বলেননি। ইউরোপীয় নারীবাদী আন্দোলনের সাথে তার আন্দোলনের সংগ্রামের পার্থক্য সুস্পষ্ট। পরাধীন ভারতে নারী পুরুষ কারোরই ভোটাধিকার ছিল না, তিনি তা চানওনি। তিনি চেয়েছেন নারী শিক্ষিত হোক, নিজে অর্জন করুক। নিজের ভাত নিজের হাতের মাধ্যমে, শ্রমের মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করুক। তাদেরকে তিনি শিক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন করে তা প্রমাণ করবার জন্য নারীর কর্মজীবনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি আধুনিক নারীবাদীদের মতো পুরুষ বিদ্বেষ প্রচার করেননি। কিন্তু পুরুষের আধিপাত্য ও পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আঘাত হেনেছেন। তিনি লিখেছেন ‘শারীরিক দূর্বলতাবশত নারী জাতি অপর জাতির সাহায্যে নির্ভর করে।’ (অর্ধাঙ্গী) তিনি দেখিয়েছেন অপর জাতি অর্থাৎ পুরুষ জাতি কেবল শারীরিক বলের দ্বারাই ‘প্রভূত্ব করে না।’ কারণ আদিম সাম্যবাদী যুগে পুরুষ শারীরিক দিক দিয়ে আজকের পুরুষের চেয়েও বলশালী ছিল। তবু তারা মাতৃতান্ত্রিক সমাজকে মেনে নিয়েছিল। মার্কসবাদ বলে, ব্যক্তিমালিকানা ও শ্রেণি সমাজের উদ্ভবই নারীর ঐতিহাসিক পরাজয়ের কারণ। কিন্তু বেগম রোকেয়া মনে করতেন, শারীরিক শক্তি কম থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাগত যোগ্যতা ও উপার্জন ক্ষমতা অর্জন করার মাধ্যমে নারী এই নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে পারে। তিনি লিখেছেন, ‘একই সঙ্গে সকলে স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হও। … স্বাধীনতা অর্থে পুরুষের ন্যায় উন্নত অবস্থা বুঝিতে হইবে।…পুরুষের সমকক্ষতা লাভের জন্য আমাদিগকে যাহা করিতে হয়, তাহাই করিব। (স্ত্রী জাতির অবনতি)

আমরা জানি, রাজা রামমোহন রায়ের উদ্যোগে ১৮২৯ খ্রি. সতীদাহ নিষিদ্ধ হয়। কিন্তু এই বিষয়টি আক্ষরিক অর্থে নিষিদ্ধ হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা সমাজে প্রচলিত ছিল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ খ্রি. হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের প্রচলন হয়। মুসলিম পরিবারে বিধবা কন্যার দ্বিতীয় বিবাহ অনুমোদন থাকলেও তা ছিল লজ্জ্বার, অপমানের। কিন্তু উভয় সমাজে পুরুষের একাধিক বিবাহ নিন্দনীয় ছিল না। যেই সময়ে মুসলিম সমাজ শিক্ষা, প্রজ্ঞা ও বিত্তে পিছিয়ে পড়েছিল এবং অধিকতর পিছিয়ে পড়েছিল নারী সমাজ। এমনি এক সমাজের ক্লান্তিলগ্নে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহণ করে নারী পুরুষ সমতার কথা উচ্চ বাক্যে অসীম সাহসের সাথে বলতে পেরেছেন, অগ্নিশিখার মতো জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠেছেন দীপ্তিময়। যা সত্যিকার অর্থেই ছিল অভাবনীয়। তিনি স্ত্রী শিক্ষার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন, তিনি লিখেছেন, ‘শিক্ষা থাকিলেই অর্থোপার্জনে নারীগণের ক্ষমতা জন্মিবে।`

বেগম রোকেয়া ‘মিসেস আর. এস. হোসেন’ নামে লিখতেন। এই নামে তাঁর বইগুলিও বেরিয়েছিল। তার আয়ুষ্কাল ছিল অনতিদীর্ঘ। ১৮৮০ -১৯৩২ খ্রি. মাত্র ৫২ বছর। গ্রন্থের সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচটি : মতিচুর (প্রথম খণ্ড, ১৯০৪ খ্রি.), Sultana’s Dream (১৯০৮ খ্রি.), মতিচুর (দ্বিতীয় খণ্ড, ১৯২২ খ্রি.), পদ্মরাগ ( ১৯২৪ খ্রি.) এবং অবরোধবাসিনী (১৯৩১ খ্রি.)। এই গ্রন্থে ৪৭টি ছোট বড় রচনা রয়েছে। প্রত্যেকটিতে আছে নারীর অবরোধ জীবনের সত্য কাহিনী। বড় মর্মান্তিক সেই সব কাহিনী। লেখিকার দাবি—এর একটিও কাল্পনিক বা বানানো কাহিনী নয়। এছাড়াও তিনি ৬ টি ছোটগল্প ও রস রচনা এবং ৭টি কবিতা লিখেছেন। সাহিত্যকর্মের বাইরে তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি কাজ তাকে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে সাহায্য করেছে। ১৯০৯ খ্রি. ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা এবং ১৯১৬ খ্রি. ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ নামে একটি সংগঠনের স্থাপনা। তাঁর বাংলা ও ইংরেজি রচনা, স্কুল ও নারী সংগঠন প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল নারী জাগরণ এবং পুরুষের সমান নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা। তিনি শুধু নারী জাগরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি দেশ-কাল-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমগ্রভাবে সমাজ জাগরণের আকাঙ্ক্ষা করেছেন। সব মিলিয়ে বেগম রোকেয়া চেয়েছেন মনুষ্যত্বের উদ্বোধন। তার আকাঙ্ক্ষা কেবল স্বপ্ন ছিল না, তা ছিল তার ভূমিস্পর্শী অভিযান। দশকের পর দশক পেরিয়েও তাঁর লেখণীর মধ্যে জ্বলজ্বল করছে ভাবনার সজীবতা। যা আজো নতুন। আজো সাম্প্রতিক।

তাঁর কর্মের স্বীকৃতি হিসাবে জীবনকালে তিনি ছিলেন সম্মানিত ও সামাজিক-সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব। বিংশ শতাব্দির প্রথমে তিনি তাঁর সাহিত্যের মাধ্যমে যে আলোড়ন তুলেছিলেন শতাব্দি শেষেও আমরা তাঁর আলোড়ন এবং তরঙ্গের ওঠানামা দেখছি বিস্ময়তায়। বাংলা সাহিত্যে তার নিজস্ব লেখণীর চেয়ে তাঁকে নিয়ে ঢের বেশি লেখা হয়েছে এবং হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাঁর জন্মের শতবর্ষ গত হয়েছে বেশ আগে অথচ রোকেয়া চর্চা কখনোই থেমে থাকেনি বরং তাঁর জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে গভীর আগ্রহ-সন্ধিৎসা আজও সমভাবে দৃশ্যমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্তসহ গবেষকের গবেষণা তার প্রমাণ। তাঁর নামে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নতুন নতুন আলোচনা তাকে অন্য আলোয় উদ্ভাসিত করছে প্রতিদিন।

১৮৮০ খ্রি. রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে এক রক্ষণশীল মুসলিম ভূস্বামী পরিবারে যখন বেগম রোকেয়ার জন্ম হয় তখন তথাকথিত মুসলিম পরিবারে উর্দূ ভাষার প্রচলন ছিল। উর্দূ ভাষা ছাড়া, ধর্মশিক্ষা ছাড়া মেয়েদের অন্যকোন শিক্ষার প্রচলন ছিল না। ছিল কঠোর পর্দাপ্রথা। বেগম রোকেয়া নিজেও তা মেনে চলেছেন এবং পর্দার আড়াল থেকে কথা বলেছেন। বেগম রোকেয়ার দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ভাই ইব্রাহীম সাবেরের ব্যক্তিগত উৎসাহ ও তত্ত্বাবধানে তার বড় বোন করিমুন্নেসা ও তিনি ঘরেই বাংলা ইংরেজি শিখেছিলেন। বেগম রোকেয়া তাঁর পদ্মরাগ উপন্যাসটি বড় ভাইয়ের নামে উৎসর্গ করেছিলেন—‘দাদা! আমাকে তুমিই হাতে গড়িয়া তুলিয়াছ।’

বেগম রোকেয়ার বিয়ে হয় ১৮৯৬ খ্রি. ষোল বছর বয়সে। তার স্বামী বিহারের ভাগলপুরের অবাঙালি বিপত্মীক আমলা ৪০ বছর বয়সী খান বাহাদুর সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন। রোকেয়ার জন্মের সময়েই তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। সাখাওয়াত হোসেনের প্রথম স্ত্রীর ঘরে এক কন্যা সন্তান ছিল। বেগম রোকেয়া দুইবার কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা মাত্র ৪/৫ মাস বেঁচেছিলেন। ৩০.৪.৩১ খ্রি. এক চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘শৈশবে বাপের আদর পাইনি, বিবাহিত জীবনে কেবল স্বামীর রোগের সেবা করেছি। প্রত্যহ Urine পরীক্ষা করেছি, পথ্য রেঁধেছি, ডাক্তারকে চিঠি লিখেছি। দুবার মা হয়েছিলুম—তাদেরও প্রাণ ভরে কোলে নিতে পারিনি। একজন পাঁচ মাস বয়সে, অপরটি চার মাস বয়সে চলে গেছে। আর এই বাইশ বৎসর যাবৎ বৈধব্যের আগুনে পুড়ছি।’

তাঁর রচনা সম্পর্কে হুমায়ুন আজাদ তার নারী গ্রন্থে লিখেছেন, ‘তাঁর প্রবন্ধ বিশুদ্ধ মননশীল প্রবন্ধ নয়, তাতে আছে কথাশিল্পিতার ছাপ; আবার তাঁর উপন্যাসও পুরোপুরি উপন্যাস নয়, তাতে রয়েছে প্রাবন্ধিকতার ছাপ। বিশুদ্ধ শিল্প সৃষ্টি তার লক্ষ্য ছিল না, তাঁর লক্ষ্য ছিল পৌনপুনিক আক্রমণে পুরুষতন্ত্রকে দুর্বল করে নারীকে সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করা।’ এসব সত্ত্বেও তিনি এগিয়ে ছিলেন তাঁর চেতনায়, সময়ের মুসলমান-হিন্দু সমস্ত পুরুষ, নারী ও মহাপুরুষদের থেকে, তার ছিল সরাসরি মত প্রকাশের চমৎকার স্বভাব এবং ছিল প্রখর পরিহাসের শক্তি। বেগম রোকেয়ার স্বামী রোকেয়াকে স্নেহ করতেন। তাকে ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে উৎসাহ দিয়েছেন। স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় বাংলা ও ইংরেজিতে লেখালেখি করেছেন যা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। তাঁর স্বামীর জীবদ্দশায় তা গ্রন্থাকারে প্রকাশ পেয়েছিল। স্বামীর অনুমোদন না থাকলে তা ছাপার অক্ষরে প্রকাশ পাওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বেড়ে উঠেছেন তার ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে এবং প্রকাশিত হয়েছেন তার স্বামীর তত্ত্বাবধানে। আসলে আমরা যতই নারীবাদী বলে চিৎকার করি না কেন, আমাদের ঘরে কাউকে থাকতে হয়। তা না হলে কাজগুলো খুব সহজ হয়ে যায় না। যেমন বেড়ে উঠবার কালে পরিবারে বেগম রোকেয়ার ভাই ও সংসারে স্বামী তাকে অভিভাবক এবং বন্ধুর পরশে বেড়ে উঠতে, প্রকাশিত হতে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।

১৯০৯ খ্রি. বেগম রোকেয়া বিধবা হন এবং ১৯৩২ খ্রি. তিনি ৫২ বছর বয়সে মারা যান। এই দীর্ঘ সময় তিনি কাটিয়েছেন তাঁর সাহিত্য এবং সমাজ নিয়ে। অফুরন্ত সময় পেয়েছেন তিনি। স্বামী, সন্তানের জন্য কোন ব্যস্ততা ছিল না তার সংসারে। সমস্ত সময় এবং একাগ্রতায় সাহিত্য, স্কুল, সংগঠন, সমাজ এবং স্বপ্নকে সাথে নিয়ে তাঁর অনন্ত পথ চলা। যদিও কখনো তা মসৃণ ছিল না। কিন্তু তিনি কখনো পিছ পা হননি। হেরে যাননি। প্রথমে মাত্র পাঁচজন এবং পরে মাত্র আটজন ছাত্রী নিয়ে অদম্য সাহসে শুরু করলেন ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল স্কুল’। অসীম সাহসিকতায় নেমে পড়লেন ছাত্রী কালেকশানে। পর্দা ঘেরা গাড়ি, পর্দার আড়ালে তিনি। চললো স্কুল, চললো শিক্ষা। একই ব্যবস্থায় দু রকম আপত্তি। কোন কোন অভিবাবকের অভিযোগ অন্ধকার কুঠুরি গাড়িতে কিভাবে আমার সন্তান যাবে, কোন কোন অভিভাবকের অভিযোগ পর্দাহীন করতে পারি না আমাদের মেয়ে সন্তানকে। কি সেলুকাস! উভয় অভিভাবককে সমান পারদর্শীতায় বুঝিয়ে তিনি ছাত্রীদেরকে স্কুলগামী করিয়েছেন উৎফুল্লুতায়। নারী শিক্ষায় যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন ইতিহাসে তাঁর সে অবদান অসামান্য। তার সুফল পাচ্ছি আমরা শত বর্ষ পরে। আজও! এখনও!

অতঃপর আজকের ‘রোকেয়া দিবস’ পালন। যখন বাংলাদেশের নারীনেতৃত্ব আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। অসীম সাহসিকতায় নারীরা প্রমাণ করেছেন শিক্ষায়, নেতৃত্বে, রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, ক্রীড়া, এভারেস্ট বিজয়, সততা, মেধা, প্রজ্ঞা এবং মমতার সেবায় আমরাই সেরা। আমাদের নারীরা আজ দেশ পরিচালনায় সিদ্ধহস্ত। উড়োজাহাজ পরিচালনা থেকে সমাজ পরিচালনায় সুলতানার স্বপ্ন আজ সফল বাস্তবায়ন হয়েছে, হচ্ছে। এতকিছু পরেও নারী নৃশংসতা, ধর্ষণ, হত্যা, গুম নারীদের নিত্য দিনের রোজ নামচা। তারপরও আজ আমাদের নারীরা বিশ্ব দরবারে উন্নতির অবগাহনে ভাসিয়ে নিয়েছে দেশকে বিশ্ব দরবারে। কারণ আমাদের সাথে আছেন রোকেয়া, আমাদের সিথানে রোকেয়া।

লেখক: উপাধ্যক্ষ, উপশহর মহিলা কলেজ, যশোর।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।