স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বিদ্যুৎ পেল রামুর আট গ্রামের মানুষ

সুনীল বড়ুয়া:
স্বাধীনতার প্রায় ৪৬ বছর পর বিদ্যুৎ পেল কক্সবাজারের রামুর কাওয়ারখোপ ইউনিয়নের আট গ্রামের অন্তত ২৫ হাজার মানুষ। বহুল আখাংখিত এই প্রাপ্তিতে এলাকাবাসীর যেন আনন্দের সীমা নেই। তাই তো বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো এলাকা জুড়ে ছিলো সাজ সাজ রব।

এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানান, উপজেলা সদর থেকে মাত্র ছয়-সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উখিয়ারঘোনা এলাকা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসী বিদ্যুতায়নের জন্য অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অবশেষে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্বাধীনতার ৪৬ বছর উখিয়ারঘোনা এলাকায় বিদ্যুতের আলো জ্বলল। বহুল প্রত্যাশিত এ পাওয়া সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

রামু বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন জানান, উখিয়ার ঘোনার লামারপাড়া,গনিয়াকাটা,পশ্চিম গনিয়াকাটা, গুদামকাটা, মিয়াজীপাড়া,ঝর্ণারঘোনা,বড়ুয়া পাড়া,সওদাগরপাড়াসহ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুতের খুটি স্থাপন করা হয়েছে। এর সুফল পাবে অন্তত ২৫ হাজার মানুষ। তিনি বলেন,ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার জন্য প্রায় ৭০টি আবেদন জমা পড়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সকল আবেদনকারী সকল গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।রামু বিদ্যুৎ সরবরাহের সহযোগিতায় বৃহত্তর চট্ট্রগ্রাম বিদ্যুৎ প্রকল্পের অধীনে এ কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে বিদ্যুতায়ন প্রধান অতিথি হিসাবে বিদ্যুতায়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল। মাগরিবের নামাজের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে পাঁচগ্রামে স্থাপিত বিদ্যুতের বাতি জ্বালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিলো মাত্র ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। আর আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এক বছরেই দেশে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। যে কারণে বিদ্যূহীন এলাকাগুলো আলোকিত করা সম্ভব হচ্ছে। আগামী তিনমাসের মধ্যে কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন অবশিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে কাউয়ারখোপকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি রামুর দুর্গম এলাকা গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ইউনিয়নেও একমাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।

তিনি বলেন, কেবল বিদ্যুৎ নয়, উখিয়ারঘোনার মত রামু-কক্সবাজারের গ্রামীন ও প্রধান সড়কসহ সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া এখন দৃশ্যমান হয়েছে। সকল কাঁচা রাস্তা এখন পাকা হয়েে গেছে। বছরের পর বছর প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ যেখানে সাকোঁ দিয়ে পারাপার করতো সেই সাঁকোর সবগুলোই এখন পাকা সেতু হয়ে গেছে। এ সময় সাংসদ কমল আগামীতেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীককে নির্বাচিত করার অঅহবান জানান। তিনবছরেই এখানে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে। রামু কলেজ এবং শতবর্ষী খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়েছে। রামু কলেজ ও ঈদগাও কলেজে দুটি ভবন দেয়া হয়েছে।

উখিয়ারঘোনা সওদাগর পাড়া স্টেশনে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ সিষ্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল হক, সহকারি প্রকৌশলী নুরুল আবছার, রামু বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর আবাসিক প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ঈসমাইল মো. নোমান, কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি, মীর কাসেম সিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার গোলাম কাদের, লেখক ও গবেষক এম.সুলতান আহমদ মনিরী, মাস্টার ফরিদ আহমদ ।

সাংসদ কমল আরো বলেন, এরআগে বিএনপির এমপি ১২ কোটি টাকা বরাদ্ধ পেলেও উখিয়ারঘোনার জন্য একটি টাকা বরাদ্ধ দেননি। তারা শুধু লুটপাটে বিশ^াসী। যারা বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের খবর নেয়না, তারা মানুষের ভোট চাওয়ারও অধিকার রাখেনা। তাই আগামী নির্বাচনে অতীতের মত ভুল না করে উন্নয়নের প্রতীক নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। কারণ আগামীতেও আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় বসাবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধনকে ঘিরে এরঅকাবাসী মেতেছিলো উৎসবের আমেজ। গ্রামে প্রধান প্রধান প সড়কে ছিলেঅ অনেকগুলো তোরণ। পথিমধ্যে সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চ বিদ্যালয়, দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবগসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার নারী-পুরুষ সড়কের দ’ুপাশে দাঁড়িয়ে এবং মাইক, ঢোল, ব্যান্ড বাজিয়ে উল্লাস করতে করতে বরণ করে নেন প্রধান অতিথিকে। তাকে জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান। এসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এলাকার ছোট-বড় ষ্টেশন, রাস্তার মোড়, বিদ্যুতের খুটিতে সাঁটানো হয় ব্যানার-ফ্যাষ্টুন।

কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য শামসুল আলম চেয়ারম্যান বলেন, কাউয়ারখোপের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই বিদ্যুতের আলো বঞ্চিত ছিল এলাকার মানুষ। অতীতে অনেক সাংসদ, রাজনৈতিক নেতা আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছে। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর রামুর অবহেলিত এলাকা সমুহ চিহ্নিত করে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ শিক্ষার আলোর পাশাপাশি বিদ্যুতের আলোয়ও আলোকিত করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় উখিয়ারঘোনার আটটি গ্রামে বিদ্যুৎতায়িত হলো। কাউয়ারখোপ বাসির দীর্ঘ প্রতিক্ষিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটলো। এজন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংসদ আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here