ঘুমধুমের মাইকের মেকার থেকে ইয়াবা মহাজন আমিনের উত্থানের সাতকাহন

শহিদুল ইসলাম,উখিয়া।
মিয়ানমারের গাঁ ঘেষে বসত বাড়ি মাইক আমিনের। বাবা সুলতান আহমদ প্রকাশ বাড়াঁ সুলতান ছিল মাটির মানুষ। পেশায় জেলে।বাবার বখে যাওয়া ছেলে ছিল আমিন।ছাত্রজীবনে মাদরাসায় পড়াকালীন সময়ে কোন রকম ৫ম শ্রেণি পার করে।মাঝ পথে পড়ালেখা থেকে ছিটকে পড়ে বাড়ীর পাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন চিংড়ি ঘের থেকে মাছ চুরির নেশায় জড়ায়। পরবর্তী মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়ায় আপন খালার পরিবারের চোরাচালানী খালাতো ভাইদের মাধ্যমে চোরাই ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়। মিয়ানমারের খালাতো ভাইদের পাঠানো চোরাই পণ্যের চালান সীমান্ত পয়েন্ট অতিক্রম করে ঘুমধুম নোয়াপাড়ার নিজ বাড়ীতে মজুদ পরবর্তী ঘোনারপাড়ার জহির আহমদ ড্রাইভারের বাড়ীতে রেখে সরবরাহ দিতো।

এদেশীয় আরেক পার্টনারের বড় ভাইয়ের হবু স্ত্রী মান্নার দেবর মাইক আমিনকে বেধড়ক মারধর করলে আবেগী প্রেমিকা পূর্বের প্রেমিক বালুখালীর নুরুল আলমের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে মাইক আমিনকে বিয়ে করে ২য় প্রেমের স্বীকৃতি প্রমাণ করে।বিয়ের পর সামী স্ত্রীর চোরাই ব্যবসার উত্থান পুরো দস্তুর বিস্তার ঘটায়।জীবিকার তাগিদে সৌদি প্রবাসী মিয়ানমারের আত্মীয়দের পাঠানো দান খয়রাত ও ফিৎরা যাকাতের টাকায় মাত্র. ২০ হাজার টাকার শেয়ারী মুলধনে (অংশীদার আহমদুর রহমানের মুলধন আমিনের শ্রম পুঁজি) মাইক ভাড়া আর ইলেকট্রনিক খুচরা যন্ত্রাংশের দোকান দিলেও সংসারের ঘানি টানতে চরম হিমশিম খাচ্ছিলো।পোষাতে না পেরে আহমদুর রহমান কিস্তিতে আমিনকে শেয়ার বিক্রি করে দেয়।একক দোকান চালিয়েও কুলিয়ে উঠতে পারতনা।

গত বছর দুয়েক আগে বালুখালীর একটি মাদক সিন্ডিকেটের পরামর্শে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়ে মাইকের দোকানের আড়ালে ফেনসিডিল থেকে শুরু করে হরেক রকম মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের কৃতকর্মের নাম লিখিয়ে পেছনে তাকাতে হয়নি।পাইকারি আর খুচরা মাদকের ব্যবসায় আশাতীত সফলতা পায়। আসল ইয়াবা, মিয়ানমারে আছে নিকটতম আত্মীয়। সব মিলিয়ে ইয়াবা বিস্তারে ঘুমধুমে প্রথম সেবাদানকারী পরিবার হিসেবে পাইকারি, খুচরা আর সেবনকারীদের বিশস্থ প্রতিষ্ঠানের কুখ্যাতি অর্জন করে।বর্তমানে এলাকা ছাড়িয়ে অন্য প্রান্তেও সরবরাহ করে আংগুল ফুলে কলা গাছ বনে যায় মাইক আমিন।

গাড়ী,বাড়ি, স্ত্রী ছাড়াও একাধিক নারীর সংগ বিলাস নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।বিলাসী জীবন যাপন, পুলিশ সহ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় মেহমান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টুপাইস হাদিয়ার মাধ্যমে বীরদর্পে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে সর্বোচ্চ ৬ কেজি চাল আর ৫ টাকার কেরোসিন কিনতে যার দুরুহ ব্যাপার ছিল সে আজ লাখ লাখ টাকা গুনছে।

বস্তা বস্তা ইয়াবা, ফেনসিডিল.বিয়ারা, কান্ট্রি ড্রাইজিন নামক তরল মাদকের জোয়ারে ভাসিয়ে কাউকে পরোয়া করছেনা।বেপরোয়া হয়ে যে কাউকেই হেনস্তা করতে হাত কাপেঁনা মাইক আমিনের।পুরো ঘুমধুমের কালো জগতের প্রায়ই তার আস্তানায় হাজির, সেবন. সরবরাহের বুদ্ধি কৌশলে একজন ইয়াবার মহাজনের ভুমিকায় আলোচিত।মাইক আমিনের ইয়াবা ডেরায় রানাঘর সহ ৩টি আলাদা কক্ষে দিবারাত্রি আড্ডা আর নানা জায়গা থেকে গমন করা ব্যক্তিদের রুদ্ধদার বৈঠক চলে।

স্থানীয় বিজিবির টহল দল গেলেও গতিবিধি লক্ষ্য করে অঘটন ঘটার আগাম সংকেত জানিয়ে দিতে রয়েছে সুবিধাভোগী লোকজন।তার ইয়াবা আস্তানা সমপর্কে সকলের জ্ঞাত থাকা সত্তেও চক্ষু লজ্জায় প্রতিবাদ না করলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সিরতে মাহফিল থেকে উচ্ছেদের কানাঘোষা ওঠে।পাড়ালিয়ারা মাইক আমিন সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমপর্কে জানলেও প্রতিবাদের টু শব্দ করার সাহস কারো নেই। কারণ তার আম্বরখানায় সরকারি সংস্থার কতিপয় লোক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণির প্রভাবশালী খদ্দেরদের আনাগোনা থাকায় ভয়ে তটস্থ থাকেন সবাই।

স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ চক্ষু লজ্জায় কিছু না বললেও মাইক আমিনের বাড়িঘরে অচেনা অজ্ঞাত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় পারিবারিক ও সামাজিক বিরুপ প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক ভুমিকা নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘুমধুম ইউপির কমিউনিটিং পুলিশের উপদেষ্টা ও প্যানেল চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন বলেন, মাদকের ব্যবসা যেই করুক না কেন মাদকের শিখর নির্মূলে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে প্রতিরোধ করতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসা উচিৎ।

ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমন্বয় সভায় চোরাচালান ও ইয়াবাসহ মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন ব্যাপার।কারণ সঠিক সোর্সের অভাবে মাদক নির্মূলে সুফল পাচ্ছেননা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। সবচেয়ে দুঃখ্জনক হলেও সত্য যে, খুচরা বিক্রি এবং সহজলভ্য হওয়াতে একেবারে নির্মূল করা না গেলেও পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে সকলের সচেতন হওয়া উচিৎ বলে মনে করি।