রামুতে ঝরেপড়া ছাত্রীদের বরাদ্দকৃত উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী:
রামুর আবু বক্কর ছিদ্দিকী ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার ঝরেপড়া ছাত্রীদের বরাদ্দকৃত উপবৃত্তীর টাকা আত্মসাৎ করছেন এবং তাঁর এই কাজে সহযোগি করার অভিযোগ উঠেছে একাডেমিক সুপার ভাইজারের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে- এ ধরণের অভিযোগ দেন মাদ্রাসার অভিভাবক মাহবুবুল আলম। তাঁর বাড়ি চাকমারকুল ইউনিয়নের কলঘর বাজারে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদ্রাসার সুপার শরিফুল হক একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি। মাদ্রাসার কতিপয় প্রভাবশালী শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সহযোগিতায় তিনি মাদ্রাসার তহবিল তসরূপসহ ছাত্রীদের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন।

তাঁর এসব কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী একাডেমিক সুপার ভাইজার মো.তৈয়ব চৌধুরী। যার কারণে একাডেমিক সুপার ভাইজারকে
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিযোগ দিলে রেগে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীর্তিবাজ সুপার মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন কারণে ঝরেপড়া ছাত্রীদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা অন্য ছাত্রীদেরকে ব্যবহার করে আত্মসাৎ করে আসছেন। যার পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা।

মাহবুব আলমের মেয়ে মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছমিরা আক্তার উপবৃত্তির তালিকাভুক্ত নয়। কিন্তু বিগত ১৩ আগস্ট তাঁর মেয়ে সহ অন্যান্য আরও সাত-আটজন ছাত্রীকে ব্যবহার করে জনতা ব্যাংক রামু শাখা থেকে জনপ্রতি ১২শ টাকা উত্তোলন করেন সুপার শরিফুল হক। সেখান থেকে একশ টাকা করে দিয়ে বাকিগুলো তিনি আত্মসাৎ করেন। এভাবে তাঁর টাকা আত্মসাৎ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এমতাবস্থায় সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরোদ্ধারের লক্ষে সরকারের উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাৎকারী মাদ্রাসার সুপার ও সহযোগিতাকারী একাডেমিক সুপার ভাইজারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সুপার শরিফুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি। তবে একাডেমিক সুপার ভাইজার মো.আবু তৈয়ব চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জানতে চাইলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ছালেহ উদ্দিন চৌধুরী আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।