বন্ধুত্ব ও বন্ধু দিবস

রিপন বড়ুয়া:
বন্ধু খুব ছোট একটি শব্দ অথচ এর গভীরতা অনেক বেশি। বন্ধু এমন একজন মানুষ, যে মুখ দেখেই মনের কথা বুঝতে পারে। বন্ধু মানে দুষ্টামি, খোঁচা দিয়ে কথা বলা; তারপর মিষ্টি একটা মেসেজ দিয়ে অভিমান ভাঙানো। এক কথায় বলতে গেলে আত্মার কাছাকাছি যে বাস করে, সেই আত্মার বন্ধু বা স্বজন।

বন্ধুত্বের জন্য চাই সুন্দর একটি মন, যে মন দিয়ে একজন আরেকজনকে বুঝতে পারবে। সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থাকবে।

বন্ধু শব্দের মাঝে মিশে আছে যেন নির্ভরতা আর বিশ্বাস। যে কথা বাবা-মা, ভাইবোন কিংবা স্বামী-স্ত্রীকে বলা যায় না, সে কথা অনায়াসে বন্ধুকে বলা যায়। অনেক সময় অনেক কষ্টের কথা বন্ধুর কাছে বলে হালকা হওয়া যায়। নেয়া যায় বন্ধুর থেকে ভালো পরামর্শ। একজন ভালো বন্ধু কেবল বন্ধুই নয়, ভালো অভিভাবকও বটে। বন্ধু আর বন্ধন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একজন বন্ধুর জন্য আরেকজন জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে পারে। বন্ধুত্ব কখন কিভাবে হয়ে যায় তা বলা মুশকিল।

ছেলেবেলা থেকে শুরু করে সব বয়সেই কোনো না কোনোভাবে আমরা কারো সাথে বন্ধুত্ব করছি। হতে পারে সে ছেলে কিংবা মেয়ে অথবা বয়সে আপনার চেয়ে ছোট কিংবা বড়। ব্যস্ততার কারণে কিংবা অন্য কারণে হয়তো অনেকেই হারিয়ে যায় কিংবা যোগাযোগ করা হয় না। তার মাঝেও কিছু বন্ধু থাকে, যারা কখনো হারিয়ে যায় না। তারা সব সময় আপনার ভালোই চায়। বিপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। শতকষ্টের মধ্যেও আপনার মুখে হাসি ফোটায়।

বন্ধুত্ব মানেই যেন হৃদয়ের সবটুকু আবেগ নিংড়ে, ভালোবাসা দিয়ে মন খুলে জমানো কথা বলা। বন্ধুর জন্য গেয়ে বন্ধু খুব ছোট একটি শব্দ অথচ এর গভীরতা অনেক বেশি। বন্ধু এমন একজন মানুষ, যে মুখ দেখেই মনের কথা বুঝতে পারে।

আগস্টের প্রথম রোববার “বন্ধু দিবস” কিন্তু কথা হচ্ছে আজকের যে এই ” বন্ধু দিবস “সেটা এল কী করে? ” বন্ধু দিবস ” দুই বন্ধুর অমর কোনো কাহিনি নয়।এইটা সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই এর প্রচলন শুরু হয়েছিল। ১৯৩০ সালে এই কাজটি করেছিলেন বিশ্বখ্যাত উপহারসামগ্রী ও কার্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হলমার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল। তিনি প্রতিবছর ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন বিষয়টি সামনে আনেন। এদিন কার্ড আদান-প্রদানের মাধ্যমে বন্ধু দিবস পালন করার চলন শুরু হয়। কিন্তু তাঁর সে প্রচেষ্টা অতটা সফল হয়নি। ১৯৪০ সাল নাগাদ মানুষ বুঝতে পারে, এটা কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নয়, বরং হলমার্কের কার্ড ব্যবসা বাড়ানোর ফন্দি। এরপর থেকে বন্ধু দিবস উদযাপন একরকম বন্ধই হয়ে যায়। এরপরে জয়েস হলের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে হালে পানি না পেলেও ইউরোপ-এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একসময় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বন্ধু দিবস উদযাপনের রেওয়াজ।

তবে এই দিবস উদযাপনের ব্যাপারটিতে মোড় ঘুরিয়ে দেন প্যারাগুয়ের চিকিৎসক র্যামন আর্থেমিও ব্রেচ। তিনি ১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। এরপরই বিশ্বব্যাপী ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বন্ধুত্ব, ঐক্য ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে গঠন করা হয় ‘বন্ধুত্ব ক্রুসেড’। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ৩০ জুলাইকে বন্ধু দিবস ঘোষণা করেন। জাতিসংঘ জুলাইয়ের ৩০ তারিখ বন্ধু দিবস পালন করলেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস হিসেবে পালিত হয়।

 

লেখক: সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র
পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here