ইসির সংলাপ শুরু সোমবার, পর্যাপ্ত সময় পাবেন আমন্ত্রিতরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বহুল প্রত্যাশিত সংলাপ সোমবার (৩০ জুলাই) শুরু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপের শুরুর দিনে দেশের সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপে বসছে। এদিন সকাল পৌনে ১১টায় নির্বাচন কমিশন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপের জন্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে বলে দেশের সব ধরনের নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সংলাপে কমিশন প্রণীত নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ উপস্থাপন করে এ বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পর্যবেক্ষক, নারী নেত্রীসহ প্রধান অংশীজনদের অভিমত নেওয়া হবে। তাদের পরামর্শ ও অভিমতের ওপর ভিত্তি করে কমিশন তার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপের আলোকেই সংলাপের এজেন্ডা বা কার্যপত্র তৈরি করা হয়েছে।

সংলাপে নির্বাচনি আইন ও বিধিমালা সংশোধন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ আইন যুগোপযোগী করা, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নে পরামর্শ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রম যুগোপযোগী করার বিষয়ে পরামর্শ, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তাবনাসহ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে অভিমত গ্রহণ সংলাপের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য সুশীল সমাজের ৫৯জন প্রতিনিধিকে ইসির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সংলাপের বিষয়ে ইসি সচিবালয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইসি কমিশন একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। সোমবার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। এটা ধারাবাহিকভাবে আরও কিছুদিন চলবে। দেশে যারা নারী নেতৃত্ব আছেন, সাংবাদিক আছেন, তারাসহ অন্যদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।’

এদিকে ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও সমালোচনার মুখে সংলাপের সময় বাড়ানো হয়েছে। পূর্ব-নির্ধারিত সময় হিসেবে আমন্ত্রিত সুশীলরা প্রতিজনে গড়ে দুই মিনিট করে সময় পাবেন, এমন একটি হিসাব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে ইসি বিষয়টি উপলব্ধি করে মধ্যাহ্নের বিরতি দিয়ে দুই বেলা সংলাপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রয়োজনে সময় বাড়ানো হবে। আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক চলবে। আগে জোহরের নামাজ পর্যন্ত আলোচনার সিদ্ধান্ত থাকলেও নামাজের বিরতির পরও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনার সময় তো আমরা নির্ধারণ করে দেইনি। সময় বাড়ানোর সুযোগ আছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আসবেন, তারা কথা বলবেন। কিন্তু সময়ের অভাবে কথা বলতে পারবেন না, তা তো হতে পারে না। তাই যতক্ষণ সময় প্রয়োজন, তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ই জুলাই ইসি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে রোডম্যাপ প্রকাশ করে। এই কর্মপরিকল্পনায় সাতটি বড় বিষয়ের ওপর কার্যক্রম নেওয়ার পরিকল্পনা করে। এর মধ্যে বড় একটি বিষয় ছিল সংলাপ। ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের মাধ্যমে এই সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে। সুশীল সমাজের ৫৯ জনের তালিকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক সচিব, সাবেক রাষ্ট্রদূত, বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা রয়েছেন। সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপের পর ইসি ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলসহ অন্যদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে।

গত ৬ই ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রিপোর্ট বাংলা ট্রিবিউনের।