লংগদুতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর বানিয়ে দেবে সরকার

রাঙামাটির লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুইশ ১২টি পরিবারকে থাকার ঘর বানিয়ে দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ-২ প্রকল্প থেকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)। চিঠিতে জরুরিভিত্তিতে প্রাক্কলন ও নকশা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন লংগদুর ইউএনও মোসাদ্দেক মেহ্দী ইমাম।

ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যুগ্ম-সচিব ও আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের পরিচালক আবুল কালাম শামসুদ্দিনের সই করা চিঠি ইস্যু করা হয়। সেই চিঠি সোমবার (২৪ জুলাই) পেয়েছেন লংগদুর ইউএনও।
ইউএনও মোসাদ্দেক মেহ্দী ইমাম বলেন, ‘সোমবার (২৪ জুলাই) আশ্রায়ণ-২ প্রকল্প থেকে পাঠানো চিঠিটি পেয়েছি। চিঠিতে চার লাখ ৭২ হাজার টাকার প্রাক্কলিত খরচে বসতঘরের নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করেছি। যত দ্রুতসম্ভব কাজ শেষ করে আমরা তা পাঠিয়ে দেবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার তিন কক্ষের একটি সেমিপাকা ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি শৌচাগার পাবে।’

ইউএনও জানান, চিঠিতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের (সংশোধিত) ডিপিপি অনুযায়ী প্রতিটি ঘরের প্রাক্কলিত খরচ আইটি ভ্যাটসহ পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আইটি ভ্যাট (১০ শতাংশ) বাদে প্রতিটি ঘরের প্রাক্কলিত খরচ প্রায় চার লাখ ৭২ হাজার টাকা।

এদিকে, সরকারিভাবে লংগদুর ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর তৈরি করে দেওয়ার জন্য পাঠানো চিঠির কথা জানাজানি হলে খুশি হওয়ার বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয় এ বিষয়ে। তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কোনও কোনও পরিবারে সদস্য তিন জন, কোনও কোনও পরিবারের ক্ষেত্রে তা আট জনও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য থাকার ঘর বানিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের সংখ্যাকে বিবেচনায় না নেওয়ার কারণেই ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
লংগদু তিনটিলা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অরুণ টন চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বাড়িতে মোট ঘর ছিল পাঁচটি। এখন সরকার তিনটি ঘর বানিয়ে দিলে তো আমি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবো না। আমার মতো আরও অনেকেই আছেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমাদের আগের বসতবাড়ির মতো করেই যেন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়।’

লংগদু সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র আদুও কথা বললেন স্থানীয়দের পক্ষ নিয়েই। তিনি বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের বরাদ্দ আমাদের চাহিদার কাছাকাছিও হয়নি। গ্রামের অনেকের বাড়িতে ২০-২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হোক।’

প্রসঙ্গত, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের চার মাইল (কৃষি গবেষণা এলাকা সংলগ্ন) নামক স্থান থেকে গত ১ জুন যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই মরদেহ খাগড়াছড়ি থেকে লংগদুর বাইট্টাপাড়ার নিজ বাড়িতে নেওয়া হলে স্থানীয়রা একটি মিছিল নিয়ে লংগদু উপজেলা সদরে যায়। পথে মিছিল থেকে লংগদুর চারটি গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।

রিপোর্ট বাংলা ট্রিবিউনের।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here