“টাকা দিলে কি ঘর ভেঙ্গে দিতাম” – রাজারকুল বিট কর্মকর্তা টগর: রামুতে চাঁদা না পেয়ে গুলিবর্ষণ করে ঘর ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ

আমাদের রামু রিপোর্ট:

রামুতে রাজারকুল বিট কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান টগর ইসলাম টগরের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে ঘর ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহষ্পতিবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে রামু রাজারকুলের বিজিবি হেডকোয়ার্টার সংলগ্ন নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় স্থানীয় আবছার আহমদের ঘর গুড়িয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে ভুক্তভোগী আবছার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রামু বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগসূত্রে এবং ভুক্তভোগী আবছার আহমদ জানান, তিনি ভূমিহীন। তার দীর্ঘদিনের দখলীয় বসতভিটা সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড়ের মোরার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ঘরটি পূননির্মাণ করতে গেলে বাঁধ সাধে রাজারকুর বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম টগর। বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ করার হুমকি দিয়ে বিট কর্মকর্তা টগর তার বনপ্রহরী মহিউদ্দিনকে পাঠিয়ে দফায় দফায় কাছ থেকে মোট বিশ হাজার টাকা নেন। ঘর অর্ধেক তোলার পর তিনি আরো ত্রিশ হাজার টাকা দাবী করেন। টাকা দিতে না পারায় রেঞ্জার মহিউদ্দিনসহ বন বিভাগের প্রায় ১৫-১৬ জনের দল সরকারী অস্ত্রশস্ত্র সহকারে হানা দিয়ে আবছার উদ্দিনের ঘর গুড়িয়ে দেয়। এতে বাধা দিলে আবছার আহমদসহ তার পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করে রেঞ্জার মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য বনকর্মীরা। তাদের বাঁচাতে এলাকার প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে বনপ্রহরী মহিউদ্দিনফাঁকা গুলিবর্ষন করে বলে জানান এলাকাবাসী।

যোগাযোগ করা হলে বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম টগর, টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান “টাকা দিলে কি ভাই ঘর ভেঙে দিতাম”।

সেখানে আরো প্রায় ৫০০টির মত বসতবাড়ি থাকলেও শুধুমাত্র একটি ঘরই কেন উচ্ছেদ করা হলো শুধালে তিনি এড়িয়ে যান।

উচ্ছেদে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতি নিয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে কোন ধরণের সদুত্তর দিতে পারেন নি তিনি। গুলিবর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

রামু সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নিকারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের রামু ডটকমকে জানান, বিট কর্মকর্তা ফোনে একটি বন বিভাগের জায়গা উচ্ছেদ করতে চান বলে জানালে আমি তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে আগানোর পরামর্শ দিয়েছি। তাৎক্ষণিক কোন ধরণের উচ্ছেদ বা গুলিবর্ষণের বিষয়ে কোন ধরণের অনুমতি তিনি দেননি বলেও জানান সহকারী কমিশনার।

কক্সবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির হাইদার আমাদের রামু ডটকমকে জানান, গুলিবর্ষণের বিষয়টি তিনি জানেন না। নিয়মিতভাবে বন বিভাগের জমি উচ্ছেদ করা হয়। তবে স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।