নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে চাপাক্ষোভের জন্ম দিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার
আমাদের রামু ডটকম :
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর পত্র ফাঁসের ঘটনায় আবারো সরেজমিনে তদন্ত করেছে জেলা শিক্ষা অফিসার। ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরীকাম নৈশ প্রহরী মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে গত ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫ইং প্রশ্নোত্তর পত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। এর পর মোস্তফা কামাল বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির নিকট মৌখিক স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি রেজুলেশন করে তার বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রতিবেদন পাঠান।

এদিকে এঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ক্ষোভের মাঝে অনেক অভিভাবক তাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের অন্যত্র ভর্তি করেছেন এমন নজিরও রয়েছে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তফা কামালকে রহস্যজনক ভাবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসে দায়ীত্ব পালনের সুযোগ পায়! প্রশ্নোত্তর পত্র ফাঁস ও ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগও উঠে তার বিরুদ্ধে। এঘটনায় ক্ষুদ্ধ স্থানীয় তুমব্রু ছাত্র সংগঠনের পক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ পত্র প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে গত ৫ জানুয়ারি ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিলে অভিভাবক পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষক গণের সমন্বয়ে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে যথার্থ ভূমিকা রাখেন।
কিন্তু ২৯ মার্চ বান্দরবানের জেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল কাদের নতুন করে তদন্তে এসে ছাত্রী নিপীড়নের প্রত্যক্ষদর্শী ৩ জন ছাত্রী সাক্ষীদের প্রখর রোদে প্রকাশ্যে দাড় করিয়ে শত শত ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটির কর্তা ব্যক্তি ও শিক্ষকগণের সামনে সাক্ষ্য নিয়েছেন নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এতে নতুন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযুক্ত ব্যক্তির শত্রুতামীতে রূপ নেয়ার অভিযোগ এনেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

একবার নিপীড়নের ঘটনায় আবার নতুন করে তদন্তের নামে শত শত মানুষের সামনে সাক্ষ্য গ্রহণের নামে ছাত্রীদের চরিত্র হনন ও পারিবারিক মান মর্যাদা ভবিষ্যতের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ করালেন।
এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা, ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখার বিষয়ে ছাত্র ছাত্রী ও অভিভাবকরা প্রবল সন্ধিহান। এতে ঘটনায় সুস্পষ্ট চাপাক্ষোভের জন্ম দিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার। পূর্বেও নানা বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ললাটে তুলেছিল অভিযুক্ত ব্যক্তি।

এঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রশ্নবিদ্ধ তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে পরোক্ষ একহাত নিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমন অভিযোগ সচেতন অভিভাবক মহলের।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, নিপীড়নের সাক্ষী ছাত্রীদের প্রকাশ্যে সাক্ষ্যর নামে চরিত্রহনন মানবিকতার লংঘন। যা সভ্য সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং অনেক অভিভাবক আমাকে পারিবারিক বিষয়ে ভবিষ্যতের কথাও জানান। আমি স্কুল ও এলাকার মঙ্গল চাই। তবে নিরীহ অভিভাবকদের আক্ষেপ অপরাধীর শাস্তি হউক বা না হউক এলাকায় থাকাও দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কারণ মোস্তাফারা এলাকায় প্রভাবশালী। কেন তাদের সাথে বিরোধে জড়াইয়ে দিয়ে গেলেন জেলা শিক্ষা অফিসার। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহির আহমেদ বলেন, এগুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বিষয়।

অভিযুক্ত মোস্তাফা কামালের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিলকে তাল বানানো ছাড়া কিছুই নয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল কাদের এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।