উখিয়ায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ঝরে পড়তে পারে

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া।
উখিয়ার প্রত্যন্ত জনপদে প্রতিষ্ঠিত রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত ৫ শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী অকালে ঝরে পড়ার আশংখা করা হচ্ছে। শিক্ষক শূন্যতার কারণে এসব শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা।

মঙ্গল দুপুর ১২ টার দিকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ছেনুয়ারা বেগম ওই স্কুল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিমের সাথে আলাপ করে শিক্ষক বদলী আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে মর্মে আশ্বস্থ করলেও অভিভাবক ছাত্র/ছাত্রী তথা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের মাঝে সৃষ্ট হতাশা কাটেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মাষ্টার আবদুর রহিম অভিযোগ করে জানান, অধিকাংশ গরীব পরিবার অধ্যুষিত বিশাল এলাকা নিয়ে এ স্কুলটির অবস্থান হওয়ার সুবাদে নিয়মিত প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী এ স্কুলে পড়ালেখা করছে। তিনি আরো বলেন, এ স্কুলে ৮ জনের পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক সহ ৩ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলে আসছে। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের অপর ২ জন মহিলা সহকারী শিক্ষিকা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা দেখিয়ে বদলী হয়ে যাওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

বিধি বহির্ভূত ভাবে শিক্ষক বদলী নিয়ে এলাকায় সভা, সমাবেশ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হলেও কে শুনে কার কথা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার আবদুল হাকিম জানান, সরকারি ও স্কুলের নানা কাজে বেশির ভাগ সময় শিক্ষা অফিসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর পক্ষে পাঠদান করা সম্ভব হয়না। এমতাবস্থায় ২ শিক্ষককে বদলী করা হলে স্কুলটি অচল অবস্থার সৃষ্টি হবে। স্কুলে পড়ালেখা না হলে ছাত্র/ছাত্রীরা ঝরে পড়ার আশংখা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈন উদ্দিন আমাদের রামু কে জানান, তিনি ও শিক্ষা অফিসার শামীম ভূঁইয়া বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি অবগত হয়েছেন। যা প্রতিবেদন আকারে শিক্ষা কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম সিদ্দিকুর রহমান আমাদের রামু কে জানান, ডেইল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন বদলী সংক্রান্ত আবেদন তার অফিসে আসেনি। তিনি আশ্বস্থ করে বলেন বদলীর আবেদন আসলেও গ্রহণযোগ্য হবেনা। যেহেতু সেখানে প্রচুর শিক্ষক সংকট রয়েছে।