সর্বশেষ সংবাদঃ

পুলিশকে হতে হবে জনবান্ধব: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আরও জনবান্ধব হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “আপনারা স্বাধীন বাংলাদেশের পুলিশ। জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব অপরিসীম। নিজেদেরকে আপনাদের জনবান্ধব হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।”

প্রতিটি পুলিশ সদস্য অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনের প্যারেড মাঠে এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাহসীকতা ও সেবামূলক কাজের জন্য ১৮২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন।

২০১৭ সালে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ৩০ জন বিপিএম এবং ৭১ জন পিপিএম পেয়েছেন।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে ‘প্রশংসনীয়’ অবদানের জন্য ২৮ জন পেয়েছেন বিপিএম সেবা পদক; ৫৩ জন পেয়েছেন পিপিএম সেবা পদক।

তাদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

“আপনাদের মনে রাখতে হবে, সফলতার জন্য আপনারা যেমন পুরস্কৃত হবেন, তেমনি প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ সদর দপ্তরের ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ এ বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এবার ১৮২ জনের পদক পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে বলেন, এতো বিপুল সংখ্যক পুলিশ পদক অতীতে আর কোনো বছর দেওয়া হয়নি।

“যেহেতু এবার আপনারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে স্ব স্ব স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিশেষ করে জঙ্গি দমনে; সে কারণেই আজকে আমরা এই পদক প্রদান করেছি।”

এই পদকপ্রাপ্তি পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আপনারা স্ব স্ব স্থানে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন; যেন প্রতিবারই আরও অধিক সংখ্যক পদক প্রদান করতে পারি।”

শেখ হাসিনা পুলিশকে দেশের ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক’ হিসাবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দেশের সব সঙ্কটে পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের আন্তরিকতা, কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদকে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ হিসাবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নেই। সান্ত্রাসী সন্ত্রাসীই।

“ইসলাম শান্তির ধর্ম। সেখানে মানুষ হত্যা করে বেহেশতে যাওয়া যাবে- এই ধরনের বিভ্রান্তি যারা পোষণ করে, তারা কখনোই বেহেশতে যাবে না। অযথা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের পবিত্র ধর্মকে অনেকেই কলুষিত করছে।”

দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এদেশের মাটিতে জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের স্থান হবে না। আমরা চাই, বাংলাদেশ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত হবে, শান্তির দেশ হবে। কাজেই বাংলার মাটি থেকে আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেশের প্রতিটি মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।”

আর পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনসম্পৃক্ততা থাকলেই সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের মোকাবেলা করা তাদের জন্য সহজ হবে।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট’ গঠন করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি, নবগঠিত এন্টি টেরোরিজম ইউনিট জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।”

পুলিশের অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্ভিস ও মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দমন এবং অপরাধী সনাক্তকরণে ক্রাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিসেস্টম এবং সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের মত নতুন নতুন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

সরকারপ্রধান পুলিশের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ চালুর প্রশংসা করেন এবং ট্রান্সন্যাশনাল অ্যান্ড অর্গানাইজড ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম এবং সমসাময়িক অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও পুলিশ সদস্যদের আরও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের কথা বলেন।

স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসাবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দ অর্থকে আমরা ব্যয় মনে করি না, বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। কাজেই আমরা বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা বর্তমান মেয়াদেও পূর্ণমাত্রায় অব্যাহত রেখেছি।”

বেতন বৃদ্ধিসহ পুলিশের উন্নয়নে গত নয় বছরে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার পরে ‘ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড’ দমনে পুলিশের দক্ষতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গণতন্ত্রবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, জনবিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপি-জামায়াত-শিবির ও তাদের সহচররা হরতাল ও অবরোধের নামে নৈরাজ্য ও ধ্বংসাত্মক-নাশকতামূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছিল।

“২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে আমরা দেখেছি তাদের সেই ধ্বংসযজ্ঞের রূপ। তাদের সহিংসতা, নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও, নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা এবং আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার ওপর আক্রমণ। আমি মনে করি, আমাদের পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সেই অবস্থার মোকাবেলা করেছিল।”

প্রধানমন্ত্রী সকালে রাজারবাগে পৌঁছে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধান ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বিডিনিউজ।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares